fgh
ঢাকাবুধবার , ৬ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

জ্বালানি সংকটে বিকল্প বৈদ্যুতিক যান

অনলাইন ডেস্ক
মে ৬, ২০২৬ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ । ১৪ জন

মো. সালমান সাদেকীন চয়ন

 প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬ | ০৭:২১

একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল। তবে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দামের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের পরিবহন খাত মূলত আমদানিকৃত ডিজেল ও অকটেনের ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে।

এই বিদ্যমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং পরিবহন ব্যবস্থাকে সাশ্রয়ী ও টেকসই করতে বৈদ্যুতিক যানবাহন বা ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (ইভি) প্রসারের গুরুত্ব এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি। প্রচলিত ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের তুলনায় বৈদ্যুতিক যানবাহন কেবল জ্বালানি সাশ্রয়ীই নয়, বরং এটি আমদানি করা তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি চিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, পরিবহন খাতে ব্যবহৃত জ্বালানির সিংহভাগই বিদেশ থেকে উচ্চমূল্যে কিনতে হয়।২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর পরিবহন খাতের জন্য যে পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়, তার বড় একটি অংশ ব্যয় হয় ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাস-ট্রাক চলাচলে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াত খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা পরোক্ষভাবে মুদ্রাস্ফীতিতে অবদান রাখছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো সম্ভব হলে দেশীয় বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবহন চালানো যাবে।

ফলে একদিকে যেমন মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে; বিশেষ করে রাতে যখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় প্রণীত বৈদ্যুতিক যান চলাচল নীতিমালা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ব্যবহৃত মোট যানবাহনের অন্তত ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারকে বৈদ্যুতিক যানবাহন আমদানিতে শুল্ক সুবিধা ও কর ছাড়ের বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

বর্তমান বাজারে বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রাথমিক দাম সাধারণ গাড়ির তুলনায় কিছুটা বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্তের নাগালে এটি পৌঁছাতে পারছে না। আমদানি করা ব্যাটারি এবং মোটরের ওপর শুল্ক কমানোর পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ তৈরির শিল্পকে প্রণোদনা দিলে গাড়ির দাম সাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।

বাংলাদেশে ইতোমধ্যে প্রচুর সংখ্যক থ্রি-হুইলার বা ইজিবাইক চলছে। এগুলোকে আরও উন্নত প্রযুক্তির এবং নিবন্ধিত ব্যবস্থার আওতায় আনা
গেলে জ্বালানি সাশ্রয়ে এটি বড় অবদান রাখতে পারবে।

ব্যাটারি ডিসপোজাল বা ব্যবহৃত ব্যাটারির সঠিক ব্যবস্থাপনা বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসারে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বৈদ্যুতিক গাড়িতে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিগুলো কয়েক বছর পর কার্যকারিতা হারালে তা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই এসব ব্যাটারি পুনঃপ্রক্রিয়াকরণ (রিসাইক্লিং) করার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এবং প্লান্ট স্থাপন করতে হবে।

স্থানীয়ভাবে ব্যাটারি তৈরি শিল্প গড়ে তুলতে পারলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে আমদানির খরচও কমবে। ২০২৬ সালের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ কাজে লাগিয়ে ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও চার্জিং গতি বাড়ানোর বিষয়ে দেশীয় প্রকৌশলীদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে হবে।

বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার কেবল জ্বালানি সংকটের একটি তাৎক্ষণিক সমাধান নয়। এটি দেশের অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি শক্তির উৎস। আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব উৎপাদিত বিদ্যুতের ওপর ভিত্তি করে পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনা করা হবে যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

টেকসই উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রয়োজন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সাশ্রয়ী ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

মো. সালমান সাদেকীন চয়ন: সহকারী পরিচালক, তথ্য ও প্রকাশনা,
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)