ঢাকারবিবার , ২ জুন ২০২৪
  • অন্যান্য

আবাসিক হোটেলে সন্তানের শিরচ্ছেদ,স্ত্রী গলাকেটে হত্যা:সেনা সদস্য গ্রেফতার

রুমানা আমিন:
জুন ২, ২০২৪ ৬:০৩ অপরাহ্ণ । ১৩৫ জন
বগুড়ায় আবাসিক হোটেলে স্ত্রী সন্তানকে গলাকেটে হত্যা করে এক সেনা সদস্য: ফাইল ছবি।

বগুড়ায় আবাসিক হোটেলে স্ত্রী সন্তানকে গলাকেটে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে পালানোর সময় রোবার সকাল ১১ টার দিকে আটক করা হয়েছে আজিজুল হক (২৪) নামের এক সেনা সদস্যকে। সে বগুড়ার ধুনট উপজেলার হেউটনগর গ্রামের হামিদুল হকের ছেলে। তিনি সেনা সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে কর্মরত আছেন। তার স্ত্রী আশামনি (২২) বগুড়া শহরের নারুলী তালপট্টি এলাকার আসাদুল ইসলামের মেয়ে। আশামনি ও ১১ মাস বয়সী সন্তান আব্দুল্লাহেল রাফীকে গলাকেটে হত্যার পর সন্তানের মাথা করতোয়া নদীতে ফেলে দেয়। পরে পুলিশ আজিজুলকে সাথে নিয়ে করতোয়া নদীতে তল্লাশী চালিয়ে শিশুটি মাথা উদ্ধার করে।

শুভেচ্ছা আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার রবিউল ইসলাম জানান, শনিবার রাত ৯ টার দিকে আজিজুল নিজেকে মিরাজ এবং তার স্ত্রীকে তমা এবং তাদের বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ পরিচয় দিয়ে হোটেলের ৩০১ নম্বর কক্ষ ভাড়া করেন।

রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে আজিজুল হক রুমে ছেড়ে দিবে বলে ভাড়া পরিশোধ করতে চান।এসময় হোটেলের ম্যানেজার তার স্ত্রী সন্তান কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন তারা সকালে চলে গেছেন। এসময় ম্যানেজার রুম দেখে বুঝে নেয়ার কথা বললে আজিজুল হক স্ত্রী- সন্তানকে হত্যার কথা স্বিকার করলে তাকে আটক করে থানায় খবর দেন হোটেল ম্যানেজার।

এদিকে আশামনির বাবা আসাদুল জানান, তিন বছর আগে আজিজুল হকের সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। মেয়ে সন্তান প্রসবের আগে থেকেই বাবার বাড়িতে বসবাস করে। জামাই দুই মাসের ছুটিতে বাড়ি আসে। রবিবার তার কর্মস্থলে চলে যাওয়ার কথা ছিল। বৃহস্পতিবার জামাই আজিজুল নারুলীতে শ্বশুরবাড়ি আসেন। সেখানে দুই দিন থাকার পর শনিবার বিকেলে স্ত্রী সন্তান নিয়ে শহরে মার্কেট করার জন্য বের হয়।

রাত ১০ টার দিকে আজিজুল হক ফোন করে তার শ্বশুরকে জানান, রাত ৮ টার দিকে তিনি স্ত্রী সন্তানকে নারুলী যাওয়ার জন্য রিক্সায় তুলে দেন। কিছুক্ষনপর থেকে স্ত্রীর ফোন বন্ধ পাচ্ছেন। পরদিন রবিবার সকালে আসাদুল তার মেয়ের সন্ধান চেয়ে শহরে মাইকিং করার ব্যবস্থা করেন এবং সদর থানায় জিডি করতে গেলে বনানীতে হোটেলে মা এবং সন্তানের লাশ উদ্ধারের খবর পান। এদিকে পুলিশ হোটেলে পৌঁছে সেনা সদস্য আজিজুল হককে হেফাজতে নেয়ার পর তিনি পুলিশের কাছে স্ত্রী সন্তানকে হত্যার কথা স্বিকার করেন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরাফত ইসলাম বলেন, রাতে যেকোন সময় আজিজুল তার স্ত্রী ও সন্তানকে গলা কেটে হত্যার পর লাশ বস্তাবন্দী করে কক্ষের বাথরুমে রাখে এবং ছেলের মাথা বিচ্ছিন্ন করে সকালে করতোয়া নদীতে ফেলে দেয়। তিনি আরো বলেন, কক্ষ থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি রাম দা এবং একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আজিজুল হক পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে তার স্ত্রী- সন্তানকে হত্যা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আজিজুল হক বলেছেন দাম্পত্য কলহের কারনে তিনি স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করেছেন। এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।