বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থ রক্ষায় বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবন দিয়ে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা জাতীয় ইতিহাসে এক অনন্য দলিল হয়ে থাকবে। সোমবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এসব কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে এ্যাবের (অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাগ্রিকালচারিস্টস বাংলাদেশ) অসংখ্য নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। মঈন খান উল্লেখ করেন যে, যখন রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা ও ব্যক্তিগত আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন, তখন খালেদা জিয়া ছিলেন সম্পূর্ণ আপসহীন এবং তাঁর কাছে দেশ ও মানুষের স্বার্থই ছিল সবার উপরে।
মঈন খান তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি ছিল এ দেশের সাধারণ মানুষ, কোনো অস্ত্র বা বন্দুকের শক্তি নয়। তিনি আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে লড়াই করেছেন এবং জেল-জুলুম কিংবা অন্য কোনো প্রতিকূলতার কাছে মাথানত করেননি। ড. মঈন খানের মতে, খালেদা জিয়া নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ে যে দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, তা বিরল। তাঁর পুরো রাজনৈতিক জীবনই ছিল মূলত রাজপথের সংগ্রামের এক জীবন্ত ইতিহাস, যা তাঁকে জনগণের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে দিয়েছে।
সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া শেষে তিনি আরও বলেন, দেশের বর্তমান ক্রান্তিলগ্নে খালেদা জিয়ার আদর্শ ও দেশপ্রেম বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য সবচাইতে বড় পাথেয়। সুবিধাবাদী গোষ্ঠী যখন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বারবার বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে, তখন খালেদা জিয়াই ছিলেন প্রতিরোধের প্রতীক। তাঁর দেখানো সেই সংগ্রামের পথ ধরেই জাতীয়তাবাদী শক্তি আগামী দিনে একটি সুশৃঙ্খল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হবে বলে মঈন খান দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরিশেষে তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া আদর্শ ও নৈতিকতা ধারণ করার আহ্বান জানান।





