fgh
ঢাকাসোমবার , ৩০ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সমরশক্তি বৃদ্ধি, মোতায়েন সেনার সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ৩০, ২০২৬ ১:০১ অপরাহ্ণ । ৫৪ জন

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের এক মাস পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে পেন্টাগন নতুন করে আরও সেনা ও নৌসদস্য মোতায়েন করেছে, যার ফলে এই অঞ্চলে মার্কিন সেনার সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ হাজার সেনা সউদী আরব, বাহরাইন, কাতার ও কুয়েতসহ বিভিন্ন ঘাঁটিতে অবস্থান করে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সংঘাত বৃদ্ধির কারণে এই সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে কৌশলগত প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখছেন।

পেন্টাগনের সর্বশেষ মোতায়েন অনুযায়ী, আরও ৫ হাজার সেনা ও নৌসদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ২,৫০০ মেরিন সেনা এবং ২,৫০০ নাবিক রয়েছে, যারা ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সদস্য-এর অংশ। ৩১ মার্চের মধ্যে এই বাহিনী নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছাবে।

এই শক্তি বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী–কে পুনরায় সচল করা উল্লেখ করা হচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরানি বাহিনী এই জলপথে আক্রমণ করে সেটিকে প্রায় অচল করে দেয়, যা আবার সচল করতে ওয়াশিংটন তৎপরতা চালাচ্ছে।

 

এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ৮২তন এয়ারবর্ন ডিভিশনের আরও ২,০০০ প্যারাট্রুপারকে (ছত্রীসেনা) ইরানের কাছাকাছি মোতায়েন করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনী ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র ‘খারগ দ্বীপ’ দখলের সম্ভাব্য অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে। এর আগে এই দ্বীপ লক্ষ্য করে মার্কিন যুদ্ধবিমান ৯০টিরও বেশি স্থানে বোমা হামলা চালায় বলে জানা যায়।

 

তবে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌসম্পদ অনুপস্থিত। বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড’-এর যান্ত্রিক ত্রুটি এবং একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর ২৩ মার্চ মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করে বর্তমানে ক্রোয়েশিয়ায় অবস্থান করছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, ইরানের মতো বিশাল ও জনবহুল দেশে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর জন্য ৫০ হাজার সেনা পর্যাপ্ত নয়। উদাহরণ হিসেবে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল। সেখানে তুলনামূলকভাবে ইরানে এমন সীমিত বাহিনী দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কঠিন হবে।

 

মধ্যপ্রাচ্যে এই নজিরবিহীন মার্কিন সেনা সমাবেশ শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বরং বিশ্ববাজারের জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলছে। পেন্টাগনের এই কৌশল ইরানের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, তা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন। তথ্যসূত্র : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস