fgh
ঢাকামঙ্গলবার , ৬ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

প্রশাসনের উদাসীনতায় প্রকাশ্যেই চলছে নির্বিঘ্নে ধূমপান

অনলাইন ডেস্ক
জানুয়ারি ৬, ২০২৬ ২:৫১ অপরাহ্ণ । ৭৭ জন

কাগজে-কলমে অধ্যাদেশ কার্যকর হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। প্রশাসনের উদাসীনতায় দেশের পাবলিক প্লেসগুলোতে অবাধে চলছে ধূমপান। আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা জরিমানা থাকলেও বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, হাসপাতাল এলাকা, শপিংমল, পার্ক এমনকি সরকারি দপ্তরের সামনেও প্রকাশ্যে সিগারেট জ্বালাতে দেখা যাচ্ছে মানুষকে। এতে একদিকে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে সরকারের সিদ্ধান্ত কার্যত প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

প্রকাশ্যে ধূমপান করলে এখন থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হবে। তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ব্যবহার আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ কার্যকর করেছে সরকার। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গত ৩০ ডিসেম্বর মহামান্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর হয়েছে। এই আইনের মূল উদ্দেশ্যে হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া, বিড়ি উৎপাদনসংক্রান্ত পৃথক অধ্যাদেশ বাতিল করে একীভূত আইন প্রণয়ন, ই- সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকোসহ ইমাজিং তামাকপণ্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।

আইন বাস্তবায়নের হওয়ার আজ সপ্তাহ খানিক পেরিয়ে গেলেও কোথাও জরিমানা করার নজির এখনো পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি আইনের বাস্তবায়নের নজির না পেয়ে বলেন, ‘প্রশাসনের জরিমানা শুধু কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ, বাস্তবে তারা ঘুমাচ্ছে।’

কেন এখনো পাবলিক প্লেসে অবাধে চলছে ধূমপান এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চান প্রশাসন ও রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে।

ধূমপানবিরোধী সংগঠনগুলো বলছে, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ধূমপানকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তাদের দাবি, পাবলিক প্লেসে ধূমপান বন্ধে দৃশ্যমান অভিযান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে আইনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা তৈরি হবে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজ্ঞাপন যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে সেজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং নাগরিক সচেতনতা একসঙ্গে জরুরি। নইলে পাবলিক প্লেসে ধোঁয়ার এই রাজত্ব থামানো কঠিনই থেকে যাবে।