fgh
ঢাকাসোমবার , ৪ মে ২০২৬
  • অন্যান্য

নতুন সাইবার প্রতারণা ‘এসএমএস পাম্পিং’

অনলাইন ডেস্ক
মে ৪, ২০২৬ ২:৫৭ অপরাহ্ণ । ৩ জন

দিন দিন বাড়ছে সাইবার প্রতারণার ঝুঁকি। সাইবার অপরাধীরা এখন এমন এক পদ্ধতি ব্যবহার করছে, যেখানে আপনার ফোনে কোনো ম্যালওয়্যার ইনস্টল করার দরকার হয় না, পাসওয়ার্ড চুরি করার প্রয়োজন পড়ে না, এমনকি আপনার অ্যাকাউন্টও হ্যাক করতে হয় না। ‘এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক’ নামে পরিচিত এই কৌশলের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক এসএমএস পাঠিয়ে অর্থ আয় করছে আর সেই বিল গুনতে হচ্ছে আপনাকেই। সবকিছুর শুরু মাত্র একটি ক্লিক থেকে।

কীভাবে এসএমএস পাম্পিং অ্যাটাক কাজ করে

CAPTCHA (কমপ্লিটলি অটোমেটেড পাবলিক টিউরিং টেস্ট) হলো ইন্টারনেটে ব্যবহৃত একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এটি এখন বেশ পরিচিত বিকৃত লেখা কপি করা বা ছবির মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শনাক্ত করা। কিন্তু এই পরিচিত প্রক্রিয়াকেই কাজে লাগাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। সাম্প্রতিক সময়ে ‘ক্লিকফিক্স’ নামে একটি কৌশল ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে। এতে ভুয়া ক্যাপচা পেজ তৈরি করা হয়, যেখানে ব্যবহারকারীদের কিছু নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয় যেমন কোনও কমান্ড কপি করা বা একটি বাটনে ক্লিক করা।

ম্যালওয়্যারবাইটসের ম্যালওয়্যার ইন্টেলিজেন্স গবেষক পিটার আরন্টজ সতর্ক করে জানিয়েছেন, একটি চলমান সাইবার ক্যাম্পেইনে ভুয়া ক্যাপচা পেজ ব্যবহার করে মোবাইল ব্যবহারকারীদের অজান্তেই বহু আন্তর্জাতিক এসএমএস পাঠানো হচ্ছে।

কীভাবে ফাঁদে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা

আক্রমণকারীরা বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের এই ভুয়া পেজে নিয়ে যায়। কখনো ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন, কখনো পরিচিত টেলিকম প্রতিষ্ঠানের মতো দেখতে ভুয়া ওয়েবসাইট যেগুলোর ডোমেইনে সামান্য বানান ভুল থাকে। এরপর ব্যবহারকারীদের বলা হয় একটি বাটনে ক্লিক করতে, যা তাদের এসএমএস অ্যাপ খুলে দেয়। সেখানে আগে থেকেই লেখা মেসেজ ও প্রাপকের তালিকা সেট করা থাকে।

এই আক্রমণের সবচেয়ে কৌশলী দিক হলো এটি একক নম্বরে মেসেজ পাঠায় না। বরং একবার ক্লিক করলে একাধিক ধাপে কাজ হয়, যেখানে ১৭টি দেশের ডজনখানেক আন্তর্জাতিক নম্বরে এসএমএস পাঠানো হয়। এসব দেশের মধ্যে আজারবাইজান, মিয়ানমার ও মিশর রয়েছে যেখানে এসএমএস চার্জ তুলনামূলক বেশি।

এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘ইন্টারন্যাশনাল রেভিনিউ শেয়ার ফ্রড’। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক নম্বরে ট্রাফিক পাঠিয়ে আয়ের একটি অংশ অপরাধীদের কাছে ফিরে আসে। সাধারণ ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে এতে প্রায় ৩০ ডলার পর্যন্ত বিল আসতে পারে।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ সতর্কতা মেনে চললে এ ধরনের প্রতারণা থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া সম্ভব—

> শুধু অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর (গুগল প্লে স্টোর/অ্যাপ স্টোর) থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করা।

> অজানা লিঙ্ক বা লোভনীয় অফারে ক্লিক না করা।

> ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করা ডিভাইসে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল না করা।

> সন্দেহজনক কিছু ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করা।

> নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট রাখা।

বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে এবং প্রযুক্তিনির্ভর এই প্রতারণা দিন দিন আরো জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা নয়, ব্যবহারকারীদের সচেতনতা এবং প্রযুক্তিগত সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন-এই তিনটির সমন্বয়েই এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।