fgh
ঢাকারবিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

এলপি গ্যাস সংকটে পরিবহন খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে

নিউজ ডেক্স
জানুয়ারি ১১, ২০২৬ ১:১৫ অপরাহ্ণ । ৮৫ জন

দেশে চলমান এলপি গ্যাস সংকটে পরিবহন খাত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. সিরাজুল মাওলা। আশঙ্কা প্রকাশ করে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলপি গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে যাত্রীসেবা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘এলপিজি সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পরিবহন খাতে’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা।

সিরাজুল মাওলা বলেন, ‘এলপিজি অটোগ্যাস একটি পরিবেশবান্ধব, সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী জ্বালানি, যা সিএনজি, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিকল্প হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিগত সরকারের উৎসাহে সারাদেশের ৬৪ জেলায় প্রায় এক হাজার অটোগ্যাস স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টেশনের ওপর নির্ভর করে প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে তীব্র এলপিজি সংকটের কারণে দেশের প্রায় সব অটোগ্যাস স্টেশন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্টেশন মালিকদের পাশাপাশি এলপিজিচালিত যানবাহনের মালিক ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনে ঘুরেও গ্যাস না পেয়ে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে যাত্রীসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং যাত্রীরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।’

সিরাজুল মাওলা আরও জানান, দেশে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে যানবাহন খাতে ব্যবহৃত হয় মাত্র ১৫ হাজার মেট্রিক টন, যা মোট ব্যবহারের প্রায় ১০ শতাংশ। অথচ এই তুলনামূলক সামান্য পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়ায় পুরো এলপিজি অটোগ্যাসশিল্প আজ ধ্বংসের মুখে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠন যেন যেকোনোভাবে অটোগ্যাস খাতের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। এলপিজি আমদানিতে কোনো জটিলতা থাকলে বিইআরসি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ যেন তা দ্রুত সমাধান করে অপারেটরদের মাধ্যমে অটোগ্যাসের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলপিজি সরবরাহে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সে জন্য আগাম ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সহসভাপতি সাঈদা আক্তার, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসিন পারভেজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল হোসাইন, যুগ্ম অর্থ সম্পাদক মো. মোকবুল হোসেন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ন কবির ভূঁইয়া, মো. মশিউর রহমান প্রমুখ।