শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী- ঝিনাইগাতী) আসনে কড়া নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
তবে জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ তার এজেন্টদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) সারারাত ঘুমাতে পারিনি। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে আমার নির্বাচনী এজেন্টরা জানিয়েছেন, তাদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, তারা যেন ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ না করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার খরিয়া কাজীরচর ইউনিয়নের রুপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লার এজেন্টরা জানান- ধানের শীষের এজেন্টরা ভোট দেখে নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমার এজেন্টরা কিভাবে কেন্দ্রে হাজির থাকবেন? বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে ব্যবস্থা নেবেন বলে তাকে জানানো হয়েছে।’
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রীবরদী তাতীহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াত প্রার্থী মাসুদুর রহমান মাসুদ। এসময় তিনি বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে দাঁড়িপাল্লা জয়ী হবে।
তবে জামায়াত প্রার্থীর এসব অভিযোগকে মনগড়া, বানোয়াট ও গুজব বলে দাবি করেছেন বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তার ভাষ্য, এবারের নির্বাচন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো।
তিনি জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তারা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার জন্য নানা গুজব ছড়াচ্ছেন।
এ আসনটি বিএনপির আসন উল্লেখ করে মাহমুদুল হক রুবেল বলেন, ‘এখানে আমার বাবা প্রয়াত ডা. সেরাজুল হক এমপি ছিলেন। তিনি তিনবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। সুষ্ঠু ভোট হলেই এখানে সবসময় ধানের শীষ জেতে। এবারও জনগণ আমাকেই নির্বাচিত করবেন। জামায়াতের প্রার্থী কোনো দিন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। তিনি কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া যা খুশি তাই বলছেন।’
এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রুপার কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন ময়মনসিংহের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া ও পুলিশ সুপার কামরুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় পুলিশ সুপার বলেন, ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। একটি নিরাপদ আবহ তৈরি করা হয়েছে। তিন-চারটে কেন্দ্র ঘিরে একটি করে মোবাইল টিম কাজ করছে। সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোট নিরপেক্ষ হচ্ছে।’
জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুল রহমান সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুড়িকাহনিয়া ইউনিয়নের কুরুয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে যান। এ সময়ে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র গিয়েছি। ভোট সুষ্ঠু ও সুন্দর হচ্ছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। নিরাপত্তায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে আছেন। দু’জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এর বাইরে ১ হাজার ১৫০ জন পুলিশ সদস্য, ১৪টি বিজিবি টিম কাজ করছে। রয়েছে আনসার সদস্য। নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই।’
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এ আসনে ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ করা হবে।





