fgh
ঢাকাশনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

১২৩ কেন্দ্রে বিএনপি, ৬টিতে জামায়াত প্রার্থীর বেশি ভোট

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ১১, ২০২৬ ২:৪২ অপরাহ্ণ । ৮ জন

শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী) আসনের নির্বাচনে ১২৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১২৩টিতেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে বড় ব্যবধানে বেশি ভোট পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল)। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান (মাসুদ) মাত্র ৬টি কেন্দ্রে বেশি ভোট পেয়েছেন। অপর প্রার্থী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মিজানুর রহমান এক কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২৬ ভোট পেয়েছেন। অনেক কেন্দ্রে তিনি একটি ভোটও পাননি। রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে ভোটের এ চিত্র পাওয়া গেছে।

এতে আরও দেখা গেছে, একই আসনের এক কেন্দ্র থেকে আরেক কেন্দ্রের ভোট পড়ার দিক থেকেও বড় ব্যবধান রয়েছে। এ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের খুব একটা ভিড় দেখা না গেলেও একটি কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৮৬.০১ শতাংশ ভোট পড়েছে। অপরদিকে একটি কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ৩২.৩০ শতাংশ ভোট পড়ে। ১২৯টি ভোটকেন্দ্রে গড় ভোট পড়ার হার ৫২.১৯ শতাংশ।

নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক (রুবেল) এক লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ১৯ হাজার ৬৬ ভোট বেশি পেয়েছেন। এ নিয়ে তিনি চতুর্থবার সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলেন। আর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান ৪৭ হাজার ৫১ ভোট পেয়েছেন। যদিও এ নির্বাচনে অনিয়ম ও পোলিং এজেন্ট বের করে দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী।

অনেক ভোটকেন্দ্রে জাল ভোট ও সরকারি দলের নেতাকর্মীদের প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির সরকার গঠনের পর এটাই প্রথম কোনো নির্বাচন হলো। এদিন বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। দুটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় রাজনীতিক ও নির্বাচনসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এ নির্বাচনে জামায়াত নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠপর্যায়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। দলটির প্রার্থী জয়ী হতে যাচ্ছেন-এমন আত্মবিশ্বাসও দেখিয়েছিলেন নেতাকর্মীরা। এছাড়া আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক কোন পক্ষে যাচ্ছে তা নিয়েও সন্দিহান ছিল বিএনপি।

এসব কারণে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে আতঙ্ক থেকে তারা ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করেন। বিশেষ করে জামায়াতের প্রার্থী ভোট বর্জন করার পর তারা আরও অতি উৎসাহী হয়ে ওঠেন। অপরদিকে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট দিলেও জামায়াত নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রের বাইরে তেমন তৎপরতা চালাতে দেখা যায়নি।

জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইস্যু’ তৈরি করতে দলটি ভোট বর্জন করতে পারে, এমন গুঞ্জন দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে আগে থেকেই ছিল। ফলে তারা ভোটের মাঠে খুব একটা সক্রিয় ছিলেন না। কিন্তু ভোটকেন্দ্রের অনিয়ম প্রতিরোধ নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। এ নিয়ে কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি-মারামারির ঘটনাও ঘটে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ-সদস্য মাহমুদুল হক (রুবেল) যুগান্তরকে বলেন, সরকারি দল হিসাবে যে কোনো ধরনের বিতর্ক এড়াতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছি। যেহেতু বিএনপি সরকারি দল, তাই অনেকে অতি উৎসাহী হয়ে ভোট বাড়ানোর জন্য কিছুটা তৎপরতা চালাতে পারে। তাদের তৎপরতা ভোটের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে বলে মনে হয় না।

তবে জামায়াত এ নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে আগে থেকেই চেষ্টা করে আসছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে আসছে, আবার সভা-সমাবেশে আগ্রাসী বক্তব্য দিয়েছে। বিএনপিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তা হালে পানি পায়নি।

জানতে চাইলে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করেছে। আমরা দলটির অনেক নেতাকর্মীকে জাল ভোট দেওয়ার সময় চিহ্নিত করেছি। ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উলটো ছেড়ে দিয়েছেন।

প্রশাসন সরকারি দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। তিনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে যখন ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তখন আমরা মাঠ ছেড়ে দিই এবং বেলা ৩টায় বর্জনের ঘোষণা দিয়েছি। আমরা জাতির কাছে নির্বাচনে বিএনপি কী ধরনের কারসাজি করতে পারে, সেই চিত্র তুলে ধরেছি। দলীয় নেতাকর্মীরা মাঠে না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা মাঠে ছিল না তা সঠিক নয়।

জাতীয় সংসদের অন্যান্য আসনের সঙ্গে ১২ ফেব্রুয়ারি শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মৃত্যুবরণ করায় সে সময় ইসি এ আসনের ভোটের কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করে। পরে পুনঃতফসিল অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এ আসনে ভোটগ্রহণ হলো।

এ নির্বাচনে কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলে আরও দেখা গেছে, ১২৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে পাঁচটিতে ৪০ শতাংশের কম, ৫৬টিতে ৪০-৪৯ শতাংশ, ৪৫টিতে ৫১-৫৯ শতাংশ, ২০টিতে ৬০-৬৯ শতাংশ এবং বাকি দুটিতে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। যে পাঁচটি কেন্দ্রে সবচেয়ে কম ভোট পড়েছে, সেগুলো হচ্ছে-মাটিফাটা জিএম উচ্চ বিদ্যালয়, টেংগরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,

কাকিলাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয়, করুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও শ্রীবরদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অপরদিকে যে তিনটি কেন্দ্রে ৭০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে, সেগুলো হলো-ঝগড়ারচর উচ্চ বিদ্যালয় (৭২.৭৮ শতাংশ), রুপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৮৬.০১ শতাংশ) এবং পোড়াগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (৭০.২৬ শতাংশ)

সবচেয়ে কম ৩২.৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে কাকিলাকুড়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে। এ কেন্দ্রে ২৬০১ ভোটের মধ্যে ৮৪০টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ৪৭০ ও জামায়াত প্রার্থী ৩৬৬টি ভোট পেয়েছেন। এটি জামায়াত প্রভাবাধীন কেন্দ্র হিসাবে পরিচিত। অপরদিকে বিএনপির ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত রুপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৮৬.০১ শতাংশ ভোট পড়েছে।

এ কেন্দ্রে নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্য মাহমুদুল হক (রুবেল) চার হাজার ১৫ ভোট পেয়েছেন। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী মো. মাসুদুর রহমান মাত্র ৬ ভোট পেয়েছেন। এ কেন্দ্রে চার হাজার ৬৭৬ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে চার হাজার ২২টি।