fgh
ঢাকাশনিবার , ২৮ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে নাসিমার জীবনযুদ্ধ নিষ্ঠুর পদ্মায়

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ২৮, ২০২৬ ১:১৫ অপরাহ্ণ । ৮৫ জন

২০১৩ সালের সেই ভয়াল ২৪ এপ্রিল। সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর তিন দিন ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন নাসিমা বেগম (৪০)। সেবার মৃত্যুকে জয় করে ফিরে এলেও শেষ রক্ষা হলো না এবার। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন অদম্য এই জীবনযোদ্ধা।

নিহত নাসিমা বেগম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নূর ইসলামের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অর্থকষ্টে দিন কাটছিল তার। জীবিকার তাগিদে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি চাকরির সন্ধানে ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাসায় যান। দীর্ঘ এক মাস চেষ্টা করেও চাকরি না হওয়ায় গত ২৫ মার্চ বিকেলে ফরিদপুর থেকে বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন তারা। কিন্তু সেই যাত্রাই যে জীবনের শেষ যাত্রা হবে, তা কে জানত!দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

বাসে নাসিমার সঙ্গে ছিলেন তার ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ৪ বছরের নাতি আব্দুর রহমান এবং ভাগনি জামাই আব্দুল আজিজ। দুর্ঘটনায় আব্দুল আজিজ অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরলেও নিখোঁজ হন বাকি তিনজন। দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে রাত সাড়ে ১১টায় নাসিমা, আজমিরা ও শিশু আব্দুর রহমানের নিথর দেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।নাসিমার মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেও যেন শেষ হচ্ছিল না নিয়তির নিষ্ঠুরতা। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাতে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়া পার হওয়ার সময় হঠাৎ চাকা ফেটে (ব্লাস্ট) আবারও দুর্ঘটনার মুখে পড়ে। তবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই মেরামত শেষে শুক্রবার ভোরে মরদেহগুলো গ্রামে পৌঁছায়। জুমার নামাজ শেষে পারিবারিক কবরস্থানে এই তিনজনকে দাফন করা হয়।

স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে চরম সংকটে ছিলেন নাসিমা। রানা প্লাজায় কাজ করার সময় তিন দিন আটকে থাকার পর উদ্ধার পেয়েছিলেন। সেই জীবনযুদ্ধ শেষ পর্যন্ত শেষ হলো নদীর পানিতে”, বলছিলেন নিহতের চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে নিহতের বাড়িতে ছুটে যান পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদ্দাম হোসেন। তিনি ব্যক্তিগত ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ নিহতের পরিবারের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছে এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে আসা সেই নাসিমা বেগমের লড়াই আজ শেষ হলো পদ্মা নদীর অতল গহ্বরে। তার এই প্রস্থান যেন মনে করিয়ে দিল—জীবন এক অনিশ্চিত পথচলা, যেখানে নিয়তির কাছে মাঝে মাঝে সব লড়াই অর্থহীন হয়ে পড়ে।