ঢাকামঙ্গলবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  • অন্যান্য

মিঠামইনে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করলেন প্রেসিডেন্ট

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৩ ৬:০০ পূর্বাহ্ণ । ১০৩ জন
মিঠামইনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দুই যুগ পর কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে আজ সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে মিঠামইনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসে অবতরণ করেন তিনি। পরে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস এর উদ্বোধন ও পতাকা উত্তোলন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করবেন। সেনানিবাসের কর্মসূচি শেষে মিঠামইন সদরের কামালপুরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পৈতৃকবাড়িতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিপ্যাড মাঠের সুধী সমাবেশে বক্তৃতা করবেন। অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে নিজবাড়িতে বরণ করে নিতে একদিন আগে গতকাল বিকালে মিঠামইনের বাড়ি পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ। আজ দুপুরে তিনি তার বাসভবনে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেবেন। তবে মিঠামইনে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি চলাকালে প্রেসিডেন্ট কামালপুর গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করবেন। সুধী সমাবেশ শেষে আজ বিকালে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে মিঠামইন ছেড়ে যাবেন। অন্যদিকে পাঁচদিনের সফরে প্রেসিডেন্ট কামালপুর গ্রামের বাড়ি থেকে আগামীকাল বুধবার করিমগঞ্জ হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে যাবেন।

সেখান থেকে শুক্রবার (৩রা মার্চ) বিকালে তিনি হেলিকপ্টারযোগে বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে কিশোরগঞ্জ ছেড়ে যাবেন।

 

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকে ঘিরে হাওরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে, যেন উচ্ছ্বাস-আনন্দে ভাসছে হাওর। এরই মধ্যে সুধী সমাবেশের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে কেন্দ্র করে কেবল হাওরের তিন উপজেলা নয় জেলা শহরসহ জেলার ১৩টি উপজেলাতেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর সুধী সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করার টার্গেটে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হাওরের তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে প্রেসিডেন্টপুত্র রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি’র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ব্যাপক জনসমাগমকে টার্গেট করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে তার সংসদীয় এলাকার দুই উপজেলা বাজিতপুর ও নিকলী থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কিশোরগঞ্জ-৩ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী শিল্পপতি এরশাদ উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর সমাবেশকে সফল করার লক্ষ্যে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অসংখ্য সভা, সমাবেশ, ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ করেছেন তিনি। সমাবেশের একদিন আগেই গতকাল এরশাদ উদ্দিনের নেতৃত্বে করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলার কয়েক হাজার নেতাকর্মী ট্রলারযোগে মিঠামইনে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। এছাড়া যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরাও প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে উজ্জীবিত। অন্যদিকে জেলা শহর থেকে হাওরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়াঘাট ও বালিখোলা পর্যন্ত স্থানে স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ছবিসম্বলিত সুদৃশ্য সব তোরণ। সড়কপথ ছাড়াও নদীপথে বিপুল সংখ্যক ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় যোগদান করতে পারেন।

 

প্রেসিডেন্টের বড় ছেলে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক জানিয়েছেন, আজ দুপুরে মিঠামইন উপজেলা সদরের কামালপুরে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের পৈতৃকবাড়িতে অতিথি হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রেসিডেন্টের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীগণ। মধ্যাহ্নভোজের মেন্যুতে থাকবে হাওরের প্রায় সব প্রজাতির মাছ। এছাড়া মেন্যুতে থাকবে অষ্টগ্রামের বিখ্যাত পনির।

রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক এমপি বলেন, দুই যুগ পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ হাওরে আসছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদৌলতে গত ১০ বছরে হাওরের ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সাবমার্চেবল সড়ক, ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম অলওয়েদার সড়ক এবং এই তিন উপজেলার সদর থেকে ইউনিয়নগুলো পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। হাওরের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলাদা একটি দৃষ্টি ছিলো বলেই এমন অভাবনীয় উন্নয়ন আমরা লাভ করেছি। স্বভাবতই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে উনাকে আমরা হাওরের এই যুগান্তকারী পরিবর্তনটা দেখাবো। হাওরবাসী যে কী আনন্দিত, কী উচ্ছ্বসিত, সেটি আমরা উনাকে বুঝাতে চেষ্টা করবো। উনার কাছে আমাদের কোন দাবি-দাওয়া নেই। উনি আমাদেরকে যা দিয়েছেন, এটার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেই শেষ করতে পারবো না। উনি আমাদেরকে শুধু একনজর দেখে যাবেন, এটিই আমাদের দাবি, আর কিছু নয়।