fgh
ঢাকারবিবার , ৩ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
মে ৩, ২০২৬ ১২:১৩ অপরাহ্ণ । ২ জন

নতুন প্রজন্মের নেতেৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি চাই তোমরা খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশের হয়ে সারা পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব করবে। তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে।

পড়ালেখার পাশাপাশি সবাইকে খেলাধুলা করতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার তোমাদের পাশে আছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরাই। আমাদের সময় প্রায় শেষ। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, তোমাদেরকেই এগিয়ে নিতে হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন বড় খেলোয়াড় হবে, বড় মানুষ হবে, নেতা হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে।

খুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের… আজকের এই নতুন কুড়ি স্পোর্টস অনুষ্ঠানের… চিফ গেস্ট কারা? এই যে গ্যালারিতে ছোট বন্ধুরা বসে আছো তোমরা হচ্ছে আজকের অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট।
গতকাল শনিবার বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন। সিলেট স্টেডিয়ামেযুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়।

এতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এরপর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।
এর আগে, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিকেলে ৫টা ৮ মিনিটে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে সারাদেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।
শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে।

বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্য থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে। সারাদেশে ৩০ লক্ষ বাচ্চা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এসব বাচ্চাদের ভেতর থেকে প্রতিভাবানরা একদিন আমাদের দেশের জন্য বিদেশ থেকে স্বর্ণপদক জয় করবে, সুনাম বয়ে আনবে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থীসহ সারাদেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, তোমরাই এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কী পারবে?’
এই সময়ে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলেছে, ‘হ্যাঁ পারবো।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি তোমরা অবশ্যই সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।’
ছোট্ট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এই বাংলাদেশে তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে গড়ে উঠতে হবে।

তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।’নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে আসলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে আসলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর হবে আগের কথা, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে।

একদিন আমরা বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম, স্পোর্টস নিয়ে আমরা কি কি করব? বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।’
বক্তব্য শুরুর আগে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাড়ি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আটর্স সহ মোট ৮টি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।
বক্তব্যের শেষে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রাখেন।
সিলেটের বাসিয়া খালের পুনঃখনন উদ্বোধন:বাবা শহীদ প্রেডিসেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের এই বাসিয়া নদী সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত।
পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই যে বাসিয়ায় যে নদীটা আছে, এখানে যে খালটা— এটা সেই ৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খাল চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালটা আমরা আবারো কাটতে চাই।
বাসিয়া নদীর এই খাল আবারো কাটার কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল যদি আমরা কাটি, প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রথমত সরাসরি উপকার পাবে। এর বাইরে দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। যাদের জমি-জমা আছে এই খালের দুই পাশে, ফসল যে উৎপাদন হয়— প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।
তিনি আরো বলেন, শুধু এই খাল না, সারা বাংলাদেশে এরকম অনেক বাসিয়া খাল আমরা খনন করব। কারণ, আমরা যদি খালগুলো খনন করতে পারি, কৃষক ভাইদের জন্য সুবিধা হবে।
বিএনপির সরকার কৃষকবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন এসেছিলাম, তখন আমি বক্তব্যে বলেছিলাম— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কাজ শুরু করেছি টাঙ্গাইল থেকে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছি। তারপর এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব।
কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক, আমরা চাই গ্রামের মানুষরা ভালো থাকুক। গ্রামসহ সব মানুষই ভালো থাকুক। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। মেজরিটি মানুষ গ্রামে বসবাস করে, এজন্য এই মেজরিটি মানুষ যাতে দেশে ভালো থাকতে পারে সেটিই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য।

দেশের ৬০টি জায়গায় ইতোমধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় আমরা এই বাসিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে খাল খননের কাজ শুরু করলাম। এর মধ্যে দেশের অনেকগুলো জায়গায় প্রায় ৬০ টার মতো জেলায় এর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়ে গেছে। এই খাল খনন এবারই শেষ হবে না। এটা প্রায় ৪০ কিলোমিটার।

তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করব।তিনি বলেন, এই ২৩ কিলোমিটার খাল খনন করতে আমাদের দুটো শুকনো মৌসুম লাগবে। এই এখন শুরু হলো, কিন্তু এখন তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। এ বছর তো আর শেষ হবে না। কিন্তু এই বছর নভেম্বর থেকে আবার আমরা খাল খনন শুরু করবো। শুকনো মৌসুমটা শুরু হলে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা চেষ্টা করব এই ২৩ কিলোমিটার খাল সম্পূর্ণভাবে পুনঃখনন করতে। এর ফলে কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে।

একইভাবে এলাকার মানুষরা পানির সুবিধা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন নয়, এই খালের দুই পাশে ২৩ কিলোমিটারে আমরা ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করব। এর ফলে আমরা খালটাকেও ধরে রাখতে পারব। এলাকার মানুষরাও বসার জায়গা পাবে গাছের তলায়। পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব সেখানে বিভিন্ন ফলাদি গাছও রোপণ করতে, যাতে এলাকার মানুষ ফল-ফলাদি খেতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সরকারকে ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে, যেই সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে।

কারণ, আমাদের একমাত্র জবাবদিহিতা হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে, এই দেশের জনগণের কাছে। সেজন্যই আমরা সেই সকল কর্মসূচি পালন করতে চাই, সেই সকল কাজ আমরা করতে চাই— যেগুলোতে জনগণের উপকার হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা। এই সরকারের এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।

’দেশের বন্ধ কলকারখানা চালু হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি। এখন কাজ হচ্ছে, দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে, দেশে যে সকল কল-কারখানা বন্ধ আছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কল-কারখানাগুলো আমরা চালু করব।’
এ সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সিলেটের বাসিয়া নদীর এই খাল ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী এই বাসিয়া নদীটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এম এ মালেক,

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি ঊধ্ব©তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ উন্নত করা হচ্ছে:
গতকাল সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট রুটে সড়কের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি নির্বাচনী প্রচারের সময় এসে বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠনকরতে সক্ষম হলে সিলেট-ঢাকা সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দেব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।’
তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদনী ঘাট এলাকায় এ সমাবেশ শুরু হয়।
সড়কপথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়।

তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারব। একই সাথে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেয়া করতে পারবেন।
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।

তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সিলেটে শিল্প-কারখানা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম দিয়ে আমরা উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকেও গড়ে তুলতে পারব। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। তাইতো এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সকলের কাছে একটাই প্রত্যয়, একটাই স্লোগান ধারণ করতে হবে, তা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ সবার আগে বাংলাদেশ’।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।