ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচন এবং বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় ভোটগ্রহণ। তবে ভোটার উপস্থিতি কম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বগুড়া করনেশন স্কুল ও কলেজ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে মাত্র ১০৭টি। এই কেন্দ্রে ভোটার ৪ হাজার ৬০টি।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির তুলনায় ভোটার উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি আশা করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার বাড়বে।
আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৪ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১০ জন। মোট ১৫০টি কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে বিরতিহীন।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনটিতে উপনির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন ৩ জন। তারা হলেন- বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ), শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির আল আমিন (ফুলকপি)।
আসনটিতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ৩ লাখ ২২ হাজার ২২৩ ভোটের মধ্যে তারেক রহমান পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৩৪ ভোট। জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। অন্য আর ৩ প্রার্থী হাজারের ঘর টপকাতে পারেননি।
জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিএসবি) সূত্রে জানা যায়, ১৫০টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা আছে। ৮ পাল্টুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা ও র্যাবের টহল চলছে বেশ কয়েকদিন থেকেই চলছে। এছাড়া ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ২ জন বিচারক নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, সবধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে সেজন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক সহায়তা করছে।
এদিকে সকাল ৯টার দিকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী- ঝিনাইগাতী) আসনের কেকেরচর ইউনিয়নের রুপারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে শত শত নারী। কেন্দ্রে ভোট দেওয়া নুরুন্নাহার, সাবিনা ও হোসনে আরা নামে কয়েকজন ভোটারের সাথে কথা হয়। তারা বলেন, কেন্দ্রের ভেতরের পরিবেশ খুব ভালো। স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছেন।
এ কেন্দ্রে ভোট দেন ধানের শীষের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। তিনি বলেন, দুটি কেন্দ্র দেখেছি। ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে। অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নানা গুজব ছড়াচ্ছে। তবে এটি বিএনপির আসন। সুষ্ঠু ভোট হলে ধানের শীষ জিতবে।





