fgh
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

জাতীয় স্বার্থ পাই পাই করে বুঝে নিবো: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ ১:০০ অপরাহ্ণ । ৫১ জন

এক হিসেবে আমরা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে ফেরত যাচ্ছি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে আমরা সেটাই চেষ্টা করেছি। আমি যেই সময় ফরেন অফিসে যোগদান করি তার (জিয়াউর রহমান) তিনটি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপের কথা আমার মনে পড়ে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, আমাদের পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডে আমাদের জাতীয় স্বার্থ পাই পাই করে বুঝে নিবো। আমরা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে ফেরত যাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারে আমরা সেটাই চেষ্টা করেছি। সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই, আমাদের স্বার্থ বজায় রেখে। রোহিঙ্গা বিষয়ে আমাদের যে নজর ছিল সেটা কোনোভাবেই কমবে না বরং বাড়বে।গতকাল বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্রনীতির মটো হবে বাংলাদেশ ফার্স্ট। আমাদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করে আমরা আমাদের পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ড চালাবো এবং তার পেছনে যে প্রিন্সিপালসগুলো, সেগুলো আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিচ্ছি। সেগুলো হচ্ছে— সভরেইন ইকুয়ালিটি মানে সার্বভৌম সমতা, পরস্পরের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা, নন-ইন্টারফেয়ারেন্স, কারো অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করা, ন্যাশনাল ডিগনিটি, জাতীয় সম্মান ও মর্যাদা এবং মিউচুয়াল বেনিফিট বা পারস্পরিক সুবিধা, একতরফা কিছু নয়। আমরা আমাদের পররাষ্ট্র কর্মকাণ্ডে জাতীয় স্বার্থ পাই পাই করে বুঝে নিবো। দিস ইজ আওয়ার রেড লাইন।

এক হিসেবে আমরা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতিতে ফেরত যাচ্ছি উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারে আমরা সেটাই চেষ্টা করেছি। আমি যেই সময় ফরেন অফিসে যোগদান করি তার (জিয়াউর রহমান) তিনটি অত্যন্ত সাহসী পদক্ষেপের কথা আমার মনে পড়ে। ১৯৭৪ সালে আমরা জাতিসংঘের সদস্যপদ পাই। তার চার বছরের মধ্যে উনি আমাদের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদে নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং জাপানের মতো একটা শক্তিকে পরাজিত করে আমরা সেই নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলাম। দ্বিতীয় ছিল সার্ক, সবচাইতে আনকানেকটেড একটা অঞ্চলে তিনি কানেকটিভিটির কথা বলেছেন এবং সার্ককে প্রতিষ্ঠা করার যে বড় বড় কাজগুলো উনি করে গিয়েছেন। তৃতীয়ত, আঞ্চলিক শান্তি বিশ্ব শান্তি রক্ষায় আল কুদস কমিটিতে তার ভূমিকা। অর্থাৎ আমাদের পররাষ্ট্রনীতি শুধু ইতিবাচকই ছিল না, এটা বিস্তৃতও হচ্ছিল। আমরা সেই জায়গায় ফেরত যেতে চাই।

প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সকল দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই, আমাদের স্বার্থ বজায় রেখে।

আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা বিষয়ে আমাদের যে নজর ছিল সেটা কোনোভাবেই কমবে না বরং বাড়বে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমরা মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির যোগাযোগ করেছি, সর্বপ্রথম আমরা আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেই যোগাযোগগুলো অব্যাহত থাকবে। এই সমস্যার একটা আশু সমাধান আমরা করার চেষ্টা করবো। আমি এই ব্যাপারে আশাবাদী।

বর্তমান সরকারের অংশ হওয়ার ক্ষেত্রে স্বার্থ সংঘাত বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা বলছে, তার মানে গণনা ঠিক হয়নি, এটাই বলছে তো। গুণে নেন আরেকবার।

বর্তমান মন্ত্রিসভায় আপনি কিভাবে যুক্ত হলেন এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি তো জোর করে যাইনি। একেকজনের এক এক জিনিস সম্পর্কে একটা ধারণা থাকতে পারে প্রাথমিকভাবে। সেটা পরিবর্তনও হয়।