fgh
ঢাকামঙ্গলবার , ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

তেল সরবরাহে বাধার প্রতিবাদে ইউক্রেনে বিদ্যুৎ বন্ধ করল স্লোভাকিয়া

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ । ৩২ জন

ইউক্রেনের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করতে দেশটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে স্লোভাকিয়া। সোমবার এক ভাষণে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো। মূলত ঐতিহাসিক দ্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখায় কিয়েভের বিরুদ্ধে এই প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ব্রাতিসলাভা। ফিকো হুঁশিয়ারি দেন, যদি দ্রুত পাইপলাইনটি সচল না করা হয় তবে আগামীতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না তাঁর সরকার। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ নেওয়া একটি সাধারণ মূলনীতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।সোভিয়েত আমলে ১৯৬৪ সালে নির্মিত এই পাইপলাইনটি রাশিয়া থেকে ইউক্রেন ও বেলারুশ হয়ে হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও জার্মানিতে তেল পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম। গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ইউক্রেন তাদের অংশে এই পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। কিয়েভের দাবি, রুশ হামলায় পাইপলাইনটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং এটি যথাযথ মেরামত না করা পর্যন্ত তেল পরিবহন সম্ভব নয়। তবে মস্কো এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। অন্যদিকে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে পাইপলাইন বন্ধ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ‘ব্ল্যাকমেইলিং’ করার চেষ্টা চালাচ্ছে।দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা রাশিয়ার ক্রমাগত হামলায় বিপর্যস্ত। ফলে দেশটি বর্তমানে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর বিদ্যুতের জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গত দুই বছর ধরে স্লোভাকিয়ার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ কিনে চাহিদা মেটাচ্ছিল কিয়েভ। প্রধানমন্ত্রী ফিকো উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসেই ইউক্রেন প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ বিদ্যুৎ আমদানি করেছে। এমন এক সংকটকালীন মুহূর্তে সরবরাহ বন্ধের এই সিদ্ধান্ত কিয়েভকে চরম মানবিক ও প্রশাসনিক বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এই ইস্যুতে স্লোভাকিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে হাঙ্গেরিও। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার শ্চিজার্তো গত ২১ ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতিতে জানান, ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দকৃত ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১০ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের বিশাল ঋণ আটকে দিয়েছে তাঁর দেশ। হাঙ্গেরির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, দ্রুজবা পাইপলাইন পুনরায় সচল করা এবং তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই ঋণের অর্থ ছাড় করা হবে না। দুই নিকটতম প্রতিবেশীর এমন অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানে ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। মূলত ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই জ্বালানি যুদ্ধ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।