fgh
ঢাকাবুধবার , ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • অন্যান্য

১০ শয্যার বিপরীতে ১৪০ শিশু মেঝেতে শুয়েই প্রাণের লড়াই

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ৮, ২০২৬ ১:৩৭ অপরাহ্ণ । ১০ জন

দুই বছরের ছোট্ট শিশু আবরার জ্বরে কাঁপছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে তার। মা জান্নাতুল ফেরদৌস তাকে কোলে নিয়ে বসে আছেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বাইরে মেঝেতে। মেঝেতে একটি পাতলা চাদর ও একটি বালিশ– এটাই এখন তাদের শয্যা। জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, সকাল থেকে বাচ্চাটাকে নিয়ে বসে আছেন তিনি। শয্যা পাননি। মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। তাঁর বাবু ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না। একটু পর পর নেবুলাইজার দিয়ে গ্যাস দিতে হয়। মেঝেতে থাকতে কষ্ট হলেও এ ছাড়া উপায় নেই।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড এখন ছোট্ট শিশু রোগীদের ভিড়ে এক আর্তনাদের জায়গা। জ্বর, ঠান্ডা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে মাত্র ১০টি। অথচ এখানে ভর্তি আছে প্রায় ১৪০টি শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৯ জন। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে ২০০ জনের বেশি শিশু।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রোগীতে পূর্ণ ওয়ার্ডের প্রতিটি কোণ। মেঝে, করিডোর, চলাচলের পথ এমনকি সিঁড়ির পাশেও বসে বা শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে শিশুরা।
শরীয়তপুরের নশাসন এলাকা থেকে আসা তিন বছর বয়সী তৌফিক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তার বাবা আল ইমরান বলেন, ‘ডাক্তার দেখাচ্ছি, কিন্তু শয্যা নেই। বাচ্চাটাকে মেঝেতে শুইয়ে রাখতে হচ্ছে। বাথরুমের পাশে মেঝেতে চার দিন ধরে আছি। গন্ধ এবং নোংরা পরিবেশ হলেও বাচ্চার জন্য এভাবেই থাকতে হচ্ছে।’
সদর উপজেলার ডোমসার গ্রাম থেকে জ্বর ও ঠান্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে আসা পাঁচ বছরের শিশু সাফওয়ানের বাবা আরিফ হোসেন জানান, গতকাল সন্তান নিয়ে হাসপাতালে আসেন তিনি। ডাক্তার দেখে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরে শিশু ওয়ার্ডে এসে দেখেন জায়গা নেই। এক বেডে দুজন এমনকি ফ্লোরেও জায়গা ছিল না। পরে ওয়ার্ডের বাইরে সিঁড়ির পাশে মেঝেতে থেকেই সন্তানের চিকিৎসা করাচ্ছেন।

গরম ও মশার কারণে তাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। কষ্ট হলেও বাচ্চা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত থাকতে হবে। শিশু ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জ খাদিজা আক্তার জানান, ভর্তি সব শিশুই নিউমোনিয়া, জ্বর ও ঠান্ডা সমস্যায় ভুগছে। নার্স কম থাকা ও রোগী বেশি থাকায় তাদের কাজ করতে হিমশিম খেতে হয়। রোগীর স্বজনরা অনেক সময় উত্তেজিত হয়ে খারাপ ব্যবহার করেন।

তার পরও সাধ্যমতো সেবা তারা দিয়ে যাচ্ছেন।হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) মিজানুর রহমান বলেন, এখন একটু গরম শুরু হওয়ায় শিশুরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। ঠান্ডা, জ্বর, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার রোগী অনেক
আসছে। হাসপাতালে অনেক কিছুর সংকট থাকলেও তারা সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন রেহান উদ্দিন আহমেদ বলেন,  হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের সংকট বিদ্যমান।

বিশেষ করে চিকিৎসকের ঘাটতি, পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্সের অভাব এবং শয্যা সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদান ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে মৌসুমি রোগের প্রকোপ বা হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তখন সীমিত জনবল ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়।