ঢাকারবিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হিরো আলম জিরো, ফখরুলের স্বপ্নভঙ্গ

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৩ ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ । ৬৯ জন
ওবায়দুল কাদের শান্তি সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন

আগামী নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থাকার প্রত্যয় আওয়ামী লীগের। রাজপথে থেকে এ সময়ে কোনো অপশক্তি বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করার ঘোষণাও দিয়েছে আওয়ামী লীগ। গতকাল শনিবার সারাদেশে বিভাগীয় সদরদপ্তরসহ বিভিন্ন জেলায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শান্তি সমাবেশে এ ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের নেতারা।

বিভাগীয় শহরের বিভিন্ন স্থানে বড় জমায়েত করে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশের বিপরীতে জবাব দিতেই এই কর্মসূচি নেয় ক্ষমতাসীন দলটি। দলটির সহযোগী সংগঠনগুলো সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে শান্তি সমাবেশের মাধ্যমে শোডাউন করে।

রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট, গাজীপুর, ফরিদপুর, বরিশাল, রংপুর, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী, খুলনাসহ বিভিন্ন স্থানে শান্তি সমাবেশ করে ক্ষমতাসীন দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো। এসব সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশগ্রহণ করে আগামীতেও বিএনপি ও সমমনা দলগুলোকে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।

এরই কর্মসূচির আওতায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, নৈরাজ্য, অপরাজনীতি ও দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কামরাঙ্গীরচর সরকারি হাসপাতাল মাঠে শান্তি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিপক্ষ তো নরম হয়ে গেছে। আন্দোলনের খেলায় তো পরাজিত হয়ে গেছেন। এখন বাকি আছে নির্বাচন। নির্বাচনে ফাইনাল খেলা হবে। দুর্বল প্রতিপক্ষ চাই না, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ চাই। নির্বাচন ফেয়ার হবে।

বিএনপিকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের রঙিন খোয়াব দেখতে পারেন; কিন্তু এ স্বপ্ন কোনোদিনও পুরণ হবে না। বিএনপি গণঅভ্যুত্থানের কথা বলে, অথচ গণআন্দোলনই করতে পারল না। গণঅভ্যুত্থান করবে কবে? কোন বছর? এখন বলবে আগামী নির্বাচনের পর।

বিএনপি জাতীয় সংসদকে খাটো করতে বগুড়ায় উপনির্বাচনে হিরো আলমকে প্রার্থী করেছিল মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব বললেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে হিরো আলমকে হারানো হয়েছে। হায়রে মায়া! হিরো আলমের জন্য এত দরদ উঠল তার। তিনি ভেবেছিলেন, হিরো আলম জিতে যাবে; কিন্তু হিরো আলম এখন জিরো হয়ে গেছে। হিরো আলমকে বিএনপি নির্বাচনে দাঁড় করিয়েছে। তারা সংসদকে ছোট করার জন্য হিরো আলমকে প্রার্থী করেছে। অবশেষে ফখরুলের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির কাছে ক্ষমতা দেওয়া মানে আলো থেকে অন্ধকারে যাওয়া। আমরা বিএনপির পাল্টাপাল্টি কোনো কর্মসূচি দিচ্ছি না। তারা কর্মসূচি করছে নয়াপল্টনে, আমরা করছি কামরাঙ্গীরচরে। পাল্টাপাল্টি হলে তো বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে করতাম।

বিএনপিকে পাত্তা দেওয়ার কিছু নাই মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনো পাল্টাপাল্টি নয়, কিন্তু আগামী নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিদিনই আমাদের কোনো না কোনো কর্মসূচি থাকবে। বিএনপির পদযাত্রা নিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তাদের পতনযাত্রা শুরু হয়েছে। বিএনপির ভুয়া দাবির সঙ্গে জনগণ নেই। তাদের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীও কমে যাচ্ছে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম ও ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফ প্রমুখ।

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, কত যাত্রা দেখাইলেন! কত কথা কইলেন! পরিষ্কার করে বলি- কামরাঙ্গীরচরের মানুষ কিন্তু অত্যন্ত পরিষ্কার। সজাগ। ত্যাগী নেতা। তারা যদি একবার রাস্তায় নেমে যায়, বিএনপির খোঁজ পাওয়া যাবে না।

কামরুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন হবে। কোনো ধরনের অসাংবিধানিক সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা কোনো অনির্বাচিত সরকার আর বাংলাদেশে আসবে না।

হানিফ বলেন, এরা সংবিধান মানে না। এরা দেশের আইন মানতে পারে না। তারা কোনো কিছু মানতে চায় না। আমরা সমাবেশ থেকে বিএনপির নেতাদের বলে দিতে চাই, আগামী সংসদ নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হবে। ভোট বর্তমান সরকারের অধীনে হবে। নির্বাচন কমিশন সেই নির্বাচন পরিচালনা করবে।

অপরদিকে সিলেটের চৌহাট্টার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ষড়যন্ত্রের পথ ছেড়ে গণতান্ত্রিক পথে আসুন। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেলে এর ফল ভালো হবে না।

স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামায়াতে ইসলামের সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিএনপি বারবার বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে দাবি করে আওয়ামী লীগের এ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, তারা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর ষড়যন্ত্র করছে। তাদের নৈরাজ্য আর অগ্নিসন্ত্রাসের কথা মানুষ ভুলেনি। আর তাই দেশের রাজনীতি থেকে এই দুটি দলকে তারা ঘৃণা ভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রামেও অনুষ্ঠিত হয় শান্তি সমাবেশ। নগরীর নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে নূর আহমদ সড়কে সমাবেশ করে বিএনপি। অন্যদিকে, নূর আহমদ সড়ক থেকে এক কিলোমিটার দূরে নগরের আন্দরকিল্লা চত্বরে শান্তি সমাবেশ করে নগর আওয়ামী লীগ।

শান্তি সমাবেশে, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক নয় শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিহত করবে।

বিএনপিকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথে নেমেছে, আগামী নির্বাচনে বিজয় ছাড়া ঘরে ফিরবে না। নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে বিএনপিকে প্রতিহত করা হবে।

এদিকে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শিববাড়ী মোড়ে শান্তি সমাবেশ হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক, শ্রম ও কর্ম সংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক সমাবেশে যোগ দেন।

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগর ভবনের সামনের সড়কে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে শান্তি সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কে এম জাহাঙ্গীর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ছিলেন।

রংপুরের সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম ও সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় সদস্য হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়া ও সফুরা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

একইভাবে রাজশাহী, ময়মনসিংহ, লক্ষ্মীপুরসহ প্রায় প্রতিটি বিভাগীয় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।