ঢাকামঙ্গলবার , ১৬ মে ২০২৩
  • অন্যান্য

পাকিস্থানের প্রধান বিচারপতি পদত্যাগের দাবি শাসক গোষ্ঠীর

অনলাইন ডেস্ক
মে ১৬, ২০২৩ ৩:৪০ অপরাহ্ণ । ৫৪ জন
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্থানের প্রধান বিচারপতি উমার আতা বান্দিয়ালের পদত্যাগ দাবি করেছে পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট (পিডিএম)। বান্দিয়ালের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তিনি পিটিআই প্রধান ইমরান খানকে ‘অযৌক্তিক’ সুবিধা দিয়ে আসছেন। এর জন্য তার পদত্যাগ দাবি করেছে শাসক গোষ্ঠী। পাশাপাশি তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি আদালত অবমাননার দায়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বান্দিয়ালকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। এ খবর দিয়েছে ডন।

খবরে বলা হয়, বহুদলীয় এই শাসক জোট ইসলামাবাদের রেড জোনে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। সেখান থেকে তারা প্রধান বিচারপতি বান্দিয়ালকে টার্গেট করে একের পর এক বিবৃতি দিয়ে গেছে। পুরো দিন কর্মসূচি পালনের পর পিডিএম প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমানের আহবানে আদালত প্রাঙ্গন ত্যাগ করে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা। তবে এসময় সেখানে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। ফলে এই অবস্থান কর্মসূচি আইন লঙ্ঘন করেছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
ভাষনে পিডিএম প্রধান মাওলানা ফজল প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বান্দিয়াল সাহেব আপনি গত এক মাস ধরে ভুল পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন। আপনি হয়ত প্রধানমন্ত্রীকে অযোগ্য ঘোষণা করবেন।

অথচ প্রধানমন্ত্রী সংবিধান রক্ষা করেছেন। যদি সরকারের বিরুদ্ধে কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়, আমরা জাতীয় পরিষদ এবং প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষা করবো। আর আপনি বিপদে পড়বেন। তখন কে আপনাকে বাঁচাতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, আদালত যদি প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্ত তৈরি করতে থাকে, আমরা তা সৈহ্য করবো না। আদালত পাঞ্জাব থেকে সাবেক মুখমন্ত্রী হামজা শেহবাজকে সরিয়ে দিয়েছে এবং পারভেজ এলাহির সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে। আমরা আপনাকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু আমরা আপনাকে আর জনগণের রাজনীতিবিদ এবং পার্লামেন্টকে অপমানিত করতে দেব না।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান চালাবেন দেশের পার্লামেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। প্রধান বিচারপতির যদি রাজনীতি করতে ইচ্ছা করে তিনি পার্লামেন্ট ভবনে আসেন না কেনো! এসময় সেখানে বক্তব্য রাখেন পিডিএম নেতা মরিয়ম নওয়াজও। তিনিও কঠিন ভাষায় প্রধান বিচারপতিকে আক্রমণ করেন। টেলিভিশনে তাদের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। তাদের আক্রমণাত্মক ভাষণের কারণে প্রায়ই তাদের কথা সেন্সর করছিল চ্যানেলগুলো।

এর আগে ধারণা করা হচ্ছিল যে, হয়ত আরও চার-পাচ দিন ধরে এই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবে পিডিএম। তবে একদিনের বেশি অবস্থান অব্যাহত রাখতে চায়নি নেতারা। যদিও পিডিএম নেতা মাওলানা ফজল হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আদালত থেকে যদি আবারও ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তাহলে সমর্থকরা আবারও ফিরে আসবে। তিনি প্রধান বিচারপতি বান্দিয়ালকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি যদি ঠিক সিদ্ধান্ত না নেন, তাহলে আমরা আবারও ফিরে আসবো। তখন আপনি না, আমরাই সিদ্ধান্ত নেব। আমরা বিচার বিভাগের সম্মান ফিরিয়ে আনতে চাই। বিচার বিভাগের সম্মান এত উপরে যে আপনার মতো দুই-চার জনকে সরিয়ে দিলে কোনো পার্থক্য পড়বে না।
এদিকে মরিয়ম নওয়াজ তার ভাষণে প্রধান বিচারপতি বান্দিয়ালের পদত্যাগ দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি হয়ে তিনি ইমরান খানের সাহায্যকারীতে পরিণত হয়েছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানজুড়ে পিটিআই’র সহিংস আন্দোলনের কথা তুলে মরিয়ম বলেন, এ কারণেই আমরা এখনই নির্বাচন দিতে চাই না। এই ফিতনার মধ্যে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতে পারে না। ভাষণের মধ্যে মরিয়ম সমর্থকদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন যে, তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের পক্ষে কিনা? জবাবে সম্মিলিত জনতা ‘হ্যা’ বলে প্রতিধ্বনি তোলে। মরিয়ম বলেন, এই বিচারকরাই পাকিস্তানকে ধ্বংস করতে ‘উল্লেখযোগ্য ভূমিকা’ রেখেছে।
এদিকে, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে ১২১ টির কাছাকাছি মামলা ঝুলছে। এরপরেও জামিন নিয়ে জেলের বাইরে আছেন তিনি। এরমধ্যে সবথেকে আলোচিত আল-কাদির ট্রাস্ট মামলা ও তোশাখানা মামলায় জামিন পেয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে পাক সুপ্রিম কোর্টকেই টার্গেট করেছে দেশটির সরকার। বহু আগে থেকেই পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে ইমরান খানকে বেশি ছাড় দেয়ার অভিযোগ রয়েছে শেহবাজ প্রশাসনের। তবে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির জাতীয় পরিষদ। এতে বান্দিয়ালের বিরুদ্ধে রেফারেন্স দাখিলের জন্য সোমবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস হয়। পাকিস্তানের নিম্নকক্ষে অধিবেশন চলাকালীন এই প্রস্তাব পাশ করা হয়। এই প্রস্তাব পাশ করার আগেই পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, পার্লামেন্টকে নিজের অবস্থান রক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের একটি অংশ দুর্নীতির মামলায় পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানকে ‘নজিরবিহীন ছাড়’ দিচ্ছে।