দেশে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে তিন শিশু নিশ্চিতভাবে হামে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। প্রতিবেদনের মূল তথ্য:
গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত: নতুন করে ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর হাম ও হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
মোট মৃত্যু (১৫ মার্চ – ৯ মে): গত দেড় মাসে ৩৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় প্রমাণিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২৯১ জন।
মোট আক্রান্ত: এই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৯৮৯ জনের শরীরে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশু।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম ও হাম সন্দেহে ১৭৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে; এই বিভাগে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৮০ জনে।
গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ৯ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের এই পরিসংখ্যান দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থাকা এবং গরমে ভাইরাসের দ্রুত বিস্তার এই প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে অভিভাবকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে শিশুর শরীরে জ্বর ও র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে। বিশেষ করে ঢাকা ও আশেপাশ এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।





