ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্রমেই বাড়ছে নিপাহ ভাইরাসের রোগী , সচেতনতার বিকল্প নেই

হাসান শাব্বীর
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৩ ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ । ৫৪ জন
নিপাহ ভাইরাস

সারাদেশে  আবারও দেখা দিয়েছে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব।  শীতের মৌসুমের শুরু থেকেই অনেকে আক্রান্ত হয়েছেন এই ভাইরাসটিতে। ইতোমধ্যে দেশের ২৮ জেলায় এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এবং আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুও ঘটেছে। করোনা আর ডেঙ্গুর ক্ষত না শুকাতেই জনমনে নতুন আতঙ্ক হয়ে দেখা দিয়েছে নিপাহ ভাইরাস।

সাধারণত বাদুড় থেকে এই ভাইরাসের বিস্তার ঘটে। বাদুড় খেজুরের রস খায়, তখন তার মুখের লালা রসের সঙ্গে মিশে যায়। সেই রস না ফুটিয়ে খেলে মানুষ নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। সংক্রমিত রোগীর হাঁচি, কাশি, কফ ও থুতুর মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস একজনের দেহ থেকে অন্যজনের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।দেশে দুই দশকেরও বেশি সময় আগে প্রথম নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

প্রতিবছরই এতে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছেন। আতংকের  বিষয় হলো—নিপাহ ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক ও ভ্যাকসিন আবিষ্কৃত হয়নি। আবার এর চিকিৎসার কোনো ওষুধও নেই। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগীর প্রধানত জ্বরের উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা সিম্পটমেটিক চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এই ভাইরাসের সবচেয়ে দুশ্চিন্তার দিক হলো—আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ভয়াবহ রকমের বেশি হয়ে থাকে। যেহেতু এর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই, তাই আক্রান্তদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিপাহ সংক্রমণকে বৈশ্বিক মহামারির সম্ভাব্য ১০টি হুমকির একটি হিসেবে ঘোষণা করেছে।

 ২০০১ সাল থেকে চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৩১ জন নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ২৩৬ জনেরই মৃত্যু হয়। আর আক্রান্তদের ৭১ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে।

সচেতনতার লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞরা এ রোগের কিছু লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় জানান। এই রোগের প্রধান লক্ষণ জ্বরসহ মাথাব্যথা, খিঁচুনি, প্রলাপ বকা, অজ্ঞান হওয়াসহ কোনো কোনো ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট।

এ থেকে বাঁচতে খেজুরের রস কাঁচা খাওয়া বন্ধ করা, পশুপাখির আংশিক খাওয়া ফল না খাওয়া, ফলমূল পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে খাওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটবর্তী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নেওয়া। এ ভাইরাস যেহেতু মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়, এজন্য কেউ আক্রান্ত হলে রোগীর নাক-মুখ ঢেকে চলাফেরার পরামর্শ রয়েছে।

ভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে মোট ২০টি আসন প্রস্তুত করতে অনুরোধ জানিয়েছে অধিদপ্তর।সম্প্রতি অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. শেখ দাউদ আদনানের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, বর্তমানে দেশের ২৮ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড এবং ১০ বেডের আইসিইউ প্রস্তুত রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।এর আগে গত সোমবার এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়, দেশের ২৮টি জেলায় নিপাহ ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি হাসপাতালে জ্বরের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের সেবা দেওয়ার সময় চিকিৎসকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

যা ছিল নির্দেশনায়

* রোগী দেখার সময় আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

* রোগী দেখার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

* জ্বরের উপসর্গ দেখা গেলে রোগীকে আবশ্যিকভাবে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখতে হবে।

* জ্বরের সঙ্গে অজ্ঞান অবস্থা দেখা দিলে রোগীকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের আইসিইউতে রাখতে হবে।

* আইসিইউতে থাকাকালে রোগীর পরিচর্যাকারীরা শুধু গ্লাভস, মাস্ক পরলেই হবে। কেননা নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী থেকে বাতাসের মাধ্যমে ওই ভাইরাস ছড়ায় না।

* যেহেতু আইসিইউতে রেখে এই রোগীর চিকিৎসা করা যায়, সে জন্য রেফার করার প্রয়োজন নেই।

* যে কোনো তথ্যের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কল সেন্টারে ১৬২৬৩/৩৩৩ যোগাযোগ করবেন।

বিশেষজ্ঞরা  বলছেন , জনসচেতনতা বাড়ানোই এ ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার একমাত্র পথ। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জনসচেতনতামূলক  প্রচার-প্রচারণা  খুব  একটা  দেখা  যায়  না।  টেলিভিশন বা গণমাধ্যমে  সুনির্দিষ্টভাবে নিপাহ ভাইরাস নিয়ে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন থাকলেও তেমনটা চোখে পড়ে না বললেই চলে।  সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এ বিষয়ক ব্যাপক প্রচারণার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। পাশাপাশি যেহেতু এটি সংক্রামক ভাইরাস, তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবার লক্ষ্যে করোনা ভাইরাসের মতো ডেডিকেটেড কোনো হাসপাতাল প্রস্তুত করা হোক। এতে করে সংক্রমণের সংখ্যা কমানোসহ জনভোগান্তিও দূর করা সম্ভব হবে।