ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
  • অন্যান্য

কিলার ভাগ্নে রাজিব গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক:
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৪ ৩:৩৩ অপরাহ্ণ । ২৫ জন

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বাবা, মা ও মেয়েকে গলা কেটে হত্যা মামলার আসামি রাজিব কুমার ভৌমিক (৩৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত রাজিব উল্লাপাড়া তেলিপাড়া গ্রামের মৃত বিশ্বনাথ ভৌমিকের ছেলে ও নিহত বিকাশ সরকারের আপন ভাগ্নে। হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন তাড়াশ পৌর এলাকার শোলাপাড়া মহল্লার বিকাশ সরকার (৪৫), বিকাশের  স্ত্রী স্বর্ণা রানী সরকার (৩৮) ও মেয়ে তাড়াশ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী পারমিতা সরকার তুষি (১৫)। গতকাল সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডল এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়- হত্যাকারী রাজিব কুমার  ভৌমিক (৩৫) নিহত বিকাশ সরকারের আপন ভাগ্নে। নিহতের বোন প্রমীলা রানীর ছেলে। রাজিবের বাবা মারা যাওয়ার পর ২০২১ সাল থেকে মামা বিকাশ চন্দ্র সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে খাদ্যশস্য কেনাবেচার ব্যবসায় যুক্ত হয়। বিকাশ ভাগিনা রাজিব কুমার ভৌমিককে ব্যবসার পুঁজি হিসেবে ২০ লাখ টাকা প্রদান করেন। ব্যবসা চলমান থাকাকালীন রাজিব কুমার ভৌমিক তার মামাকে বিভিন্ন ধাপে ব্যবসার লভ্যাংশসহ প্রায় ২৬ লাখ টাকা ফেরত দিলেও চলতি বছরে এসে রাজীবের কাছে তার মামা বিকাশ অতিরিক্ত ৩৫ লাখ টাকা দাবি করেন। বিকাশ গত ২২শে জানুয়ারি দাবিকৃত টাকা ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে ভাগিনাকে  ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেয় এবং টাকার জন্য রাজিব ও  বোনকে ফোনে অনেক বকাবকি করে। এতে রাজিব টাকা ম্যানেজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় মামার বকাবকিতে তার মামাসহ পুরো পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা করে।

২৭শে জানুয়ারি বিকাল পৌনে ৫টার দিকে মামা বিকাশ সরকারকে ফোন করে পাওনা টাকা দিতে বাসায় আসতে চায়।

এ সময় বিকাশ চন্দ্র সরকার তাড়াশের বাইরে থাকায় টাকা নিয়ে বাসায় এসে মামীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাসাতেই থাকতে বলেন। পরে রাজিব কুমার বাসায় মামার অনুপস্থিতির সুযোগে মামী এবং মামাতো বোন তুষিকে হত্যার পরিকল্পনা করে। এ সময় রাজিবকে কফি খাওয়ানোর জন্য মামী সন্ধ্যাকালীন পূজা শেষে বাসার নিচে  দোকানে গেলে রাজিব ব্যাগে করে আনা লোহার রড দিয়ে তার মামাতো বোন পারমিতা সরকার তুষির মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেললে হাঁসুয়া দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এর মধ্যে মামী কফি কিনে বাসায় ফিরলে মামী স্বর্ণা সরকারকেও একইভাবে গলা কেটে হত্যা করে। তাদেরকে হত্যার কিছুক্ষণের মধ্যে মামা বাসায় ঢুকলে তাকেও রড দিয়ে আঘাত করে এবং গলা কেটে হত্যা করে লাশ টেনে নিয়ে বেডরুমে রাখে। পরে রুমে তালা দিয়ে রাজিব উল্লাপাড়া নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। যাওয়ার পথে হত্যায় ব্যবহৃত লোহার রড একটি পুকুরে ফেলে যায় এবং রক্তমাখা হাঁসুয়াসহ ব্যাগটি নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়।

জেলা পুলিশ সুপার মো. আরিফুর রহমান মণ্ডল আরও জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন এবং আসামি গ্রেপ্তারে সিরাজগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সামিউল আলমের নেতৃত্বে উল্লাপাড়া সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার অমৃত কুমার সূত্রধর, সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. জুলহাজ উদ্দীন, জেলা গোয়েন্দা শাখার সমন্বয়ে ২০ সদস্যের একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হওয়ায় ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদ্‌?ঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। এ ছাড়া হত্যায় ব্যবহৃত আলামত জব্দ করা হয়।