fgh
ঢাকাসোমবার , ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

ট্রাম্পেরহুমকিতে মাথা নত করবে না ইরান, সমর্থকদের আহ্বান

admin
এপ্রিল ১৩, ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ । ৭ জন
প্রধান উপদেষ্টার ফাইল ছবি

ইরানের কর্তৃপক্ষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির সামনে মাথা নত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, ইরানের নৌবন্দরগুলোকে অবরোধ করে রাখা হবে। এই অবস্থায় ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধ শেষ করতে সমঝোতায় পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তারা তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা রাস্তাঘাটে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন—ইসলামাবাদে শনিবার অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ‘এই দফার আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।

’স্থানীয় সময় গতকাল রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী অবিলম্বে ‘ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জলসীমায় অবস্থিত হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে চাওয়া সব ধরনের জাহাজ অবরোধের প্রক্রিয়া শুরু করবে।

’ তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এখনো ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ অবস্থায় রয়েছে এবং ‘উপযুক্ত সময়েই’ ইরানকে ‘চূড়ান্তভাবে মোকাবিলা’ করবে।

ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শেষ করার মতো ওয়াশিংটনের মূল দাবিগুলোতে ইরানি প্রতিনিধিদল সম্মত হয়নি—এই বিষয়টিকে রোববার স্বাগত জানিয়েছে ইরানের কর্তৃপক্ষ। তারা এটিকে নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছে।

ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই ইসলামাবাদে যাওয়া প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা সরকারের সমর্থকদের অধিকার ‘রক্ষা করেছে।’ এসব সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যরাও, যারা টানা ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রতি রাতে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরের প্রধান চত্বর, সড়ক ও মসজিদে জড়ো হচ্ছে।

শনিবার রাতে যখন আলোচনায় প্রতিনিধিদলগুলো ব্যস্ত ছিল, তখন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্পেস ফোর্সের এক সদস্যকে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে পতাকা হাতে জড়ো হওয়া সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে দেখা যায়। তিনি সামরিক পোশাক ও পরিচয় গোপন রাখতে কালো মুখোশ পরা অবস্থায় বলেন, ‘শত্রু যদি না বোঝে, আমরা তাকে বোঝাব।’

তাঁর এ বক্তব্যে উপস্থিত জনতার মধ্যে উল্লাস দেখা যায়, যাদের কেউ কেউ আইআরজিসির পক্ষ থেকে আরও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি জানায়।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আরও দাবি করে, আলোচনা মাধ্যমে নিজের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, তেহরান নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ‘অতিরিক্ত দাবি’ই আলোচনার ব্যর্থতার কারণ। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাত্র এক দিনের আলোচনায় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা তাদের ছিল না।

ইরানের পার্লামেন্টের একাধিক আইনপ্রণেতা বলেছেন, আলোচনায় কোনো ফল না আসায় তারা সন্তুষ্ট। তাদের মতে, যুদ্ধে ইরানই এখন প্রাধান্য অবস্থানে রয়েছে। পার্লামেন্টের স্পিকারের ডেপুটি হামিদরেজা হাজি-বাদাই বলেন,

রাস্তায় অবস্থান নেওয়া সরকারপন্থী সমর্থকদের কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র বিষয় হলো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এমন একটি প্রস্তাব, যা যুক্তরাষ্ট্রের ‘আত্মসমর্পণ’ নির্দেশ করবে এবং ইরান ও তার নেতাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ তৈরি করবে।