ঢাকারবিবার , ১৪ মে ২০২৩
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অস্বাভাবিক হারে বেড়েই যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম

অনলাইন ডেস্ক
মে ১৪, ২০২৩ ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ । ৫০ জন
ছবি: সংগৃহীত

অস্বাভাবিক হারে বেড়েই যাচ্ছে নিত্যপণ্যের দাম। অল্প আয়ের মানুষের নাভিশ্বাস বেড়েই যাচ্ছে। নতুন করে চিনির দাম বৃদ্ধি করে ১২০ টাকা নির্ধারণ করলেও বাজারে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। সবজির দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি সবজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে কমদামী পেপে বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি। বৃদ্ধি পাওয়া ভোজ্য তেল, চাল, আলুসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম কমেনি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, বেগুন ৮০, ঝিঙ্গা ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, পেঁপে ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ৪০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা এবং শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। অন্যদিকে জালি কুমড়া কুমড়া পিস ৬০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কচুর লতি ১০০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৮০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২৫০ টাকা এবং কাঁচাকলা প্রতি হালি ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। গত দু-তিন দিনের ব্যবধানে নতুন করে সবজির দাম আরও বেড়েছে। তাতে এখন বাজারে প্রতি কেজি বেগুন, পটল, মুলা, বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা, ঝিঙে, ধুন্দল, করলা, কাকরোল, বরবটি, ভেন্ডি, চিচিঙ্গা ৮০-১০০ টাকা, সজনে ১২০-১৪০ টাকায়।

সপ্তাহের ব্যবধানে গরু, দেশি ও ব্রয়লার মুরগি এবং ডিমের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। গোশতের সঙ্গে বেড়েছে প্রায় সব ধরনের মাছের দামও। ফলে আমিষের চাহিদা মেটাতে এক প্রকার হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষেরা।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে প্রতিকেজি গরুর গোশত গত এক বছর আগেও ছিল ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকার মতো। এক বছরে ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে গরুর গোশত বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়। কোনো কোনো বাজারে যা ৮০০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

টিসিবির হিসেবে, বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ২১৫ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও এ দামে বিক্রি হচ্ছে না। বর্তমানে বাজারে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজিতে। এক বছরের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৩২ শতাংশ। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৬৫০ থেকে ৭৫০ টাকায়। খুচরা বাজারে ব্রয়লার মুরগির ডিম প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। দেশি মুরগির ডিম প্রতি হালি ৭৫ টাকা। এবং হাঁসের ডিমের হালি ৭০ টাকা।

অন্যদিকে খাসির গোশত ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এক বছরে পণ্যটির ১৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ দাম বেড়েছে। যা এক বছর আগেও বিক্রি হতো ৮৫০ থেকে ৯৫০ টাকায়।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের মোড়কে দাম ১৮৭ টাকা লেখা, অথচ সেই তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায়। ৩৭৪ টাকার দুই লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ৩৮০-৩৯০ টাকায় এবং ৯০৬ টাকার ৫ লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ৯১৫-৯২০ টাকায়। এছাড়া আটা, ময়দা ও ডালের দাম নতুন করে না বাড়লেও সেগুলো বেশ আগেই বেড়ে বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। মসলার বাজারে নতুন করে চোখ রাঙাচ্ছে পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের দাম। ঈদের পর থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৩০-৩৫ টাকা বেড়ে এখন ৭০ টাকায় ঠেকেছে। যা দুদিন আগেও ৬০-৬৫ টাকা ছিল। এছাড়া প্রতি কেজি আদা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৩০০ টাকার কিছু কম বা বেশি। যা গত বছর একই সময় ছিল ৯০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ, বছরের ব্যবধানে এখন আদার দাম তিনগুণেরও বেশি বেড়েছে। আর শেষ ঈদের পর থেকে বেড়েছে কেজিতে মানভেদে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। অন্যদিকে আমদানি করা চীনা রসুনের কেজিপ্রতি দাম ২০ টাকা ৩০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা।

সরকারি হিসেবে, খোলা আটা, প্যাকেট ও খোলা ময়দা, ঘোলা এবং বোতল জাত সয়াবিন তেল, খোলা পাম অয়েল, ছোট মশুর ডাল, আলু, দেশী ও আমদানি পিয়াজ, দেশি ও আমদানি আদা, আমদানি রসুন, জিরা, ধনে, গরু, দেশি মুরগি, ডিমের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে দেশি রসুন, ব্রয়লার মুরগির মূল্য হ্রাস পেয়েছে। অন্যান্য পণ্যের মূল্য অপরিবর্তীত রয়েছে।

মুরগির বাজারে দেখা যায়, কিছুদিন আগে ব্রয়লার মুরগির দাম কমে হয়েছিল ১৯০ টাকা কেজি। সেখানে কেজিতে ২০- ৩০ টাকার মতো বেড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়। পাকিস্তানি ছোট সাইজের কক মুরগি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকায়। আর বড় সাইজের কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৫০ টাকা। লাল মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতিকেজি ৩৫০ টাকায়।

মাছের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাছ ১ কেজি ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ প্রতি কেজি ২৮০০ টাকায়। দেড় কেজি ওজনের ইলিশ মাছ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ টাকায়। দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের রুই মাছের দাম প্রতি কেজি ৩০০-৩৫০ টাকায়। শোল মাছ প্রতিকেজি ৬৫০ টাকা। শিংমাছ, বাইলা মাছ প্রতিকেজি ৬০০ টাকায়। আকার ভেদে প্রতিকেজি চিংড়ি ৬০০-৭৫০ টাকা।