fgh
ঢাকামঙ্গলবার , ১৯ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

চীন-মার্কিন ‘ঐক্য’ সুসংবাদ না দুঃসংবাদ?

admin
মে ১৯, ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ণ । ১১ জন

ওয়েসলি উইডমায়ার

 প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬ | ০৭:৪২

২০০৫ সালে মার্কিন অর্থনীতিবিদ ফ্রেড বার্গস্টেন ‘গ্রুপ অব ২’ বা ‘জি২’ পরিভাষাটি উদ্ভাবন করেন। এ সময় তিনি তৎকালীন বিশ্বের বৃহত্তম দুটি অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্বের প্রস্তাব দেন। এর কয়েক বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের প্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা লাভ করে। এ পরিস্থিতি দেখে অল্প সময়ের জন্য হলেও মনে হয়েছিল, চীনকে একটি উদারনৈতিক ও নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থায় একীভূত করার প্রচেষ্টা সফল হয়েছে।

এটা নিশ্চিত, আপাতদৃষ্টিতে জি২ জোটের উদ্দেশ্য প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর বৃহত্তর ও বৈশ্বিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জি২০ গোষ্ঠীকে প্রতিস্থাপন করা নয়; বরং একে শক্তিশালী করা। বৈশ্বিক আর্থিক সংকট মোকাবিলায় বৃহত্তর জি২০-এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাথমিকভাবে ৭৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক প্রণোদনা চালু করে

এবং চীনও নিজস্ব ৫৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল ঘোষণা করে। এটি আরও বড় একটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়াতে সাহায্য করেছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে এই সপ্তাহের শীর্ষ সম্মেলনটি এক ভিন্ন ধরনের জি২-এর সূচনা করছে। শুক্রবার ট্রাম্প দাবি করেন, দেশ দুটি কিছু ‘চমৎকার বাণিজ্য চুক্তি’ করেছে। কিন্তু শুল্ক, দুর্লভ খনিজ বা ইরানের মতো বিষয়গুলোতে এ ধরনের চুক্তির বিস্তারিত বিবরণের আশায় থাকা যে কেউই শুক্রবার বিকেলে হতাশ হয়েছেন।
যা-ই ঘটুক না কেন,

মার্কিন-চীন সহযোগিতা এখন আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাকি বিশ্বের জন্য ইতিবাচক সুফল বয়ে আনে না। বরং ২০২৬ সালে জি২-কে বড়জোর দুটি পরাশক্তির মধ্যকার নিজেদের মধ্যে কেবল একটি বোঝাপড়া বলেই মনে হচ্ছে, যা বাইরের জনগোষ্ঠীর ওপর প্রচ্ছন্ন একটি ব্যয়ভার চাপিয়ে দিচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ দেখার পদ্ধতিতে একটি লক্ষণীয় পরিবর্তন এনেছে। এই পদ্ধতি এখন আর অভিন্ন উদারনৈতিক মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যে প্রভাব বলয়ের ওপর নির্ভরশীল। সুতরাং মূল প্রশ্নটি এই নয় যে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সহযোগিতা করতে পারবে কিনা। বরং প্রশ্নটি হলো, তাদের এই সহযোগিতা কী ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করবে।

পশ্চিম ও পূর্ব:
এখানে একটি পুরোনো অর্থনৈতিক তুলনা প্রাসঙ্গিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পশ্চিমা জোট ব্রেটন উডস ব্যবস্থার অধীনে একটি কেইনসীয় বিশ্বব্যবস্থার প্রতি অভিন্ন অঙ্গীকারে ঐক্যবদ্ধ ছিল, যা জাতীয় অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রেখে পণ্যের অবাধ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল।

এর বিপরীতে পূর্ব ব্লক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে ‘কাউন্সিল ফর মিউচুয়াল ইকোনমিক অ্যাসিস্ট্যান্স’ বা কমেকন নামক একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে বাণিজ্য সংগঠিত করত, যেখানে নগদ অর্থের পরিবর্তে পরিকল্পিত বিনিময় প্রথার মাধ্যমে দেশগুলোর মধ্যে বিচিত্র পণ্যের লেনদেন ঘটত। বর্তমানে পরিহাসের বিষয় হলো, ট্রাম্প-শি এজেন্ডা পুরোনো পূর্ব ব্লকের পদ্ধতির সঙ্গেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে জি২০ বা বৃহত্তর নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে একটি জি২ যে কাজ করছে, তার সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ এটা নয়, ওয়াশিংটন ও বেইজিং আলোচনা করছে। বরং লক্ষণটি হলো,

এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় পরিচালনা করা যেতে পারে, যা শুল্ক ছাড়, বিমানের অর্ডার, বিরল মৃত্তিকার সহজলভ্যতা, চিপের ওপর বিধিনিষেধ, তাইওয়ান ও ইরানের মতো বিষয়কে একসূত্রে বাঁধবে। এসবের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেশ দুটি তাদের নীতি সমন্বয় করতে চাইবে, এটাই যুক্তিসংগত। কিন্তু সব মিলিয়ে এগুলো এমন এক নতুন বিশ্বব্যবস্থার ইঙ্গিত দেয়, যেখানে দুটি পরাশক্তি ক্রমশ নিজেদের স্বার্থেই কর্তৃত্ব করে চলেছে।

এ ধরনের জি২ বৈশ্বিক জনকল্যাণ ক্ষুণ্ন করতে পারে। এরই মধ্য দিয়ে এটিও পরীক্ষা করবে যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো মধ্যম শক্তিগুলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে তাদের আসন ধরে রাখতে পারে কিনা অথবা কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ভাষায়, ‘খাবার তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

ওয়েসলি উইডমায়ার: অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক; দ্য কনভারসেশন থেকে
ভাষান্তর ইফতেখারুল ইসলাম