একদিন আগে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ক্রীড়াঙ্গনের খবর জানতে চেয়েছিলেন নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। গতকাল ডেকে ছিলেন ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে। ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে ৫১টি সংস্থা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ টাওয়ারের কনফারেন্স হলে তিলধারণের জায়গা নেই। এতো ফেডারেশন দেখে প্রথমে কিছু বুঝে উঠতে পারেননি আমিনুল। যখন পরিচয়পর্ব শুরু হলো নাম শুনতে শুনতে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের মাথায় হাত, চোখ কপালে।বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ থ্রোবল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ বাশাআপ অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ব্যুত্থান অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইয়োগা অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ চুকবল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কিকবক্সিং অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কান্ট্রি গেমস অ্যাসোসিয়েশন-এমন সংখ্যা আরো আছে। যেসব নাম শোনেননি দেশের জনগণ। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক চাইছেন এটাকে কমিয়ে আনতে। প্রায় একই রকম খেলা। কিন্তু দুই ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশন। এগুলোকে একটা ছাতার নিচে আনতে চান। যেসব খেলার ধরন কাছাকাছি সেই খেলাগুলোকে নিয়ে একটা সংস্থা গঠন করার কথা জানিয়েছেন তিনি।ফেডারেশনগুলো তাদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। ফেডারেশনগুলোর কার্যক্রম কী? তা জানতে চেয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। ফেডারেশনগুলো কীভাবে চলতে চায় তারা কীভাবে কাজ করতে চায় তা জানতে পরিকল্পনা দিতে হবে।ফুটবল, ক্রিকেট, শুটিংয়ের বাইরে ফেডারেশনগুলোর বক্তব্য শুনে বুঝতে পারছেন সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থ। ফেডারেশনগুলোকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রয়োজন অর্থ। অর্থের সংকুলান কীভাবে করা যায় তা নিয়ে আমিনুল কথা বলে জানিয়েছেন, তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চান। বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সহযোগিতা চান। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সামাজিক দায়বদ্ধতা পূরণে একটি ফান্ড রয়েছে। যেখান থেকে সমাজের উন্নয়নে সহযোগিতা করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। সেসব প্রতিষ্ঠানকে খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে কথা বলবে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
আরও একটি উদ্যোগ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন আমিনুল হক। বাংলাদেশে ক্রীড়া সামগ্রী আমাদনি নীতিতে কর দেওয়ার বিষয়টি করমুক্ত করার জন্য উদ্যোগ নেবেন তিনি। ‘ক্রীড়া সামগ্রী প্রয়োজন হয় ফেডারেশনের। ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজনে যেসব ক্রীড়া সামগ্রী আমদানি করা হয় সেটি করমুক্ত করার জন্য আমরা কথা বলব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে।’
ফেডারেশন নীতি নির্ধারকদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যারা জাতীয় পর্যায়ে খেলবে তারা বেতন কাঠামোর মধ্যে আসবেন। আমিনুল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তাদেরকে বেতন কাঠামোয় আনতে চাই।’ ঈদের পর বাস্তবায়ন শুরু করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। ‘আমি দেখিনি, শুনেছি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন কুড়ি শুরু করেছিলেন। বিনোদন জগতে তারকা উঠে এসেছিল। আমরা খেলাধুলায় নতুন কুড়ি প্রকল্প প্রবর্তন করতে চাই। ১২-১৪ বছরের বয়সের প্রতিভাবানরা এই প্রকল্পের জন্য বিবেচিত হবেন।’ ঈদের পর নতুন কুড়ি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন আমিনুল।
বিওএর মহাসচিব জোবায়দুর রহমান রানা জানিয়েছেন সরকার থেকে টাকা দেওয়া হয়, সবাই জানেন কতো টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাস্তবের সঙ্গে এর কতটুকু মিল; আমরা অনেকেই খুঁজে দেখি না। সরকার থেকে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে সেখানে ভ্যাট ট্যাক্স কেটে বাকিটা দেয়। তাহলে সত্যিকার অর্থে আমরা কত টাকা পেলাম।’
এছাড়াও বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ। দীর্ঘ তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে ফারুক বলেন, ‘আসলে আমি ক্রিকেট বোর্ডকে প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি। নতুন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছি, উনি একজন খেলোয়াড় মানুষ।’
ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে। এই বিষয়ে ফারুক বলেন, ‘উনি অত্যন্ত চমৎকারভাবে সভা শুরু করেছেন। তার ভিশনটা আমাদের বলেছেন। আমাদের মাঠ দরকার, সেই মাঠগুলোতে উনি সাহায্য করবেন। ক্রীড়া কার্যক্রমে ঢুকাবেন, কারিকুলামে কিছু স্পোর্টস, ক্রীড়া শিক্ষক রয়েছে। যে কয়টা (৫২) ফেডারেশন রয়েছে সবগুলোর সমস্যা, সুবিধা-অসুবিধাগুলো উনি মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। নোট নিয়েছেন, আমি আশা করি, এগুলো নিয়ে কাজ হবে।’ যদিও বৈঠকে মোট ৫২টি ফেডারেশনের কর্তারা ছিলেন। যার কারণে সবকিছু নিয়ে কথা বলতে পারেননি তিনি। আগামীতে ৫-৬টি ফেডারেশনকে নিয়ে আলাদা আলাদা বৈঠকের বিষয়ে মত দিয়েছেন ফারুক। বলেন, ‘আমি আরও বলেছি, আমাদের এই ধরনের মিটিং পাঁচটা-পাঁচটা ফেডারেশন নিয়ে যদি করে তাহলে আমরা আরও বিস্তারিত আলোচনা করতে পারব। যেটা আমাদের সবার জন্য ভালো হবে।’





