ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

মন্ত্রীর বাসার মাসে বিদ্যুৎ বিল ৩৭ টাকা,পরিবারের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ৯ লাখ

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৩ ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ । ১০৬ জন

সমাজ কল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের গ্রামের বাড়িতে বিদ্যুৎ বিলে ভয়াবহ অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রায় ৯ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছেন মন্ত্রীর পরিবার। মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসছে অবিশ্বাস্য পরিমাণ। কালীগঞ্জে মন্ত্রীর ব্যবহার করা মিটারে মাসিক বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয় মাত্র ৩৭ টাকা। এতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, তার ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ ও ছোট ভাই শামসুজ্জামান আহমেদ ভুট্টুর ব্যবহৃত ৬টি কনজ্যুমার আইডিতে বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে ৮ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮০ টাকা। তবে এসব বকেয়া বিলের খবর পরিবারের কেউই জানেন না বলে দাবি করেছেন মন্ত্রীর পরিবার।

 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের বাড়িতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল ২০২০ সালের দেখানো হয়েছে মাত্র ৩২ টাকা।  নেসকো’র হিসাবের তালিকায় দেখা গেছে এপ্রিল থেকে জুলাই চার মাস ধরে প্রতিমাসে ৩৭ টাকা করে বিল প্রস্তুত করেছে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই  কোম্পানি (নেসকো)। এদিকে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল  দেখানো হয়েছে মাত্র ৩২ টাকা। এছাড়া কোনো মাসে ৭২ টাকা আবার কোনো মাসে ৫২ টাকা, ৬৫ টাকা, ১১১ টাকা বিল  দেখানো হয়েছে। সর্বোচ্চ একটি বিলে ২৪০৮ টাকা দেখানো হয়েছে।

যা ২০২২ সালের আগস্ট মাসে। প্রায় চার বছরে বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে ১১ হাজার ৬২০ টাকা। তবে এসব বিদ্যুৎ বিল এখনো বকেয়া রয়েছে।
নেসকো থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, মন্ত্রীর নামে একটি সেচ কানেকশন রয়েছে। যেখানে প্রায় চার বছরে বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে মাত্র ৬১ হাজার ৩৪৪ টাকা। এ বিলটিও এখনো বকেয়া রয়েছে। চলতি বছর ফেব্রুয়ারি  থেকে মে মাস পর্যন্ত গড়ে প্রতিমাসে সাড়ে ৯ হাজার টাকার বিল দেখানো হলেও জুন ও জুলাই মাসে শূন্য বিল দেখানো হয়েছে। ২০২২ সালের মার্চ মাসে ১৭ হাজার ২৩৬ টাকা বিল দেখানো হলেও জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে শূন্য বিল দেখা হয়েছে। এ বছর এপ্রিল মাস বিল দেখানো হয়েছে ৮০৪ টাকা এবং মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিমাসে বিল  দেখানো হয়েছে ১৮০ টাকা।

 

মন্ত্রীর ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ একজন কলেজ শিক্ষক ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি  নেসকোর একজন আবাসিক গ্রাহক। তার বাড়িতে ব্যবহৃত মাসিক বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে ৭২ টাকা, ১১১ টাকা, ১৫১ টাকা, ১৮৯ টাকা, ২২৯ টাকা ও ৫১২ টাকা। শুধু চলতি বছর জুলাই মাসে সর্বোচ্চ বিল ১৩,৫৬১ টাকা প্রস্তুত করা হয়েছে। গেল প্রায় চার বছরে বিল দেখানো হয়েছে ৭৯ হাজার ৯৯৫ টাকা। এসব বিল এখনো বকেয়া রয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মন্ত্রীর ছেলে রাকিবুজ্জামান আহমেদ বলেন, আমার কোনো বিদ্যুৎ বিল বকেয়া নেই। আর আমি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কোনো নোটিশ পাইনি। আপনার বাসার বিদ্যুৎ বিল এতো কম কেন জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এগুলো আমি কিছুই জানি না। আমার কাছে কোনো কাগজ আসে না। এখন যারা বিল করছে তারা ভালো জানেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন।

 

মন্ত্রীর ছোটভাই শামসুজ্জামান আহমেদ ভুট্টুর একটি বাণিজ্যিক কানকেশনে গেল প্রায় চার বছরে বিল বকেয়া রয়েছে ৬ লাখ ২০ হাজার ১১৩ টাকা। তার নামে একটি সেচ পাম্পের কানেকশন রয়েছে। যেখানে গেল চার বছর ধরে বিল বকেয়া রয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ১১টাকা। তার বাবা মৃত করিম উদ্দিন আহমেদের নামে একটি আবাসিক সংযোগ রয়েছে। এ সংযোগটি ব্যবহার করছেন তিনি। এ সংযোগে মাসিক বিল  দেখানো হয়েছে ৬৩ টাকা, ১৭২ টাকা, ২৯৪ টাকা, ২৮০ টাকা। সর্বোচ্চ বিল ৪৯৬ টাকা দেখানো হয়েছে। ২০২২ সালের আগস্ট,  সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে। গেল চার বছরে বিল  দেখানো হয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৭ টাকা। এখনো বকেয়া রয়েছে এসব বিল।

স্থানীয়রা বলেন, এয়ার কন্ডিশন, ফ্রিজ, ফ্যানসহ সকল ধরনের ইলেকট্রিক পণ্য ব্যবহৃত হয় মন্ত্রী, তার ছেলে ও তার ছোট ভাইয়ের বাড়িতে। তাদের সেচ পাম্প থেকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণে জমিতে ধান ও ভুট্টা চাষ করতে পানি সরবরাহ করা হয়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা হাসান আব্দুল মালেক বলেন, তার ১৭ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকার জন্য নেসকো কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। নেসকো কর্তৃপক্ষ শুধু সাধারণ গ্রাহকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন কিন্তু তারা প্রভাবশালী গ্রাহকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে নিশ্চুপ থাকেন তিনি অভিযোগ করেন।

রংপুর নেসকো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, অনেক  গ্রাহকের বিল বকেয়া রয়েছে। বকেয়া বিল আদায়ে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করতে কোনো গাফিলতি করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তারা খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

নেসকো’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, এসব বিলের বিষয়ে কিছু জানা নেই। তবে খতিয়ে দেখবো। বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করতে কেন এতো অসঙ্গতি হয়েছে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত  খোঁজ নেবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান। এ বিষয়ে জানতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।