দেশের শোবিজে তমা রশিদের হাঁটাচলা আগেই ছিল।একজন প্রাণবন্ত উপস্থাপিকা ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে বেশ পরিচিত ছিলেন তিনি। কিন্তু এই তমা যে থাইল্যান্ডে গিয়ে ‘মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল-২০২৬’এর সুন্দরী-তমার মুকুট জয়ী হবেন, কে জানতো। বিবাহিত সুন্দরীদের জন্য ‘মিসেস ওয়ার্ল্ড’ খ্যাত এ শিরোপার প্রতিযোগিতায় শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়লেন।
তিনি প্রথম বাংলাদেশি নারী যিনি আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বভিত্তিক প্রতিযোগিতায় প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন।
‘ডিফারেন্ট কালচারস, ওয়ান ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন দেশের নারীরা তাদের সংস্কৃতি, আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্ব তুলে ধরেন। নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মনির্ভরতা এবং স্বপ্নপূরণের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
গত ২০ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত থাইল্যান্ডে চলা এই আয়োজনে বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণকারীরা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ব্যক্তিত্ব প্রদর্শন এবং বিভিন্ন সামাজিক বার্তা তুলে ধরেন। পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে তমা রশিদের আত্মবিশ্বাস, উপস্থাপনা এবং দৃঢ় ব্যক্তিত্ব বিচারকদের মুগ্ধ করে।
প্রায় ৪০ দেশের প্রতিযোগীকে হারিয়ে জমকালো গ্র্যান্ড ফিনালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী তমা রশিদ জিতে নেন বিজয়ের মুকুট। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারীদের সক্ষমতা ও সম্ভাবনা আরও একবার বিশ্বদরবারে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরলেন তমা রশিদ।
মুকুট জয়ের পর অনুভূতি প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে তমা রশিদ বলেন, মিসেস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল হিসেবে এবারই প্রথম বাংলাদেশ বিজয়ী হয়েছে। দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে এসে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে মুকুট জয় সত্যিই আনন্দের। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
তিনি বলেন, এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয় বরং বাংলাদেশের নারীদের আত্মবিশ্বাস, সক্ষমতা ও ইতিবাচক গল্প বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার একটি সুযোগ। বাংলাদেশের ঐতিহ্য, বিশেষ করে জামদানি শাড়ির মতো সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
সুন্দরী-তমা আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে, ফাইনাল পর্যায়ে ভারতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। তিনি বলেন, কস্টিউম, ওয়াক এবং কুইজ সেগমেন্টে আমি অনেক ভালো করেছি। আমি মনে করি, এ অংশগুলোই আমাকে বিজয়ের দিকে এগিয়ে দিয়েছে।
তমা জানালেন, একটি ইভেন্ট জয় মানে নিজেকে আমূল বদলে ফেলা নয়। তিনি দেশে ফিরে আবারও নিয়মিত উপস্থাপনায় মনোযোগ দিতে চান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী তরুণীদের পরামর্শক হিসেবেও কাজ করতে চান তমা। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন তমা।
পরবর্তী সময়ে মিডিয়ায় কাজের মাধ্যমে নিজের আলাদা পরিচিতি গড়ে তোলেন।তমা রশিদের এই অর্জন ২০২৬ সালে দেশের নারীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।





