fgh
ঢাকামঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

জনশক্তি সরবরাহ নাকি মানব পুঁজি উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ৭, ২০২৬ ১:১০ অপরাহ্ণ । ১৬ জন

শিক্ষাকে দীর্ঘকাল জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। দ্রুত নগরায়ণ, জনতাত্ত্বিক রূপান্তর এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক একীভূতকরণের মতো জটিলতার মাঝে চলছে দেশ।

এমন প্রেক্ষাপটে শিক্ষা ব্যবস্থা কী জনশক্তির দিকে মনোযোগ বাড়াবে নাকি মানব পুঁজির উন্নয়ন করবে—এ প্রশ্ন তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অবশ্য এ দুটো শব্দই সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু শব্দযুগলের তাৎপর্য ভিন্ন। জনশক্তি শ্রমবাজারের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটানোর জন্য কর্মী সরবরাহের উপযোগিতাকে জোর দেয়।

অন্যদিকে মানব পুঁজি ব্যক্তিকে সমাজ ও অর্থনীতিতে অর্থবহ অবদান রাখার মতো জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও অভিযোজন ক্ষমতার বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেয়। এ সূক্ষ্ম ফারাক অনুধাবন করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে জনশক্তিকেন্দ্রিক সংকীর্ণতা থেকে বেরুতে হবে। ভাবতে হবে মানব পুঁজির উন্নয়নের কথা। এভাবে শিক্ষার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মতো দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় আকাঙ্ক্ষা মেটানো অনেকটাই সহজ হবে।বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে, বিশেষত উত্তর-ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোয় জনশক্তির ধারণাটি ব্যাপক মনোযোগ পেতে শুরু করে।

শিক্ষাকে তখন শিল্প ও আমলাতান্ত্রিক সম্প্রসারণের জন্য কর্মী তৈরির সাধারণ প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হতো। এভাবে জনশক্তি পরিকল্পনাতে প্রায়ই শিক্ষাকে নির্দিষ্ট পেশাতে কর্মী সরবরাহের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে দেখা শুরু হয়। অর্থাৎ কর্মীর দক্ষতা এবং কর্মকাণ্ডের গুণগত মানের তুলনায় নির্দিষ্ট খাতে কর্মী সংখ্যার ওপর বেশি জোর দেয়া হয়। কিন্তু এ ধারণার বিপরীতে থিওডোর শুলৎজ এবং গ্যারি বেকারের মতো অর্থনীতিবিদরা মানব পুঁজি তত্ত্ব শিক্ষাকে বিনিয়োগ হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তারা দেখান উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও সামাজিক গতিশীলতা নিশ্চিতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। মানব পুঁজিতে কারিগরি দক্ষতাই প্রধান নয়, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, সৃজনশীলতা এমনকি নাগরিক চেতনাও অন্তর্ভুক্ত। আধুনিক অর্থনীতির জটিল ধরন এবং গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় এগুলো অপরিহার্য গুণাবলি। বাংলাদেশের জন্য এ পার্থক্যটুকু তাই বোঝা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। জনশক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এমন স্নাতক শিক্ষার্থী তৈরি ঝুঁকি থাকে যারা তাৎক্ষণিকভাবে কর্মসংস্থান গড়ে নিতে পারবেন।

তবে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং নাগরিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে পুরোপুরি অপ্রস্তুত থাকেন। অন্যদিকে মানব পুঁজিভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষাকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক এ দুই ধরনের উন্নয়নের সঙ্গে ব্যক্তিকে অভিযোজন সক্ষম করার রূপান্তরকারী শক্তি হিসেবে দেখে।

ঐতিহাসিকভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা জনশক্তি ও মানব পুঁজি—এ দুটো আলাদা ধারণার কেন্দ্রিকতার দোটানায় ভুগেছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রথম কয়েক দশকে সাক্ষরতার প্রসার ঘটানো হয়। মূলত শিল্পায়ন ও জনপ্রশাসনকে সহযোগিতা করার মতো কর্মশক্তি গড়ার বিষয়টি এখানে প্রাধান্য পায়। তারো আগে জনশক্তি ঘাটতি মেটাতে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়।

তবে এ শিক্ষা পদ্ধতির মান ছিল নিম্ন এবং এর পরিধিও ছিল সীমিত। পরবর্তী সময়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর নানা সুযোগ তৈরি হয়। এগুলোতে মানব পুঁজি উন্নয়নের দিকে দেশের যাত্রার ইঙ্গিত মিলে। তার পরও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিদ্যায়তনে মুখস্থনির্ভর পাঠ্যসূচি রয়েছে। এমনকি কারিকুলামও সময়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

শহর ও গ্রামীণ শিক্ষা অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার মধ্যেও রয়েছে বৈষম্য। কর্মসংস্থানযোগ্য স্নাতক তৈরি এবং সামগ্রিক মানব পুঁজির বিকাশের ক্ষেত্রে এজন্য টানাপড়েন রয়েছে, যা নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে বিতর্কই বারবার উসকে দিচ্ছে। যারা জনশক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার পক্ষাবলম্বন করেন তাদের যুক্তি, এ মুহূর্তে শ্রমবাজারের চাহিদা পূরণ করাই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ নেয়ার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এছাড়া প্রবাসী আয়ের সম্ভাবনার কথা ভাবলেও জনশক্তির গুরুত্ব অনেক। প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে জিডিপি প্রবৃদ্ধির বড় সম্ভাবনাকে টিকিয়ে রাখার দূরদর্শিতা এখানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এ দৃষ্টিকোণের নিরিখে শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে একীভূত হওয়ার মতো দক্ষ কর্মী গড়ার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হয়। তবে এ পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

জনশক্তি উন্নয়ন স্বল্পমেয়াদি চাহিদা পূরণ করলেও তা দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় অগ্রগতির জন্য অপর্যাপ্ত। এটি স্বল্প-দক্ষ ও স্বল্প-বেতনের কর্মসংস্থানকে স্থায়ী করার ঝুঁকি তৈরি করে। এভাবে দেশ শ্রম-নিবিড় শিল্পের ওপর নির্ভরশীলতার চক্রে আবদ্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। আবার এ উন্নয়ন জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য অপরিহার্য গুণাবলি অর্থাৎ সৃজনশীলতা, উদ্ভাবন এবং নেতৃত্বের বিকাশকে উপেক্ষা করে।

জনশক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থা প্রায়ই শিক্ষাকে শুধু প্রশিক্ষণে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। গণতান্ত্রিক সমাজকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বৃহত্তর নাগরিক ও সাংস্কৃতিক দিকগুলোকে উপেক্ষা করে। অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির আধুনিকায়ন গোটা বিশ্বের শ্রমবাজারকে রাতারাতি পালটে দিচ্ছে। গতানুগতিক দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল কাজের চাহিদা কমছে। অভিযোজনযোগ্য, উদ্ভাবনী এবং আন্তঃশাস্ত্রীয় দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে। এ পরিবর্তনের মুখে একটি জনশক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থা অপ্রচলিত হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এখানেই মানব পুঁজি উন্নয়নের গুরুত্ব দেখা দেয়।

নব পুঁজি উন্নয়ন দেশের অর্থনীতির জন্য একটি অধিকতর টেকসই ও রূপান্তরমূলক রূপকল্প প্রদান করে। মানসম্মত শিক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশ এমন একটি কর্মশক্তি গড়ে তুলতে পারে, যা শুধু কর্মসংস্থানের যোগ্যই নয়, বরং উদ্ভাবনী, সহনশীল ও নাগরিক সম্পৃক্ত। মানব সম্পদ উন্নয়ন শুধু শিক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দেখে না

বরং অর্থবহ শিখনফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জটিল সমস্যার সমাধান ও উদ্ভাবনে সক্ষম করে তোলে। আবার প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট গতিশীল শ্রমবাজারের জন্য স্নাতকদের প্রস্তুত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়। এ দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার এবং অবশেষে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার মতো বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গেও সংগতিপূর্ণ।বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা মানবসম্পদের গুরুত্বকে তুলে ধরে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ কোরিয়া এবং সিঙ্গাপুর মানবসম্পদে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে তাদের অর্থনীতিকে রূপান্তরিত করেছে। দেশগুলো উদ্ভাবন, গবেষণা এবং আজীবন শিক্ষার ওপর জোর দেয়। তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা অভিযোজন ক্ষমতা এবং সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটিয়ে জ্ঞান-নিবিড় শিল্পের উন্নতি করতে সক্ষম করেছে।

বিপরীতে, যে দেশগুলো জনশক্তিকেন্দ্রিক মডেলে আবদ্ধ ছিল, তারা প্রায়ই স্বল্প-দক্ষতা ও স্বল্প বেতনের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসতে হিমশিম খেয়েছে এবং এখনো সে অবস্থায় আটকে আছে। বাংলাদেশও একই পরিণতির ঝুঁকিতে রয়েছে, যদি না শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানব পুঁজি উন্নয়নের দিকে পুনর্নির্দেশিত করা যায়। এও সত্য, জনশক্তি থেকে মানব পুঁজি উন্নয়নে রূপান্তর প্রতিবন্ধকতামুক্ত নয়। প্রথমেই থাকে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা।

অপর্যাপ্ত তহবিল, শিক্ষক সংকট, সেকেলে পাঠ্যক্রম এবং শহুরে ও গ্রামীণ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বৈষম্য। অধিকন্তু মুখস্থ বিদ্যার প্রাধান্য এবং পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষণ পদ্ধতি সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনাকে ক্ষুণ্ন করে। আর্থসামাজিক চাপও সংস্কারকে জটিল করে তোলে। পরিবারগুলো প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি মানব পুঁজি বিকাশের চেয়ে তাৎক্ষণিক কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেয় এবং নীতিনির্ধারকরা স্বল্পমেয়াদি শ্রমবাজারের চাহিদা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নমূলক লক্ষ্যের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন।

এ প্রতিবন্ধকতাগুলো মোকাবেলার জন্য পাঠ্যক্রমের নকশা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং শাসন কাঠামোতে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন।জনশক্তি ও মানব পুঁজির মধ্যকার দোলাচল নিরসনে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি ভারসাম্যপূর্ণ অথচ দূরদর্শী কৌশল অনুসরণ করা জরুরি। এক্ষেত্রে পাঠ্যক্রমে মুখস্থ বিদ্যা নয় বরং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, উদ্যোক্তা মনোভাব, সৃজনশীলতা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধকে গুরুত্ব দিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের শ্রমবাজারের জন্য প্রাসঙ্গিক ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন নিশ্চিত করতে বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণকে সমন্বিত করতে হবে। শিক্ষকদের ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন করতে হবে। এমনকি শেখানোর পদ্ধতিকে আধুনিকায়ন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। আবার শিক্ষা খাতে অঞ্চলভিত্তিক কাঠামোগত ও লৈঙ্গিক বৈষম্য দূর করতে হবে। মানসম্মত শিক্ষায় সবার সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রসার সহজ হবে। ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা শিক্ষার সুযোগকে গণতান্ত্রিক করে তুলতে এবং শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল অর্থনীতির চাহিদা পূরণের জন্য প্রস্তুত করতে পারে।

সাশ্রয়ী সংযোগ, ই-লার্নিং প্লাটফর্ম এবং ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচিকে স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে শেখার পদ্ধতির সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। নীতিমালায় অবশ্যই বয়স্ক শিক্ষা, বৃত্তিমূলক পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত প্রেক্ষাপটের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম নমনীয় শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে ক্রমাগত দক্ষতা উন্নয়নকে উৎসাহিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারত্ব শিক্ষাকে শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পারে। সহযোগিতামূলক কর্মসূচি, ইন্টার্নশিপ এবং ফলিত গবেষণা নিশ্চিত করবে যেন স্নাতকরা তাত্ত্বিক জ্ঞান ও প্রায়োগিক জ্ঞান উভয় ক্ষেত্রেই পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

এ সংস্কারগুলো বাংলাদেশকে তাৎক্ষণিক জনশক্তির চাহিদা মেটাতে সক্ষম করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় বৃহত্তর মানব পুঁজি গড়তে সহযোগিতা করবে। একটি সমন্বিত কর্মসূচি হিসেবে এ সংস্কারগুলো বাংলাদেশকে এমন একটি স্থিতিশীল, উদ্ভাবনী এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মশক্তি গড়ে তোলার জন্য প্রস্তুত করবে।

বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে মানব পুঁজির তৈরির দিকে চালিয়ে দেশটি তার জনতাত্ত্বিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে, জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে এবং গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারে। শুধু কর্মী নয়, ভবিষ্যতে ন্যায়সংগত, পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষম দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলার বিষয়েও শিক্ষার সুফল থাকতে হবে।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান: অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়