fgh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

ষষ্ঠ শ্রেণিতে চার মাস পড়ে পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ১৬, ২০২৬ ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ । ২ জন

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা হয়নি দীর্ঘ ১৬ বছর। বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সেই পরীক্ষা আবার শুরু করার উদ্যোগ নেয়। ২০২৫ সাল থেকে তা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ না থাকায় আদালতে রিট করা হলে তা স্থগিত হয়ে যায়। সেই বৃত্তি পরীক্ষা অবশেষে গতকাল বুধবার শুরু হয়েছে।

তবে দীর্ঘ বিরতির পর বৃত্তি পরীক্ষা চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরলেও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন অনেক অভিভাবক। ডিসেম্বরের পরীক্ষা এপ্রিলে নেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের একটি বড় অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীরা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠে গেছে। নতুন পাঠ্যবইয়ে প্রায় চার মাস পড়াশশোনাও করেছে। অনেকের কাছেই পঞ্চম শ্রেণির বই-নোট কিছু নেই। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটেছে।

নতুন শ্রেণির পড়াশোনার সঙ্গে সমন্বয় করতে সমস্যার কথাও জানান অনেক অভিভাবক। তারা জানান, ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন পাঠসূচির কারণে শিক্ষার্থীরা এমনিতেই কিছুটা চাপে ছিল। এ ছাড়া বৃত্তি পরীক্ষার পরপরই বিদ্যালয়গুলোতে প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় চার মাস পর বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন শিশুদের ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গতকাল সকাল ১০টায় বাংলা বিষয় দিয়ে বৃত্তি পরীক্ষার সূচনা। চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬১ জেলায় একযোগে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান– এই তিন পার্বত্য জেলায় ভিন্ন সূচিতে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। সেখানে পরীক্ষা শুরু হবে শুক্রবার থেকে।

এ বছর পঞ্চম শ্রেণির মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে। বৃত্তি দেওয়া হবে দুটি ক্যাটেগরিতে– ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ। মেধা তালিকায় ছেলে ও মেয়েদের সমান (৫০ শতাংশ করে) হারে নির্বাচন করা হবে। মোট বৃত্তির ৮০ শতাংশ সরকারি এবং ২০ শতাংশ বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত।

সর্বশেষ ২০০৮ সালে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ২০০৯ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) চালু হওয়ায় আলাদা বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।

নীতিমালা সংস্কারের পরিকল্পনা
রাজধানীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, বৃত্তি নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। বৃত্তির পরিমাণ, প্রাপকের সংখ্যা, বিতরণ পদ্ধতি এবং বেসরকারি শিক্ষার্থীর জন্য বরাদ্দ– সব বিষয় নতুনভাবে নির্ধারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের আরও উৎসাহিত করতে বৃত্তি ব্যবস্থায় নতুন উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।