ঢাকাশনিবার , ৯ ডিসেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

বগুড়ায় পানিতে ডুবলো কৃষকের স্বপ্ন

শুভজিৎ সারকার
ডিসেম্বর ৯, ২০২৩ ১১:১১ পূর্বাহ্ণ । ৫৪ জন

বগুড়ায় শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের খিকিন্দা পূর্ব পাড়া গ্রামে কামাল আহাম্মদ  নামের এক কৃষকের ৩ বিঘা জমিতে লাগানো সদ্য আলু এখন পানির নিচে।
জানা যায়,গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে কে বা কারা শত্রুতামূলক ভাবে জমির পাশেই থাকা অটো সেচ পাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি দেয়। এতে বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ১লাক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক মানিক আহাম্মদ।
ক্ষতিগ্রস্ত মানিক আহাম্মদ বলেন,আজ সকালে (বুধবার) এলাকাবাসী আমাকে ফোন দিয়ে বলে আমার জমিতে ক্ষতির উদ্দেশ্যে কে বা কার পানি দিয়ে ভরিয়ে দিয়েছে। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে আমি জমিতে এসে দেখি, জমি পানিতে পরিপূর্ণ,আলুর বীজ পানির নিচে ডুবে গিয়েছে।
পরে তিনজন কৃষক কে নিয়ে সারাদিন যাবত জমিতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করি।
এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহমানকে জানালে তিনি সশরীরে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেন বলেন, কৃষকের উপর এমন অন্যায়ের তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা দেয়।
তিনি আরোও বলেন,,আমি একজন সাধারণ শিক্ষক, অনেক কষ্টে টাকা জমিয়ে আলু চাষ করেছিলাম। কে বা কারা এই ক্ষতি করেছে আমার জানা নেই। কারও সাথে আমার পূর্ব শত্রুতাও নেই। এই জমি আমার পৈতৃক সূত্রে পাওয়া। গত ২০ বছর যাবত এই জমি বেল্লাল মিয়া নামক এক ব্যক্তির কাছে বরগা দেওয়া ছিল। যখন থেকে আমি এই জমি নিজেই চাষাবাদ করছি তখন থেকে নানা ভাবে আমি বাধা প্রাপ্ত এবং হুমকির শিকার হচ্ছি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কামাল আহাম্মদ ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসীর সহযোগিতা কামনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি মানবিক সুদৃষ্টি কামনা করেন।
সেচ পাম্প মালিকের ছেলে মুকুল মিয়া জানান,মঙ্গলবার সারাদিন যাবত তার চাচাতো ভাই নিজ আলুর জমিতে সেচ দিয়ে সেচ পাম্প বন্ধ করে সন্ধ্যায় কারেন্টের বোর্ড রেখেই চলে যান। তাদের অগোচরে রাতের আঁধারে কোন এক সময়ে দুর্বৃত্তরা পাশের জমির ফসল ক্ষতির উদ্দেশ্যে সেচ পাম্প চালু করে দিয়ে চলে যায়। পরে সকালে খবর পেয়ে তিনি এসে সেচ পাম্প বন্ধ করে।
তিনি আরো বলেন, যারা এ অমানবিক কাজ করছে তাদের আইনানুগ শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুসুম্বী ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম পান্না বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 প্রতিবেশী জমির মালিক কৃষক মোকসেদ আলী বলেন, গত বছর তার মরিচের জমিতেও কে বা কারা বিষাক্ত ঔষধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার ফসল নষ্ট করেছিল।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন, পুকুরে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ মেরে ফেলা, খরের পালায় আগুন দেওয়া, এমন ঘটনা এই এলাকায় প্রায়সয় ঘটে থাকে।
একাবাসীর দাবি যারা এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাচ্ছে,মানুষের ক্ষতি করছে, তাদের দ্রুত সনাক্ত করে আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দেওয়া হোক।