ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
  • অন্যান্য
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইউরোপে লিফট কিনতে যাচ্ছেন ৯ কর্মকর্তা

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৩ ৭:০২ পূর্বাহ্ণ । ৫৯ জন
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

সরকারের একটি প্রকল্পের জন্য লিফট কিনতে ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ড যাবেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ৯ কর্মকর্তা। দেশটির লিফট নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ‘কোনি এলিভেটরস লিমিটেড’ নামের প্রতিষ্ঠান থেকে এসব লিফট কিনবে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আগে প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনের জন্য ওই কর্মকর্তারা ফিনল্যান্ডে যাবেন। তবে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো প্রকৌশলী নেই এই তালিকায়। গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে পাঠানো তালিকা বলছে, যেসব প্রকৌশলী লিফট কিনতে ফিনল্যান্ডে যাচ্ছেন, তারা কেউ-ই প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নন। এমনকি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগেরও কোনো প্রকৌশলী নেই। যাতায়াতের সময় ছাড়া লিফট কিনতে যাওয়া এই দলটি ফিনল্যান্ডে থাকবে এক সপ্তাহ। চলতি মাসেই তাদের যাওয়ার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের নথি সূত্রে জানা যায় ,  ঢাকার আশকোনায় র‌্যাব হেড কোয়ার্টারের নির্মাণকাজ চলছে। এরই মধ্যে রয়েছে ১০ তলা ব্যারাক ভবন, ১২ তলা ব্যাচেলর কোয়ার্টার ভবন, ৮ তলা এমটি শেড, ১০ তলার এক হাজার স্কয়ার ফিটের কোয়ার্টার, ১০ তলার আটশ স্কয়ার ফিটের কোয়ার্টার, ১০ তলার ছয়শ স্কয়ার ফিট কোয়ার্টার। পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পয়ঃনিষ্কাশন, পানি ব্যবস্থাপনাসহ নানা কাজ যুক্ত থাকবে। জানা যায়, ইতোমধ্যে এসব প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষের পথে। এখন বাকি লিফট বসানোর কাজ। সেই লিফটের প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনের জন্যই এই কর্মকর্তারা ফিনল্যান্ড যাচ্ছেন।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) নন্দিতা রাণী সাহা স্বাক্ষরিত এক নথিতে বলা হয়, বাংলাদেশি এজেন্ট মজিদ সন্স কর্তৃক র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের মালপত্র সরবরাহ করার নিমিত্তে ফিনল্যান্ডে (ফ্যাক্টরি কোন এলিভেটরস লি.) প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়েছে।  প্রোগ্রামে গণপূর্তের পাঁচজন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ও র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের তিনজনসহ মোট ৯ জন কর্মকর্তা অংশ নেবেন। গণপূর্ত অধিদপ্তরের পাঁচ কর্মকর্তার মধ্যে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট চারজন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজনসহ নিম্নবর্ণিত পাঁচ কর্মকর্তাকে ফিনল্যান্ড সফল ও মনোনয়নের অনুমতি প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে নাম প্রস্তাব করা হলো। প্রস্তাবকৃত প্রকৌশলীরা হলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (রিজার্ভ) আবু জাফর মুহাম্মদ শফিউল হান্নান, গণপূর্ত প্রকল্প বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফুল ইসলাম, মহাখালী গণপূর্ত বিভাগের (চলতি দায়িত্ব) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমান উল্লাহ সরকার, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মাশফিক আহমেদ এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি ।

তবে তথ্য বলছে, পরিদর্শনে যাওয়ার জন্য গণপূর্তের কাছে প্রতিনিধি নির্বাচনের চিঠি দিয়েছে প্রকল্প পরিচালক। এতে বলা আছে, প্রকল্পে লিফট স্থাপনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকবে–এমন কাউকে নির্বাচন করতে হবে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে আবু জাফর মুহাম্মদ শফিউল হান্নান, লতিফুল ইসলাম, আমান উল্লাহ সরকার ও মাশফিক আহমেদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে, আবু জাফর মুহাম্মদ শফিউল হান্নান ছাড়া কেউ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নন। যদিও ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল বিভাগ লিফট স্থাপনের কাজ করবে; কিন্তু শফিউল হান্নান সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের। সেই হিসেবে লিফট স্থাপনের সঙ্গে যুক্ত থাকবে এমন একজন প্রকৌশলীও এই প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনের জন্য নির্বাচন করা হয়নি।

গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে পাঠানো চিঠিতে আরও একটি দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, যে চারজনের নাম প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশনে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে তারা কেউ-ই গত এক বছরে বিদেশ ভ্রমণ করেননি। তবে সূত্র বলছে, এই প্রকৌশলীদের মধ্যে একজন গত বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করে এসেছেন। চিঠিতে আরও বলা হয়, এই ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বহন করবে বিধায় সরকারের কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা থাকবে না। বর্ণিত কর্মকর্তাদের সফরে সরকারি কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। তাদের বহিঃবাংলাদেশ অবস্থানকালীন স্থানীয় ব্যবস্থায় কাজ চালিয়ে নেওয়া হবে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার  বলেন, এ ক্ষেত্রে দুটি উদ্দেশ্যে রয়েছে, প্রথমত ওখান থেকে যে জিনিসগুলো আসবে, তার স্পেসিফিকেশন ঠিক আছে কিনা! দ্বিতীয়টি, প্রি-শিপমেন্ট ইন্সপেকশন। স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সেটা বুঝে নেওয়া। প্রজেক্টগুলো নির্দিষ্ট করে ডিস্ট্রিবিউট করা হয় না। কারও কাছে দুটি, আবার কারও কাছে একটি–এমনভাবে প্রজেক্ট দেওয়া হয়। গণপূর্ত ক্যাডার সার্ভিস ডিপার্টমেন্ট। আজ কেউ হয়তো এক জায়গায় আছে, পরে অন্য জায়গায় চলে যাবে। সবাই যেন সুযোগটা ঠিকমতো পায়।

এই প্রকৌশলী আরও বলেন, বিদেশ ভ্রমণের মাধ্যমে তাদের জ্ঞানের পরিধি বাড়ে। একজন প্রকৌশলী যখন বড় একটি কোম্পানির উৎপাদন থেকে শুরু করে কোয়ালিটি এবং স্পেসিফিকেশনগুলো দেখতে পান, তখন জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। আমাদের পুরো ডিপার্টমেন্ট নিয়ে চিন্তা করতে হয়। এর পরও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট যারা থাকে তাদের দেওয়ারই চেষ্টা করি। একটি প্রজেক্টের সঙ্গে অনেক বিভাগ থাকে। সিভিল, ইএম, ডিজাইন, মনিটরিং, আর্কিটেক্ট যুক্ত থাকে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই দিতে হয়। এর পরও অন্য  কাউকে পাঠানো হয়ে থাকলেও সমস্যা নেই, তারও জ্ঞানার্জনের দরকার আছে।

সবদিক বিবেচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় উল্লেখ করে শামীম আখতার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে একজন একটা প্রজেক্টে বিদেশ যায়, আবার তার আন্ডারে আরও প্রজেক্ট থাকে। সেখানেও যদি বিদেশ যেতে হয়, তখন আমরা পরিবর্তন করে দিই। পরিবর্তন না করলে একজন বেশি সুযোগ পায়, অন্যরা আবার পায় না।