fgh
ঢাকাবুধবার , ২০ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

শিশুদের জন্য ১০ জেলায় যুক্ত হচ্ছে ভেন্টিলেটর

admin
মে ২০, ২০২৬ ২:২৩ অপরাহ্ণ । ১০ জন

দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ১০ জেলা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর (শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্র) যুক্ত হচ্ছে। পাশাপাশি ওইসব জেলায় থাকবে পাঁচটি করে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর।

দুই-এক দিনের মধ্যে এ সেবা চালু হবে। ফলে গুরুতর অসুস্থ হামে আক্রান্ত রোগীকে জেলা শহরেই উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
১০ হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল, সুনামগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও যশোরের ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল; মাদারীপুর, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল; মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল এবং শেরপুর জেলা হাসপাতাল।

দেশজুড়ে হাম প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অনেক জেলায় সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় গুরুতর রোগীকে ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে পথে অনেক শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
এদিকে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। দুই শিশুর মৃত্যুর কারণ হিসেবে হাম নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭৫ জনে। এর মধ্যে ৭৭ জনের মৃত্যুর ক্ষেত্রে হাম নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৪২ জেলার ৭৪টি সরকারি হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৩৭২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। অর্থাৎ এখনও ২২ জেলায় কোনো আইসিইউ নেই।

মোট আইসিইউ শয্যার ৭৫৮টিই ঢাকার ২২টি হাসপাতালে কেন্দ্রীভূত। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত কভিড-১৯ জরুরি প্রতিক্রিয়া ও মহামারি প্রস্তুতি প্রকল্পের আওতায় ২২ জেলায় ২৪০ শয্যার আইসিইউ স্থাপন করা হয়। যদিও এসব আইসিইউতে এতদিন পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর সুবিধা ছিল না।

গতকাল ঢাকার কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) আয়োজিত ১০ জেলা হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর ও পাঁচটি করে অক্সিজেন কনসেনট্রেটর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দুই-এক দিনের মধ্যেই ১০ জেলার হাসপাতালে পেডিয়াট্রিক ভেন্টিলেটর সেবা চালু হবে, যাতে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসা রোগীরা চিকিৎসা বঞ্চিত না হন। ঈদের এক সপ্তাহ পর আমরা তা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করব।

এদিকে স্বাস্থ্যকর্মী ও রোগীর নিরাপত্তায় দেশের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে সেন্ট্রাল ইমারজেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম বা ‘পাগলা ঘণ্টা’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রথম ধাপে রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরীক্ষামূলক এই ব্যবস্থা চালু হবে।

যদি কোনো চিকিৎসক বা রোগী হামলার শিকার হন, তাহলে ইমারজেন্সি অ্যালার্ম সিস্টেম বাজানো যাবে। তখন হাসপাতালে অবস্থানরত চিকিৎসক ও অন্যরা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসবেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মহাখালী এলাকায় বেশ কয়েকটি স্বাস্থ্য সংস্থা ও হাসপাতাল থাকায় সেখানে একটি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক ও হাসপাতাল প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সরকার এসব উদ্যোগ নিয়েছে।
সিএমএসডির পরিচালক মোহাম্মদ শফিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির উপপরিচালক ডা. তউহীদ আহমদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান, ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান, অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মুহাম্মদ রুমী প্রমুখ।

ঈদের পর টিকার দ্বিতীয় ক্যাম্পেইন 
কোরবানি ঈদের পর সারাদেশে হামের টিকার দ্বিতীয় ধাপের ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল বিকেলে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রমের এক যুগপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মাসিক চাহিদা অনুযায়ী সিরিঞ্জের কিছুটা সংকট রয়েছে। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান হবে। হামের টিকা নিয়ে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সারাদেশে ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

হামের চিত্র
গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে অনুযায়ী, মারা যাওয়া ১১ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেটে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ২ জন মারা গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে মারা গেছে।
২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬৪ জন। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১১৫ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ১ হাজার ১১০ জন।

একই সময়ে ৭৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। বিভাগভিত্তিক তথ্যে দেখা গেছে, ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ৫৪৪ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর চট্টগ্রামে ২৩০ জন এবং বরিশালে ১৪৭ জন। নিশ্চিত হাম শনাক্তের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগে সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি, ৫৪ জন।

বিশেষ নির্দেশনা

হামের রোগী বাড়ায় সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণসহ সরকারি হাসপাতালের জন্য পাঁচ দফা এবং বেসরকারি হাসপাতালের জন্য ছয় দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গতকাল আলাদা বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি ও বেসরকারি সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহজনক হাম রোগীর জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন চালু করতে হবে। আক্রান্ত রোগীকে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন অনুযায়ী, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শতাংশ শয্যা বিনা মূল্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সংরক্ষিত থাকার কথা। এর মধ্যে ৫ শতাংশ শয্যা হামে আক্রান্ত রোগীর জন্য নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালের জন্য নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে।

ছুটিসহ প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে রাউন্ড দিতে হবে। রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি দর্শনার্থী হাসপাতালে ঢুকতে পারবে না। পাশাপাশি ভর্তি রোগীদের তথ্য প্রতিদিন এমআইএস সার্ভারে আপলোড করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ঈদে ছুটিতে জরুরি বিভাগ, হাম ওয়ার্ড ২৪ ঘণ্টা খোলা

ঈদুল আজহার ছুটিতে সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখতে ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নির্দেশনায় জরুরি বিভাগ, লেবার রুম, আইসিইউ, ল্যাব, হাম ওয়ার্ড অ্যাম্বুলেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হামে আক্রান্ত রোগীর জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদের ছুটির সময় হাসপাতালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা; জরুরি বিভাগে প্রয়োজনে অতিরিক্ত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি লেবার রুম, ইমারজেন্সি অপারেশন থিয়েটার, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ও জরুরি ল্যাবসেবা চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবাও নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে, ঈদের সময় কোনো অবস্থাতেই অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রাখা যাবে না। রোগী রেফারের আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় রেফার কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।