পাবনার বেড়ায় খাস আমিনপুর গ্রামে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে চারটি সুতা ডায়িং অ্যান্ড প্রসেস মিল। এসব প্রসেস মিলে ব্যবহৃত কেমিক্যাল মিশ্রিত তরল বর্জ্য পাইপের মাধ্যমে ফেলা হয় আত্রাই নদীতে। কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্যরে দুর্গন্ধ থাকে বারো মাস। তবে বর্ষা হলে বেড়ে যায় তার ভয়াবহতা। হুমকির মুখে কয়েকটি গ্রামের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য। এ বিষয়ে বরাবরই অভিযোগ থাকলেও প্রসাশন কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয় না বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার জাতসাখিনী ইউনিয়নের খাস আমিনপুরে অবস্থিত প্রসেস অ্যান্ড ডায়িং কারখানায় ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন করা হয়নি। মালিকরা পরিবেশ অধিদফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর সুতা প্রসেসসহ রঙের কাজ অব্যাহত রেখেছেন। আত্রাই নদীর পূর্বপাড়ে খাস আমিনপুরে এ বি এম কামরুল ইসলাম কাবুল মণ্ডল, সাবান মোল্লা, রফিকুল ইসলাম মোল্লা ও বাবু মোল্লার চারটি প্রসেস মিল অ্যান্ড ডায়িং কারখানা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া সুতা ডায়িং অ্যান্ড প্রসেস মিলে সুতায় বিভিন্ন ধরনের রঙ করা হচ্ছে। সুতা রঙের কাজে এসিড, কস্টিক সোডা, ব্লিচিং পাউডারসহ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অবিলম্বে এসব প্রসেস মিল অ্যান্ড ডাইং কারখানা জনবসতিহীন এলাকায় স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
প্রতিবছর বর্ষায় নদীতে আসা পানির সঙ্গে এসব বর্জ্য মিশ্রণের ফলে যেমন মানুষের মধ্যে ছড়ায় চুলকানি, ডায়রিয়াসহ নানাবিধ রোগ তেমনি মারা যায় লাখ লাখ টাকার মাছ। গতকাল শুক্রবার বর্জ্য মিশ্রিত এই পানি নদীতে ঘেরে ঢুকে মরতে শুরু করে মাছ। গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতে চাষ করা মাছ মরে ভেসে উঠেছে।
খাস আমিনপুর গ্রামের ফিরোজ, ফরিদ, বাবু, জিয়াসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, পানি এতটাই বিষাক্ত হয়ে যায় যে গোসল করা তো দূরের কথা সেই পানিতে কেউ নামলেই চুলকানিসহ বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি হয়। পানিতে সাপ ব্যাঙ ও মাছ মরে ভেসে উঠছে। মিল মালিক কাবুল মন্ডল ও প্রসাশনকে জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি না তারা।
মৎস ব্যবসায়ী ফিরোজ মিয়া বলেন, প্রতি বছর এখানে মাছ চাষ করি। গতকাল শুক্রবার থেকে শনিবার (২২ জুন) পর্যন্ত দুদিনে প্রায় ২০০ মণ বিভিন্ন ধরনের মাছ মারা গেছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এ বিষয়ে আমিনপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।
প্রসেস মিলের মালিক কাবুল মণ্ডলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে কথা হলে তিনি জানান, তিনি দেশের বাইরে আছেন। ফিরে কথা বলবেন বলে জানান।
বেড়া উপজেলা আবাসিক কর্মকর্তা (আরএমও) মাহমুদুল করিম রাজু জানান, ডায়িং অ্যান্ড প্রসেস মিলের তরল বিষাক্ত বর্জ্যরে কারণে ভূগর্ভস্থ পানিতে কলিফর্ম নামক জীবাণু জন্মায়। নলকূপের এই পানি খাওয়ায় মানুষ চর্মরোগ ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়। এছাড়া লিভার, কিডনি, ফুসফুস, হৃদযন্ত্রসহ নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়।
আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন-উর রশীদ বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোরশেদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমিও শুনেছি। গ্রামের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





