fgh
ঢাকাবুধবার , ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

একটি দল স্বৈরাচারের ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে

অনলাইন ডেস্ক
জানুয়ারি ২৮, ২০২৬ ২:০২ অপরাহ্ণ । ২ জন

জামায়াত ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, এই মুহূর্তে একটি রাজনৈতিক দল পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের ভাষায় বিএনপির বিরুদ্ধে কথা বলছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ময়মনসিংহে নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

তিনি বলেন, গত ১৫ বছর দেশের মানুষ ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। ভোটের অধিকার না থাকায় জনগণের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, রাস্তাঘাটের সমস্যার সমাধান হয়নি। যদি ভোটের অধিকার থাকতো তাহলে জনগণের সমস্যার সমাধান হতো। মানুষ চায় অসুস্থ হলে তারা যেন সময়মতো চিকিৎসা সুবিধা পায়। মানুষ মৌলিক অধিকারগুলোর নিশ্চয়তা চায়।

তারেক রহমান বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ওই দলের দুজন সংসদ সদস্য পদত্যাগ না করে পুরো মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যা প্রমাণ করে বিএনপি দুর্নীতিকে সমর্থন করে না।

তিনি বলেন, তারা বলে—বিএনপি ছিল দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন। আমার প্রশ্ন, ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত তাদের দুজন সদস্য তো বিএনপি সরকারের অংশ ছিল। যদি বিএনপি এতটাই খারাপ হতো, তাহলে ওই দুইজন কেন পদত্যাগ করলেন না? কেন তারা সরে দাঁড়ালেন না?

তিনি বলেন, তারা পদত্যাগ করেননি, কারণ সরকারের ভেতরে যারা ছিলেন,

তারা খুব ভালোভাবেই জানতেন, খালেদা জিয়া দুর্নীতিকে সমর্থন করতেন না।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০১ সালে খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে মারাত্মক দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। যে দলটি বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তারা নিজেদের নেতাদের সম্পর্কেই মিথ্যা প্রমাণ করছে। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত তাদের দুজন সদস্য সরকারে থাকা মানেই তারা নিজেদের লোকজন সম্পর্কে কত বড় মিথ্যা বলছে, সেটাই প্রমাণ হয়’, যোগ করেন তিনি।

জনসভায় উপস্থিতিদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশ পরিচালনা করতে একটি রাজনৈতিক দল জনগণের জন্য কী করবে, তার সঠিক পরিকল্পনা থাকতে হবে। বিএনপির অভিজ্ঞতা রয়েছে। কীভাবে গ্রাম অঞ্চলে রাস্তাঘাট করতে হয়, চিৎকার মানোন্নয়ন করতে হয়, বাংলাদেশের মানুষকে কীভাবে নিরাপদ রাখতে হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কীভাবে কঠোর হাতে নিরাপদ রাখতে হয়, কীভাবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে হয়।’

চিকিৎসাসেবার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘ময়মনসিংহের বড় সমস্যা চিকিৎসাব্যবস্থা। বিশেষ করে শিশুরা এবং মা-বোনদের অনেক চিকিৎসার সমস্যা বেশি। ঘরে বসে তারা যেন চিকিৎসা পেতে পারেন, সে জন্যই আমরা চিকিৎসাব্যবস্থা উন্নত করতে চাই। হেলথ কেয়ারে চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।’

সব জেলায় অসংখ্য খাল রয়েছে উল্লেখ কলে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে খালগুলো পুনঃখনন করে দেওয়া হবে। আগামী ১২ তারিখ ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়যুক্ত করলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে খাল খনন শুরু করা হবে।’

এ সময় ১২ ফেব্রুয়ারি তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করে সবাইকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। পরে তিনি বিভাগের ২৪টি আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের জনসভায় পরিচয় করিয়ে দেন।

এদিন ২২ বছর পর ময়মনসিংহে আসেন তারেক রহমান। সকাল থেকে নেতা-কর্মীরা জনসভায় যোগ দিতে নগরীতে আসেন দলে দলে। ঢাকঢোল পিটিয়ে মিছিল করে অংশগ্রহণ করেন জনসভায়। বেলা আড়াইটার দিকে তারেক রহমানের মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি মঞ্চে ওঠেন ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে। মঞ্চে উঠে নেতা-কর্মী ও জনসভায় আগতদের অভিবাদন জানান। এ সময় নেতা-কর্মীরা তারেক রহমানের আগমন শুভেচ্ছার স্বাগতম স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন জনসভাস্থল।

ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করছেন—বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান সরকার, উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম—আহ্বায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার।

তারেক রহমান মঞ্চে ওঠার আগে ময়মনসিংহ বিভাগের ২৪টি আসনের ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। প্রার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইকবাল হোসেন, সুলতানা আহমেদ বাবু, মোতায়ের হোসেন বাবু, মাহমুদুল হক, ফরিদুল কবির তালুকদার, সিরাজুল হক, মাহবুব রহমান লিটন, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলু, লৎফুরজ্জামান বাবর।

বক্তব্যে প্রার্থীরা নিজেদের মধ্যকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। তারা স্লোগান দেন— ‘নৌকা গেছে ভারতে, ধানের শীষ গদিতে’