ঢাকাবুধবার , ২৬ এপ্রিল ২০২৩
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বগুড়ায় ডাকঘরে ডাকাতি ও অফিস সহায়ককে খুন

admin
এপ্রিল ২৬, ২০২৩ ১:০৫ অপরাহ্ণ । ৪৫ জন
বগুড়া ডাকঘর

বগুড়া শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথায় প্রধান ডাকঘরে খুনসহ ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে। প্রধান ডাকঘরের পরিদর্শক (শহর) মহিদুল ইসলাম সোমবার রাতে সদর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

রোববার রাতে মুখোশধারী ডাকাতরা গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে মাথায় আঘাত করে অফিস সহায়ক প্রশান্ত কুমার আচার্য্যকে হত্যার পর ভল্ট কেটে প্রায় আট লাখ টাকা নিয়ে যায়।

সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বাবু কুমার বিশ্বাস জানান, খুন ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ ও পোস্ট অফিস সূত্র জানায়, বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেজোড়া উত্তরপাড়ার রামকৃষ্ণ আচার্য্যের ছেলে প্রশান্ত কুমার আচার্য্য (৪৮) প্রধান ডাকঘরে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিলেন। নৈশপ্রহরী ঈদের ছুটিতে যাওয়ায় তাকে বরাবরের মতো ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়। রোববার রাতের কোনো এক সময় মুখোশধারী ডাকাতরা পেছনের গ্রিল কেটে প্রধান ডাকঘরে ঢোকে। তারা ডাকাতিতে বাধা পেয়ে বারান্দায় নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে থাকা অফিস সহায়ক প্রশান্ত আচার্য্যকে মাথায় আঘাতে হত্যা করে। এর পর তারা ভোল্টের কিছু অংশ কেটে ফেলে।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে প্রধান ডাকঘরে ডাকাতি ও অফিস সহায়ককে হত্যার ঘটনা টের পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে গ্রিল কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে।

সদর থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। ডাকাতরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় রোববার রাত সাড়ে ৩টার পর থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে এর আগের ফুটেজে মুখোশ পরিহিত একজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়।

সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল ইসলামের উপস্থিতিতে ডাকঘর কর্তৃপক্ষ ভোল্টের টাকা হিসাব করেন। এতে ৪৩ লাখ টাকার মধ্যে আট লাখ টাকা কম পাওয়া যায়। ভোল্টের কাটা অংশ দিয়ে টাকাগুলো বের করে নেওয়া হয়েছে। সোমবার রাতে প্রধান ডাকঘরের পরিদর্শক সদর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ খুনের মামলা করেন।

ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল রাকিব বিশ্বাস ও অন্যরা জানান, স্থায়ী আমানত, সাধারণ হিসাব, সঞ্চয়পত্র, পেনশন, রেভিনিউ ও ডাকটিকিট বিক্রির সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ভল্টে রাখতে পারেন। প্রতিদিন আদায়ের টাকা পরদিন ব্যাংকে জমা করা হয়। তবে ঈদের ছুটির কারণে ভল্টে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ছিল।

নিহত প্রশান্ত কুমার আচার্য্যের ছেলে জয়ন্ত কুমার আচার্য্য জানান, তার বাবা রোববার রাতে খাওয়া শেষে সাড়ে ১০টার দিকে ডাকঘরে ডিউটিতে যান। সোমবার সকালে কাকা গোবিন্দ আচার্য্যের কাছে তার বাবার মৃত্যুর খবর পান।

বড় ভাই পরেশ আচার্য্য দাবি করেন, তার ভাইকে অফিসের অনেকে পছন্দ করতেন না। এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যার ঘটনা চাপা দিতে ডাকাতির নাটক সাজানো হয়েছে। আর অফিসের ওইসব ব্যক্তিকে গ্রেফতার করলেই প্রশান্ত হত্যাকাণ্ড ও অর্থ খোয়ানোর ঘটনা পরিষ্কার হবে।

ছোট ভাই ডাকঘরের অপর অফিস সহায়ক গোবিন্দ আচার্য্য জানান, ঈদের কারণে নৈশপ্রহরীরা ছুটিতে যাওয়ায় প্রতি বছরের মতো প্রশান্তকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সোমবার সকালে অফিসে এসে বাহিরের গেট বন্ধ পাওয়া যায়। ভাইয়ের খোঁজ পাচ্ছিলেন না। দেওয়াল ডিঙ্গিয়ে এক ঝাড়ুদার ভিতরে গেলে ভাইকে বারান্দায় পড়ে থাকতে দেখেন।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) বাবু কুমার বিশ্বাস জানান, মামলার পর এ খুন ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে তাদের একাধিক টিম মাঠে রয়েছে। বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে তাদের তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লুণ্ঠিত টাকাও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।