এখন থেকে সরকারের কাছে বিএনপি আর কোনো দাবি করবে না, আন্দোলন করেই জনদাবি আদায় করা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান
সেলিমা রহমান বলেন, সামনে রমজান আসছে তাই দ্রব্যমূল্য নিয়ে সাধারণ জনগণ চিন্তিত। জিনিসপত্রের দাম আগুন ছোঁয়া। সরকার প্রতিদিন বলছে দাম কমাবে কিন্তু দাম কমাতে পারছে না। এই সরকার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করবে না। কারণ এর সঙ্গে জড়িত সরকার দলীয় লোকজন। তাই এ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র ও নারীসমাজসহ দেশবাসীকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। সেলিমা রহমান বলেন, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে দেশের কোনো মানুষ ভোট দিতে যায়নি।
দেশের মানুষ আজ কথা লতে পারে না, প্রতিবাদও করতে পারে না। আজকে মহান ভাষার মাসেও তারা কোনো কথা বলতে পারছে না। এই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করতে গিয়ে কারাগারে গেছেন বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী। তারা এখনো কারাগারে নির্যাতন নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। তাই এখন থেকে লড়াই করে খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দিকে মুক্ত করব।
সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে সরকার তাকে সাজানো মামলায় কারাবন্দি করে রেখেছে। আজকে তিনি জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। তবুও সরকারের কাছে মাথানত করেননি। গৃহবন্দি থাকার পরও খালেদা জিয়া বলছেন, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে সেলিমা রহমান বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী দল নয়। আওয়ামী লীগই ছাত্রলীগের হাতে পিস্তল, লাঠি ও দা তুলে দিয়েছে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যায়, একদিকে টেন্ডার বাজি চলছে, অন্যদিকে মারামারি। আর সারাদেশে খুন-গুম করে বেড়াচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের ক্যাডাররা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়।
২০০৮ সালে দেশে কোনো নির্বাচন নয়, চক্রান্ত করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ডা দেশকে রাজনীতিশূন্য করা, অর্থনীতিকে ধ্বংস করা। তারা দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যতদিন এ সরকার ক্ষমতায় আছে ততদিন দ্রব্যমূল্য কমবে না। তিনি বলেন, এ সরকার সাংবিধানিক অধিকার গণতান্ত্রিক অধিকার ও সামাজিক অধিকার ধ্বংস করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভোমত্ব রক্ষা করতে, মানুষের মুক্তি ও গণতন্ত্রের জন্য পুনরায় আরেকটি মুক্তিযুদ্ধ করতে হবে।
সেলিমা রহমান বলেন, নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তা করেই সরকার ক্ষান্ত হয়নি, তার প্রতিষ্ঠানও দখল করছে। আজকে জনগণ দেখছে সরকারের দখলদারিত্ব। কিভাবে একজন নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান দখল করা হচ্ছে। তাকে তো হেনস্তা করেছেই, এখন তার টেলিকম ও গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পূর্ণভাবে দখল করেছে। এ সরকার সর্বব্যাপী দখলদারিত্বের নজির সৃষ্টি করেছে
সেলিমা রহমান বলেন, দ্রব্যমূল্যের আগুন ছোঁয়া দাম। একজন সাধারণ মানুষ কিভাবে তার পরিবারকে খাওয়াতে পারবে? আমি তো মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে কিন্তু আমারও মনে হয়, আমরা আজকে অসহায় হয়ে গেছি জিনিসপত্রের দামের কারণে। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আর কোনো স্লোগান নয়, রাজপথে পথে দাবি নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারের পতন ঘটাতে হবে।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক ও কৃষক দলের সহসাধারণ সম্পাদক এম. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোফাজ্জল হোসেন হৃদয়ের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুন রায় চৌধুরী, কৃষকদলের সহ-সভাপতি আ ন ম খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, তাঁতিদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।
ফখরুল খসরুকে দেখতে গেলেন বিএনপি নেতারা ॥ প্রায় সাড়ে তিন মাস পর কারামুক্ত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে দেখতে তাদের বাসায় গেলেন বিএনপি নেতারা। শনিবার দুপুরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গুলশানের বাসায় যান বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবেদীন ফারুক। আর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বনানীর বাসায় যান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।





