fgh
ঢাকাশনিবার , ২৮ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

আটলান্টিক গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করতে বিএনপির করণীয়

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ২৮, ২০২৬ ১:০৭ অপরাহ্ণ । ১৪ জন

বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে ক্ষমতায় আসে। নির্বাচনে ভোটাররা পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’কে দেশের নতুন সংবিধান হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন।

জুলাই সনদে প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নাগরিক অধিকার নির্ধারণ, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন ও নজরদারি প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ। নির্বাচনের সময়ে বিএনপি ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না করলে দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব হবে না।অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের ফ্রিডম অ্যান্ড প্রসপারিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, গত তিন দশকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি উদ্বেগজনক। ১৯৯৫ সালের পর থেকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক স্বাধীনতা হ্রাস পায়। বিশেষ করে ২০০০-এর দশকের শেষ থেকে আইনসভা ক্ষমতা ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় গুরুতর অবনতি ঘটেছে, যা দুর্নীতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নতুন সরকার এই পরিস্থিতি বদলাতে পারলে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, আইনশাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একসাথে অর্জন সম্ভব হবে। ফ্রিডম অ্যান্ড প্রসপারিটি ইনডেক্স দেখায়, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসন অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

নেপালের শিক্ষা: সংবিধান সংস্কারের কঠিন বাস্তবতা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন ইকুয়েডর, বলিভিয়া ও তিউনিসিয়া নতুন সংবিধান গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের জন্য নেপালের অভিজ্ঞতা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। নেপাল ২০১৫ সালে নতুন সংবিধান গ্রহণ করে এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চালু করে। প্রথমদিকে এটি গণতান্ত্রিক সাফল্যের উদাহরণ মনে হলেও ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, দুর্নীতি ও তরুণদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগের অভাবে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের কারণে সরকারের পতন ঘটে। বর্তমানে নেপালের নতুন সরকার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহ।

নেপালের উদাহরণ প্রমাণ করে, শুধু সাংবিধানিক অধিকার যথেষ্ট নয়, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের নতুন সরকারের অগ্রাধিকার
১. দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়া: বর্তমানে এটি একটি আইনি প্রতিষ্ঠান। সংবিধানিক মর্যাদা পেলে এটি কোম্পানি, ট্রাস্ট ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানা প্রকাশ নিশ্চিত করবে, রাজনৈতিক দলের অর্থায়ন স্বচ্ছ হবে এবং জনপ্রতিনিধিরা নিজের ও পরিবারের সম্পদের তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে বাধ্য হবেন।

২. জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রক্রিয়া পরিবর্তন: জুলাই সনদ অনুযায়ী অতীতে নির্বিচারে জরুরি অবস্থা জারি করা গণতন্ত্র ক্ষয় করার হাতিয়ার ছিল। নতুন প্রস্তাবে শুধু প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের পরিবর্তে মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও বিরোধী দলের তদারকি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার কমাবে এবং স্বচ্ছতা বাড়াবে।

উল্লেখ্য, নেপালের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বলা যায়, শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বাধীনতা বা আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট নয়। তরুণদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা কার্যকর রাখা জরুরি। গবেষণা দেখিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উদারীকরণ দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকা শক্তি। বিএনপি যদি সংবিধান সংশোধন, দুর্নীতি দমন এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণের সমন্বয় করতে পারে, তবে ভবিষ্যতের অস্থিরতা প্রতিরোধ করা সম্ভব এবং দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।