ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৬ মার্চ ২০২৩
  • অন্যান্য

ইভিএম নিয়ে বাইরে গেলেন নৌকার অনুসারী

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ১৬, ২০২৩ ৩:১৭ অপরাহ্ণ । ১৯৮ জন
উপনির্বাচনে ইভিএম ব্যালেট ইউনিট বাইরে নিয়ে যান যুবলীগের কর্মী। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে এ ঘটনা ঘটে । ছবি: সংগৃহীত ।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে একটি কেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যালেট ইউনিট বাইরে নিয়ে বের হয়ে গেলেন এক যুবলীগের কর্মী। ৮৬ নম্বর জ্যেষ্ঠপুরা রমনীমোহন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ইউনিটটি নিয়ে তিনি রাস্তায় বসানো নৌকার ক্যাম্পে চলে যান। এমন ঘটনায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাসহ ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা হতবাক।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে কেন্দ্রটির ৫ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রথম আলোর এই প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ইউনিট নিয়ে যাওয়া ব্যক্তির নাম নির্মলেন্দু দে। তিনি ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা। তাঁর গলায় ঝুলছিল নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম ওরফে রাজা মিয়ার ছবি সংবলিত ব্যাজ। শার্টের পেছনে লুকিয়ে তিনি ইউনিটটি নিয়ে বাইরে চলে যান।

গোপনকক্ষ থেকে ব্যালট ইউনিট প্যানেলটি নিয়ে যাওয়ার সময় সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ সেখানে ছিলেন। তাঁরা এ সময় মৃদু প্রতিবাদ করলেও তা শোনেননি ওই যুবলীগের নেতা। এরপর সাংবাদিকেরা তাঁর পিছু নিলে ইউনিটটি নিয়ে তিনি ক্যাম্পে চলে যান। এরপর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রতন চৌধুরী ওই যুবলীগ নেতার কাছ থেকে ইউনিটটি নিজের হেফাজতে নিয়ে ফেলেন। পরে তিনি ইভিএম ব্যালট প্যানেলটি নিয়ে কেন্দ্রে ফেরত দিয়ে আসেন। কেন্দ্রটিতে নৌকা ছাড়া অন্য দুই প্রার্থীর কোনো এজেন্ট ছিল না।

পরে তা প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে বুঝিয়ে দেন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রটির প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সজল দাশ বলেন, কীভাবে ভোট দেবে, তা দেখিয়ে দেওয়ার জন্য এই প্যানেল রাখা হয়েছিল। এটি একটা নমুনা প্যানেল।

বাইরে নিয়ে যাওয়ার ছবিসহ দেখানো হলে সজল দাশ বলেন, ‘কীভাবে বাইরে গেল আমার জানা নেই। এটা বাইরে নিয়ে যাওয়া অপরাধ। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।’

বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে ইভিএম ব্যালেট ইউনিট বাইরে নিয়ে বের হয়ে গেলেন এক যুবলীগের কর্মী।

 

পরে ৫ নম্বর কক্ষে গিয়ে সজল দাশ কীভাবে প্যানেলটি বাইরে গেল ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করেন। তখন ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তারা বলেন, জোরপূবর্ক এটা নিয়ে চলে যান একজন।

কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় নির্মলেন্দু দে ও রতন চৌধুরী বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ বিষয়ে কিছু না লেখার অনুরোধ করেন তাঁরা। জানতে চাইলে রতন চৌধুরী বলেন, ‘ওটা ভোটারদের দেখিয়ে দেওয়ার জন্য ভুল করে সুমন নিয়ে আসেন। আমি বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে তা ফেরত দিয়ে আসি।’

নির্মলেন্দু দে বলেন, ‘এটা আমি ভোটারদের দেখিয়ে দেওয়ার জন্য এনেছিলাম। এটা নিয়ে লেখালেখির কী দরকার।’

এর আগে একই কেন্দ্রের ৪ নম্বর কক্ষে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম গোপন কক্ষে ভোটারদের সঙ্গে ঢুকে বাটন টিপে দিচ্ছেন। ছবি তোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি বের হয়ে যান। এরপর তিনি কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যান।

জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ব্যালট ইউনিট বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য উপনির্বাচনে রেজাউল করিমের পাশাপাশি অপর দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেন—শাহজাদা এস এম মিজানুর রহমান ও কাজী আয়েশা ফারজানা। শেষ দুজনের প্রতীক যথাক্রমে আনারস ও দোয়াত কলম।