হাম পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। মৃতের তালিকায় প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীতে ভরে উঠছে শিশু ওয়ার্ড। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪০৮ জন। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ শিশুর।
আব্দুল্লাহ, বয়স এখনও ৪ মাস পূর্ণ হয়নি। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ৪ দিন ধরে রাজধানীর মহাখালী ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি। ছোট্ট শিশুর সেবা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক হাসপাতালে অবস্থান করেছেন মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।
বাবা আব্দুস সালাম আমাদের সময়কে জানান, প্রায় ৮ থেকে ১০ দিন আগে আব্দুল্লার ঠাণ্ডা ও জ্বর হয়। লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ আনলেও জ্বর ছাড়ে না। পরে শহরে প্রাইভেট হাসপাতালে দেখালে সেখান থেকে বলে বাবুর এলার্জি আছে। তারা কিছু ওষুধ দেয় তা দিয়েও সুস্থ হচ্ছে না। এখন হামের লক্ষণ স্পষ্ট। অসুস্থতার পরিমাণ আরও বাড়ছে তাই ঢাকায় এনেছি।
একই হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে আব্দুর রাইয়ান নাবিল। তার বাবা মো. খালেক বলেন, নাবিলের বয়স এই মাসে ১০ মাস হয়েছে। আমার ছেলের অবস্থা খুবই খারাপ। ছেলে আজ প্রায় ৩ মাস ধরে অসুস্থ। প্রথমে ঠাণ্ডা, কাশি ও প্রচণ্ড জ্বর ছিল। স্থানীয় শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখালে ওনার চিকিৎসায় ভালো হলেও কিছুদিন পরে আবার জ্বর হয়।
জ্বর আসে আবার ভালো হয়, আবার জ¦র আসে এমন হচ্ছিল। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করায় সেখান থেকে বলে রক্তে ইনফেকশন আছে। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরলে গত পরশু দিন হঠাৎই প্রচণ্ড জ্বর দেখা দেয় তাই ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি করি। ডাক্তার বলছে, হাম হয়েছে। এখন বাবুর অবস্থা অনেক খারাপ।
শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। ডিএনসিসি হাসপাতালের ডিউটি ডাক্তার বলেন, আব্দুল্লার অক্সিজেন চলছে। এখনও ওয়ার্ডে থাকার মতো অবস্থায় আছে। অবস্থা খারপ হলে ব্যবস্থা নেওয়া
হবে।
আবদুল্লাহ ও নাবিলের মতো প্রতিদিন শতাধিক শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ডিএনসিসি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সারাদেশের হাসপাতলগুলোর চিত্র প্রায় একই। আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে।
ডিএনসিসি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯ মে মঙ্গলবার সকাল থেকে ২০ মে বুধবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডিএনসিসি হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ১১৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন ১২১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। হাসপাতালটিতে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৪৪৬ জন যার মধ্যে নারী ২০ আর পুরুষ ৩১ জন এবং শিশু ৩৯৫ জন।
সারাদেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, এ সময় নতুন করে হাসপাতালে হাম ও হাম উপসর্গে ১ হাজার ৪০৮ জন ভর্তি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৪৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২০ মে পর্যন্ত সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৫ হাজার ১২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪১ হাজার ১২০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।





