fgh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২১ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

ধানের মৌসুমে কৃষকের কান্না সরকার শুনতে পাচ্ছে কী

admin
মে ২১, ২০২৬ ২:১৫ অপরাহ্ণ । ৬ জন

বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা এবং গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। আর কৃষির প্রাণশক্তি হচ্ছেন দেশের কোটি কোটি কৃষক। বাংলাদেশের মোট চাল উৎপাদনের প্রায় ৫৫–৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। ফলে বোরো ধানের উৎপাদনে যেকোনো ধরনের বিপর্যয় দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, বাজারব্যবস্থা এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, দেশে মোট চাল উৎপাদন প্রায় ৪০৬.৯৭ লাখ মেট্রিক টন, যার মধ্যে প্রায় ২১০.৬৮ লাখ মেট্রিক টন আসে বোরো ধান থেকে। বর্তমানে দেশের কৃষিখাতে প্রায় ২ কোটি ৪৬ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত,

এবং জাতীয় জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় ১১.৫২ শতাংশ। ফলে কৃষির সংকট কেবল কৃষকের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়; এটি জাতীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো কৃষক দেশের মানুষের খাদ্য নিশ্চিত করেন, সেই কৃষকই আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। একদিকে ধান ক্রয়ে সরকারি শর্ত ও প্রশাসনিক জটিলতা, অন্যদিকে অসময়ের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা কৃষকের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাজার নিয়ন্ত্রণকারী অসাধু ব্যবসায়ী, মজুতদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য, যারা কৃষকের ক্ষতির মধ্যেও বিপুল মুনাফা অর্জন করছে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃষকের এই সংকট শুধু কৃষি খাতের সমস্যা নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং টেকসই উন্নয়নের জন্যও গভীর উদ্বেগের বিষয়। তাই এখনই সময় বাস্তবভিত্তিক, বিজ্ঞানসম্মত ও কৃষকবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণের।

অসময়ের অতিবৃষ্টি ও কৃষকের অসহায়ত্ব
বাংলাদেশ এখন জলবায়ু পরিবর্তনের বড় শিকার। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে ধান কাটার সময় অসময়ের অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা কৃষকের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে। হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর দেখা যায়, পাকা ধান পানিতে ডুবে যাচ্ছে। কৃষক ঋণ করে, জমি বন্ধক রেখে যে ফসল ফলান, মুহূর্তেই তা নষ্ট হয়ে যায়। এতে কৃষক শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েন না, মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন।

দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, দুর্যোগের সময় সরকারের পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রেই ধীর ও অপর্যাপ্ত থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি, ক্ষতিপূরণ বিতরণ কিংবা জরুরি সহায়তায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা যায়। অনেক প্রকৃত কৃষক সহায়তা পান না, আবার রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা সুবিধা নিয়ে যান।বাংলাদেশের হাওরাঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধান উৎপাদন এলাকা।

বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের বিশাল হাওর এলাকায় বছরে মূলত একটি মাত্র ফসল বোরো ধান চাষ করা হয়। অর্থাৎ এই অঞ্চলের কৃষকের পুরো বছরের আয় নির্ভর করে এক মৌসুমের ফসলের ওপর। ফলে একবার ফসল নষ্ট হলে কৃষকের পুরো বছরের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়ে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুধু সুনামগঞ্জ জেলাতেই প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়, যার বড় অংশই হাওরাঞ্চল। সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সরকারি হিসাবেই ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যদিও স্থানীয়দের দাবি প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি। ২০২৬ সালে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের হাওর এলাকায় অন্তত ১০ হাজার হেক্টরের বেশি বোরো জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায়  ৫০০ কোটি টাকার উপরে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এছাড়া সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের আরো কয়েকটি জেলায় প্রায়  ১ লাখ ৩১ হাজার হেক্টর কৃষিজমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২,৮২২ কোটি টাকা। হাওর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এখানে অধিকাংশ জমিই এক ফসলী। বছরের বাকি সময় জমি পানির নিচে থাকে। ফলে কৃষক বোরো ধান ছাড়া বিকল্প আয়ের সুযোগ খুব কম পান। এ কারণে একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগই কৃষকের পুরো অর্থনৈতিক ভিত্তি ধ্বংস করে দিতে পারে।

কেন হাওর অঞ্চলে বারবার এই বিপর্যয় ঘটে
১. উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল দ্রুত হাওরে প্রবেশ করে।
২. অনেক ফসল রক্ষা বাঁধ দুর্বল ও অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়।
৩. খাল ও জলাধার ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়।
৪. জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের ধরন অস্বাভাবিক হয়ে উঠছে।
৫. ধান কাটার সময় শ্রমিক সংকট ও যান্ত্রিক সুবিধার অভাব থাকে।সরকারি ধান ক্রয় নীতির জটিলতা ও কৃষকের ভোগান্তি
প্রতি বছর সরকার কৃষকের কাছ থেকে ধান ও চাল কেনার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে অধিকাংশ কৃষক সেই সুবিধা পান না। বাংলাদেশে ১ মণ (প্রায় ৪০ কেজি) ধানের উৎপাদন খরচ এলাকা, মৌসুম, সেচ, শ্রমিক মজুরি ও সার–বীজের দামের ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হয়। তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী একটি বাস্তবসম্মত হিসাব হলো বোরো ধানের ক্ষেত্রে প্রতি মণ উৎপাদন খরচ প্রায় ৮০০–১১০০ টাকা পর্যন্ত পড়ে।কিছু এলাকায় কম ফলন বা বেশি সেচ খরচ হলে এটি ১২০০ টাকার কাছাকাছিও যেতে পারে।

অন্যদিকে বাজারে কৃষক সাধারণত ধান বিক্রি করেন মৌসুমে পাইকার বা ফড়িয়ার কাছে: প্রতি মণ ১১০০–১৪০০ টাকা ভালো বাজার বা দেরিতে বিক্রি করতে পারলে: ১৪০০–১৫০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়  সরকারি গুদামে ধান বিক্রির জন্য নানা ধরনের শর্ত পূরণ করতে হয়, জাতীয় পরিচয়পত্র, কৃষি কার্ড, ব্যাংক হিসাব, নির্দিষ্ট আর্দ্রতার মাত্রা, অনলাইন নিবন্ধন ইত্যাদি।

গ্রামের সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এসব প্রক্রিয়া অনেক সময় জটিল হয়ে দাঁড়ায়।অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকৃত কৃষকের বদলে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, মিল মালিক বা দালালচক্র সরকারি ক্রয়ের সুযোগ দখল করে নেয়। কৃষক দিনের পর দিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ধান বিক্রি করতে পারেন না।

কখনও ধানের মান খারাপ দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, কখনও আবার “তালিকা পূর্ণ” বলে অজুহাত দেওয়া হয়।এ অবস্থায় কৃষক বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় আড়তদার বা ব্যবসায়ীর কাছে ধান বিক্রি করেন। ফলে সরকার ঘোষিত মূল্য কাগজে থাকলেও বাস্তবে কৃষক সেই সুবিধা থেকে

বঞ্চিত হন।

অসাধু ব্যবসায়ী ও বাজার সিন্ডিকেট
বাংলাদেশের ধান ও চাল বাজারে অসাধু ব্যবসায়ী ও বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাব দীর্ঘদিনের একটি বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা। দেশে উৎপাদিত মোট খাদ্যশস্যের মধ্যে ধানই প্রধান, এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে প্রায় ৩.৮–৪.০ কোটি টন ধান উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫৫–৬০ শতাংশ আসে বোরো মৌসুম থেকে। কিন্তু এত বিপুল উৎপাদনের পরও কৃষক ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।

ফসল কাটার মৌসুমে বাজারে ধানের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে যায়। এ সময় মধ্যস্বত্বভোগী, আড়তদার ও চাল ব্যবসায়ীদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে গুদামজাত করে রাখে। উদাহরণস্বরূপ, অনেক অঞ্চলে কৃষক যেখানে প্রতি মণ ধান ৯০০–১,১০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হন, কয়েক মাস পর সেই ধান থেকেই উৎপাদিত চাল বাজারে ৭০–৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।

অর্থাৎ উৎপাদনকারী কৃষক লাভ না পেলেও বাজার নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী কয়েকগুণ মুনাফা অর্জন করে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) ও বিভিন্ন কৃষি অর্থনীতিবিদের গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের নিজস্ব পর্যাপ্ত গুদাম বা সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেই।

ফলে ধান কাটার পরপরই কৃষকদের কৃষি ঋণ, শ্রমিকের মজুরি, সার-বীজের বকেয়া এবং সংসারের খরচ মেটাতে দ্রুত ধান বিক্রি করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচই উঠে আসে না। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে বোরো ধানের উৎপাদন খরচ প্রায় ৮০০–১,১০০ টাকা প্রতি মণ পর্যন্ত পৌঁছায়, কিন্তু বাজারে দাম কম থাকলে কৃষক লোকসানের মুখে পড়েন।অন্যদিকে চালের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ প্রায়ই ওঠে।

বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু বড় মিল মালিক ও ব্যবসায়ী মজুতদারির মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার কয়েক দফায় ৯–১০ শতাংশের ওপরে ছিল, যার বড় একটি কারণ ছিল চালের উচ্চমূল্য। ফলে কৃষক যেমন ন্যায্যমূল্য পান না, তেমনি সাধারণ ভোক্তাকেও চড়া দামে চাল কিনতে হয়।এখানে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরকারি তদারকির সীমাবদ্ধতা।

সরকার প্রতি বছর ধান ও চাল সংগ্রহ কর্মসূচি ঘোষণা করলেও বাস্তবে মোট উৎপাদনের তুলনায় সরকারি ক্রয়ের পরিমাণ খুবই কম। অনেক বছরেই সরকারি ক্রয় মোট উৎপাদনের ৫–৭ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলে অধিকাংশ কৃষক বাধ্য হয়ে খোলা বাজারেই ধান বিক্রি করেন, যেখানে দাম নিয়ন্ত্রণ করে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি সরকারি ধান ক্রয় বৃদ্ধি, ইউনিয়ন পর্যায়ে আধুনিক গুদাম নির্মাণ, কৃষকদের সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান এবং বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি ডিজিটাল কৃষি বাজার, কৃষক সমবায় এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমবে।

এতে একদিকে কৃষক তার উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাও সহনীয় দামে চাল কিনতে পারবেন।উত্তরণের পথ
১. কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় নিশ্চিত করতে হবে
সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ নিতে না পারে। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। চাল ও ধানের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালাতে হবে।

অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফার বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
হাওর ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় টেকসই বাঁধ, স্লুইস গেট, খাল পুনঃখনন ও পানি নিষ্কাশনের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শুধু প্রকল্প ঘোষণা নয়, দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি।
৩. কৃষি বীমা ও জরুরি সহায়তা চালু
ফসল নষ্ট হলে কৃষক যেন সম্পূর্ণ নিঃস্ব না হন, সেজন্য কার্যকর কৃষি বীমা চালু করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও সহজ শর্তে ঋণ দিতে হবে।
৪.ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে
উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধানের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। কৃষকের লাভ নিশ্চিত না হলে কৃষি খাত টেকসই হবে না।
৫.আবহাওয়া পূর্বাভাস ও প্রযুক্তির ব্যবহার

কৃষকদের দ্রুত আবহাওয়ার তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি, দ্রুত ফসল কাটার যন্ত্র এবং সংরক্ষণব্যবস্থা বাড়াতে হবে।

উপসংহার
বাংলাদেশের কৃষক আজ বহুমুখী সংকটের মধ্যে বেঁচে আছেন। একদিকে প্রকৃতির নির্মমতা, অন্যদিকে সরকারি দুর্বলতা ও বাজার সিন্ডিকেটের শোষণ তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অসাধু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ঠিকই লাভবান হচ্ছে।

কৃষককে বাঁচাতে হলে শুধু বক্তৃতা বা আশ্বাস নয়, প্রয়োজন কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ। কৃষকের ন্যায্যমূল্য, দুর্যোগ সুরক্ষা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে দেশের খাদ্যনিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে। তাই এখনই সময় কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষিকে টিকিয়ে রাখার।
পরিশেষে বলা যায়,“কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষি টিকলে টিকবে বাংলাদেশ।”

গোলাম মর্তুজা সেলিম: যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও কৃষি সম্পাদক, জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি
গবেষণা ফেলো, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স অ্যান্ড সিভিলাইজেশনাল স্টাডিজ (সিজিসিএস)
kbd.salim.ncp@gmail.com