প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিরোজপুর জেলার সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ নির্দেশনা দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, পিরোজপুর জেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে বাস্তবায়িত এবং চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, সমস্যা ও করণীয় নিয়ে বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিশেষ করে যেসব সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এবং বেহাল অবস্থায় রয়েছে, সেগুলোকে দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের আওতায় আনতে হবে।
পিরোজপুরের সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। বৈঠকে উপস্থিত কর্মকর্তারা পিরোজপুর জেলার এলজিইডি প্রকল্পগুলোর পূর্ববর্তী অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন পরিস্থিতি তুলে ধরেন। আলোচনায় উঠে আসে যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল।
কয়েকটি প্রকল্পে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী
আহম্মদ সোহেল মনজুর, পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুম সাঈদী, পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিএজির অডিট রিপোর্টে বালিশকাণ্ডের প্রতিবেদন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পেশ করা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার অডিট রিপোর্টে স্থান পেয়েছে ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেই আলোচিত ‘বালিশ কাণ্ড’সহ ৩৮টি দুর্নীতির প্রতিবেদন।
গতকাল বিকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ২০২১-২২ অর্থবছরের অডিট রিপোর্ট পেশ করেন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম। এ সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার, প্রেসসচিব সালেহ শিবলীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী জানান, বাংলাদেশের মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্ট পেশ করেছেন। সেখানে বালিশ কাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনও আছে। প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেদনে প্রতিটি বালিশের একরকম অবিশ্বাস্য দাম শুনে সিএজিকে বলেছেন, এই দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত।
সেখানে প্রতিটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৫ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর প্রতিটি বালিশ আবাসিক ভবনের খাটে তোলার মজুরি দেখানো হয়েছে ৭৬০ টাকা। কভারসহ কমফোর্টারের (লেপ বা কম্বলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত) দাম ধরা হয়েছে ১৬ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও এর বাজারমূল্য সাড়ে ৪ হাজার থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৩৬ টাকায়। যার বাজারমূল্য অবশ্য ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা।





