জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সেই সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে। যারা ৭১ ও ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দেশ গঠনে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।বক্তব্যে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তাদের ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। বেকারত্ব দূর করতে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসময় নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা দেন তিনি।
পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষায় উপবৃত্তির ব্যবস্থা করার কথাও জানান। রান্নার কষ্ট লাঘব করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সারাদেশের মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রান্নার কষ্ট দূর করতে এলপিজি কার্ডও দেওয়া হবে।
ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়ার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ২৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে।
এ সময়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক হাত তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো-লক্ষ মানুষ দেশ গড়ার জন্য আছেন…আলহামদুলিল্লাহ। আসুন, আজকে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। কারণ এদেশ আপনার, এদেশ আমার, এদেশ আমাদের সকলের, সকল বাংলাদেশির।
তিনি আরও বলেন, আমাদের চোখের সামনে দিয়ে গত ৫০ বছর পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে, পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। যেই সিঙ্গাপুরকে নিয়ে আমরা মাঝে মাঝে গল্প করি, সেই সিঙ্গাপুরের অবস্থা ১৯৭১ সালে আমাদের চেয়েও খারাপ ছিল। আজ ৫০ বছরে তারা কোথায় চলে গিয়েছে! তারা যদি পারে আমরা কেন পারবো না? ইনশাল্লাহ আমরাও পারবো; এ দেশের মানুষ পারবে।
দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তারেক রহমানের প্রথম যশোর সফর। তার এই সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বিকেল সাড়ে চারটার পর তিনি সভামঞ্চে উপস্থিত হয়ে হাত উঁচিয়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন। এদিন তিনি শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এর আগে হরিনারবিলে পাঁচশ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খনন করা উলশী খালটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হলে স্থানীয় প্রায় ১৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রায় ১ হাজার ৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে এবং ৭২ হাজার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। খাল খননের পর দুই পাড়ে তিন হাজার গাছ লাগানো হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে। যারা বক্তব্যে জোরে জোরে কথা বলে তারাই ফ্যাসিবাদের সাথে এখন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছে। বিএনপির নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কিছু মানুষ ও দল বাধাগ্রস্তের চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। ১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ দেব না।
সরকার প্রধান আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন করাই এই সরকারের মূল অগ্রাধিকার। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের প্রশ্রয় না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ।





