fgh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ: খাতুনগঞ্জে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ২, ২০২৬ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ । ৩ জন

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের আমদানিনির্ভর বাজারে স্পষ্ট প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়ছে ভোজ্যতেল, চিনি, মসলা, খাওয়ার সোডা, সাগুদানাসহ অধিকাংশ আমদানি করা পণ্যের দামে। সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা মসলাজাত পণ্যে।

চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান ও ঈদকে ঘিরে পণ্য মজুত থাকায় রমজানের সময় বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি। তবে ঈদের পর যুদ্ধের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ইরান থেকে দুবাই হয়ে আসা মসলা আমদানিতে বাধা পড়ায় মসলাজাত পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে।খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, গত এক সপ্তাহে ভোজ্যতেল ও চিনির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বর্তমানে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ (৪০.৯০ লিটার) সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ৪০০ টাকা দামে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৬ হাজার ৬০০ টাকা।

একই সময়ে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে মণে ৪৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ৬ হাজার টাকা দামে, যা বর্তমানে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায় উঠেছে। পাম সুপার অয়েলের দামও একই সময়ে ৬ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬ হাজার ৭২০ টাকা। অন্যদিকে চিনির দামও ঊর্ধ্বমুখী। এক সপ্তাহ আগে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ৪২০ টাকা দামে। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ টাকা।

দেশের অন্যতম ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপের ডিজিএম তাসলিম শাহরিয়ার বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পণ্যের দাম বাড়ছে। জ্বালানি সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য আমদানির খরচ, বিশেষ করে জাহাজভাড়া বেড়েছে। এর কিছুটা প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়ছে।

যুদ্ধের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে মসলাজাত পণ্যে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরান ও আরব অঞ্চল থেকে আসা কিছু পণ্যের দাম অল্প সময়ের মধ্যে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি পেস্তাবাদাম বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ১০০ টাকায়। রমজানের শেষ সময়েও এর দাম ছিল ৩ হাজার ১০০ টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১ হাজার টাকা বেড়েছে। টক আলু বোখারার দামও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি ৫০০ টাকা দামে বিক্রি হলেও এখন তা ১ হাজার ৩২০ টাকায় উঠেছে। একই সময়ে মিষ্টি আলু বোখারা ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কিশমিশের দাম কেজিতে ২০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৮২০ টাকায় উঠেছে। যুদ্ধের আগে ইরানি জিরা ৬২০ টাকার নিচে বিক্রি হলেও এখন তা ৭২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কা থেকে আমদানি হওয়া জায়ফল ও জয়ত্রির দামও বেড়েছে। জায়ফল এক সপ্তাহ আগে ৫৭০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন ৭২০ টাকা, আর জয়ত্রি ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকা।

শুধু মসলা নয়, বেড়েছে খাওয়ার সোডা ও সাগুদানার দামও। ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, দুই সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি খাওয়ার সোডা ৪২ টাকা দামে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৫০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে সাগুদানা ৮১ টাকা থেকে বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৯৭ টাকা ৫০ পয়সা দামে।

মসলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ট্রেড এভরিডের স্বত্বাধিকারী রিদুয়ান রুমি বলেন, ইরানসহ আরব দেশ থেকে আসা পণ্যের আমদানি কমে যাওয়ায় দাম ইতিমধ্যে অনেক বেড়েছে। খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক যোগ করেন, এখনো বড় ধরনের কোনো পণ্যের সংকট নেই। তবে আমদানি ব্যাহত হওয়া, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়া এবং যুদ্ধের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।