fgh
ঢাকারবিবার , ২৯ মার্চ ২০২৬
  • অন্যান্য

দাদন ও ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ব্যাংক’ করার প্রয়োজনীয়তা

অনলাইন ডেস্ক
মার্চ ২৯, ২০২৬ ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ । ৯ জন

বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৫ বছর হয়ে গেল অথচ গরিব মৎস্যজীবী ও প্রাণিসম্পদের সঙ্গে জড়িত খামারিদের দাদনের মতো শোষণমূলক একটি ‘ঋণ’ বা আগাম প্রদান পদ্ধতি থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক প্রতিষ্ঠার দাবি অনেক দিনের এবং যতটুকু জানতে পেরেছি এর জন্য প্রয়োজন আনুমানিক ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, যা সরকারের পক্ষে করা অসম্ভব নয়। কিন্তু করা হয়নি।

বাংলাদেশে কৃষকদের ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষি ঋণের ব্যবস্থা আছে। কৃষি ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকের কৃষি ঋণ স্কিমগুলো নির্দিষ্টভাবে ধান, গম, ভুট্টা, সবজি ইত্যাদি ফসল উৎপাদনের জন্য নকশা করা। এ ঋণগুলো মৌসুমি, তুলনামূলকভাবে স্বল্পমেয়াদি এবং জমি বা ফসলকে জামানত হিসেবে ধরে নেয়া হয়। সুদের হারও বাণিজ্যিক ব্যাংকের তুলনায় কম

; কিন্তু এ সুযোগ থেকে মৎস্যজীবী ও খামারিরা বঞ্চিত। এটা ঠিক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদনের বাস্তবতা কৃষি ফসল উৎপাদন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

এখানে বিনিয়োগ ধারাবাহিক, ঝুঁকি বেশি, রোগ ও দুর্যোগের অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদনের চক্র ফসলের মতো সরল নয়। ফলে প্রচলিত কৃষি ঋণ কাঠামো এ খাতের সঙ্গে খাপ খায় না। এ অমিলের ফল হলো ব্যাংকগুলো স্বাভাবিকভাবেই এ খাতকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে চিহ্নিত করে এবং ঋণ দিতে আগ্রহী হয় না।

এ শূন্যস্থান পূরণ করে ‘দাদন’ নামক এক শোষণমূলক অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থা। দাদন কোনো প্রাচীন বা কেবল অনগ্রসর আর্থিক প্রথা নয়; এটি আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার ব্যর্থতারই বিকল্প রূপ। যখন খামারি বা জেলে ব্যাংক থেকে স্বল্পসুদে ঋণ পায় না, তখন সে বাধ্য হয় মহাজন, আড়তদার, ফিড বা ওষুধ ডিলারের কাছে যেতে।

দাদনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি নগদ টাকার বিনিময়ে সরাসরি সুদ নেয় না; টাকা শোধ পদ্ধতিতেই আছে মুনাফা এবং মৎস্যজীবী বা খামারিদের উৎপাদনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।

নগদ অর্থ প্রদানের বিনিময়ে ভবিষ্যতে উৎপাদিত মাছ, ডিম বা মাংস নির্দিষ্ট আড়তে বা নির্দিষ্ট দামে বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো লিখিত চুক্তি থাকে না, কিন্তু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা এত শক্তিশালী যে উৎপাদক তার বাইরে যেতে পারে না।

প্রাণিসম্পদ খাতে এ দাদনের একটি বিশেষ রূপ দেখা যায় ফিড ও বাচ্চা সরবরাহ ব্যবস্থায়। গবাদিপশু ও পোলট্রি উৎপাদন আজ কার্যত করপোরেট ফিড ও হ্যাচারিনির্ভর। খামারিরা সরাসরি কোম্পানি থেকে খাদ্য বা একদিনের বাচ্চা সংগ্রহ করতে পারেন না; তাদের যেতে হয় ডিলারের কাছে। ডিলাররা শুধু পণ্য সরবরাহ করেন না; তারা ঋণ দেন, বাজার তথ্য নিয়ন্ত্রণ করেন

এবং খামারিকে নির্দিষ্ট উৎপাদন সিদ্ধান্তে বাধ্য করেন। ফলে খামারির উৎপাদন খরচ বাড়ে, কিন্তু বিক্রয়মূল্যের ওপর তার কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। রাষ্ট্র যখন এ ব্যবস্থাকে ‘বাজার’ বলে স্বাভাবিক করে তোলে, তখন আসলে সে একটি অসম ক্ষমতা সম্পর্ককে বৈধতা দেয়।

উপকূলীয় অঞ্চল, নদী ও হাওর এলাকায় অধিকাংশ জেলের নিজস্ব মূলধন থাকে না। ইলিশ আহরণের জেলেদেরও নিজস্ব পুঁজি নেই। তারা গরিব এবং মাছ ধরার ওপরই তাদের জীবন চলে। কিন্তু মাছ ধরতে হলে তাদের জাল, নৌকা, জ্বালানির জন্য যা খরচ লাগে সে খরচের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি কোনো আনুষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া যায় না।

ফলে অনানুষ্ঠানিক ঋণ বা দাদন ব্যবস্থার ওপরই নির্ভরশীল হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য খাতে এ ব্যবস্থা বিদ্যমান। জাতীয় মাছ ইলিশের ক্ষেত্রে তা বিশেষভাবে দৃশ্যমান।

সহজ কথায় জেলেদের মহাজন, আড়তদার, পাইকার বা কোনো ব্যবসায়ী যে আগাম অর্থ বা ঋণ প্রদান করা হয় বা দাদন দেয়া হয়। ইলিশের মৌসুম শুরুতে মহাজন ও আড়তদাররা নৌকা, জাল ও নদীতে থাকার সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, এমনকি পরিবারকে খরচের টাকা দিয়ে দেন অগ্রিম হিসেবে। শর্ত হচ্ছে জেলেরা যে মাছ ধরবেন তা দাদনদাতা মহাজন বা আড়তদারের কাছেই বিক্রি করতে হবে, যা বাজারমূল্যের চেয়ে কম হবে।

দাদন একটা মুনাফার ব্যবসা। আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন নেয়া জেলেরা তাদের ধৃত মাছ বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধনের টাকা পরিশোধ করেন, জেলেদের মূলধনের অতিরিক্ত কোনো সুদ দিতে হয় না। দাদন ব্যবসায়ীরা মুনাফা করে মূলত কমিশনের মাধ্যমে। দাদনের মাধ্যমে এ অর্থ গ্রহণের শর্ত হিসেবে ভবিষ্যতে আহরণকৃত মাছ নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা আড়তেই বিক্রি করতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দাদনের কোনো লিখিত চুক্তি থাকে না। দাদন শুধু নগদ অর্থ ছাড়াও জেলেদের জাল, নৌকা, জ্বালানি ইত্যাদি সরবরাহের মাধ্যমেও প্রদান করা হয়।

তবে এ কথাও বলা প্রয়োজন যে এ আড়তদাররা যদি আগাম অর্থ জেলেদের না দেন তাহলে জেলেদের অন্য উৎস থেকে পুঁজি পাওয়ার কোনো উপায় নেই। প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখানে অনুপস্থিত। তাই জেলেরাও এ শোষণমূলক নিয়ম জেনেও এর থেকে বের হতে পারছেন না। জীবিকা টিকিয়ে রাখতে তারা সেখানেই বারবার যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য হচ্ছে, জেলেরা যে আড়তদার থেকে দাদন গ্রহণ করেন, সেই আড়তেই তাকে তার আহরণকৃত মাছ উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রয় করতে হয়। প্রতিবার বিক্রয়ের পরে জেলেদের মোট প্রাপ্ত মূল্য থেকে একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন আড়তদারকে দিয়ে দিতে হয়। এ কমিশনের হার স্থানভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। নদী-তীরবর্তী আড়তদার সরাসরি জেলেকে দাদন দেয়, সেক্ষেত্রে আড়তদার ১০ শতাংশের মতো কমিশন নেয়। লক্ষ করা যায়

যে তিনি জেলেদের থেকে চড়া হারে কমিশন নিয়ে তার নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করছেন, অথচ জেলেরা মাছ ধরে এনেও আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। ঋণের জালেই জড়িয়ে থাকছেন। কিন্তু জেলেরা যদি উন্মুক্তভাবে অন্য কোথাও এ মাছ বিক্রয় করতে পারতেন, তাহলে তারা আরো কম কমিশন দিয়ে মাছ বিক্রি করতে পারতেন ও

আর্থিকভাবে আরো লাভবান হতেন।

দাদনের পরিমাণ অঞ্চল ও কার্যক্রমভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। নদীতে ক্ষুদ্র পর্যায়ের জেলেরা সাধারণত ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাদন গ্রহণ করে থাকেন। সাগরের মাছ ধরার জেলেদের দাদনের পরিমাণ ২-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেশের সাড়ে ছয় লাখ ইলিশ জেলের মাঝে ছয় লাখ জেলে যদি ২০ হাজার টাকা করে দাদন নেন তবে মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ দাদনের পরিমাণ কমপক্ষে হাজার কোটি টাকা। [সূত্র: মৎস্য অধিদপ্তর]

দাদন দেয়া বা নেয়া কোনো আইনি বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে হয় না, অথচ এর নিজস্ব একটা ধরন গড়ে উঠেছে, যা বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে। দেখার কেউ নেই। অথচ ২০০৬ সালে কার্যকর হওয়া মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি নামের আইনে বলা হয়, যারা ক্ষুদ্র ঋণ দেয় এবং সুদ নেয়, মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির কাছ থেকে তাদের লাইসেন্স ও অনুমতি নিতে হবে। অনুমতি ছাড়া কেউ যদি এ ধরনের ধার বা ঋণ দেয়, তাহলে এ আইনের ৩৫ ধারা অনুযায়ী সেটা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

কেউ এ আইন অমান্য করলে তার অন্যূন এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘যেহেতু ইলিশের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা একে অন্যকে দাদন দিচ্ছেন এবং সেই দাদনের বিনিময় শর্ত হচ্ছে, দাদন প্রদানকারীদের কাছেই মাছ বিক্রি করতে হবে; উপরন্তু কমিশনও দিতে হবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে, টাকা ধার দেয়ার মাধ্যমে তারা সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন। সুতরাং এ আইনের বরখেলাপ হচ্ছে এবং এ

আইন অনুযায়ী লেনদেনের (দাদন) প্রক্রিয়া অবৈধ হয়ে যাচ্ছে।’ [প্রথম আলো, ১৪ অক্টোবর ২০২৪]

দাদনের সমস্যাটা জেলেরা বেশি টের পান ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলাকালে। দাদনের টাকা পরিশোধ করার জন্যই প্রধানত মা ইলিশ রক্ষা এবং জাটকা মাছ রক্ষার জন্য সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দেন তা জেলেরা ভঙ্গ করতে বাধ্য হন। কারণ আড়তদাররা জেলেদের অনেক সময় দাদন পরিশোধের জন্য মাছ ধরার নিষিদ্ধকালীন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালেও মাছ ধরতে বাধ্য করেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ ব্যাংক করার উদ্যোগ

দেশের মৎস্যসম্পদ উন্নয়নের জন্য সরকার নানাভাবে চেষ্টা করলেও বিদ্যমান দাদন ব্যবসার কারণে মৎস্যজীবী বা জেলেদের তাদের পেশায় টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে। আপাতদৃষ্টিতে দাদন ব্যবস্থা জেলেদের তাৎক্ষণিক মূলধনের সংকট দূর করলেও তাদের আর্থিক স্বাধীনতা হ্রাস করে এবং ঋণের একটি স্থায়ী চক্র তৈরি করে। ফলে এ জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারছেন না। ইলিশ আহরণকারী প্রায় শতভাগ জেলে দাদনের ওপর নির্ভরশীল। দাদনের কারণে  ন্যায্য বাজারদর না পাওয়া, উচ্চহারে কমিশন এবং বিক্রয় স্বাধীনতা হারানো এ ব্যবস্থার প্রধান

নেতিবাচক দিক। তাই মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহজ শর্তে (জামানতবিহীন) ব্যাংক ঋণ, সমবায়ভিত্তিক অর্থায়ন এবং সরকারি আর্থিক সহায়তা জোরদার করা অত্যন্ত প্রয়োজন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ব্যাংক’ করার প্রস্তাব পেশ করে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও এর ৬০ শতাংশ ‘শস্য ও ফসল’ খাতের জন্য নির্দিষ্ট রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ঋণ লক্ষ্যমাত্রা যথাক্রমে ১৩ ও ১৫ শতাংশ, যার সম্পূর্ণ অংশ প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে বিতরণ এবং সমন্বয় করাও সম্ভব নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের পরিধি বিবেচনায় এ ঋণের পরিমাণ একেবারেই অপর্যাপ্ত।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে কৃষির কোনো মিল নেই। জামানত দেয়ার মতো সম্পদও তাদের নেই। কিন্তু তাদের যে আহরণ বা উৎপাদন তাই বড় গ্যারান্টি, যার ওপর ভিত্তি করে পুরো দাদন ব্যবসা টিকে আছে। তাহলে সরকার কেন ঝুঁকি নিতে পারবে না? বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক কর্তৃক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে গতানুগতিক কয়েকটি কার্যক্রমে ঋণ সরবরাহ করা হয়, যা এ খাতের উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট কার্যকর হিসেবে এখনো প্রমাণিত হয়নি।

অথচ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ঋণের সুবিধা পেলে সুবিশাল সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে গুণগত মানসম্পন্ন মৎস্য ও প্রাণিজ পণ্যের উৎপাদন

বাজারজাত ও রফতানি বৃদ্ধিকরণের লক্ষ্যে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ, মানসম্পন্ন মৎস্য ও পশু খাদ্য উৎপাদন, আমাদের দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং ক্ষেত্রমতে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, মৎস্য খাতে সুনীল অর্থনীতির দ্বার উন্মোচন হবে। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশেষায়িত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ঋণের সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বিভিন্ন সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ  মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর/সংস্থায় অনুষ্ঠিত সভা-সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের যথাযথ উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত চাষী, মৎস্যজীবী ও খামারিদের  ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ’ ঋণ প্রদানের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বের বিষয়টি আলোচিত হয়। এ বিশেষায়িত ব্যাংকিং ব্যবস্থা শুধু মৎস্যজীবীদের জন্য নয়, প্রাণিসম্পদ নিয়ে যারা কাজ করেন তাদেরও প্রয়োজন।

বিশেষায়িত এ ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত মৎস্যজীবী ও খামারিদের ঋণ প্রদান করা হলে বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, সরকারি ঋণ প্রদানে বৈষম্য দূরীকরণ, সর্বোপরি দারিদ্র্য হ্রাসের মাধ্যমে দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ব্যাংক’ নামে বিশেষায়িত ব্যাংক চালু করার যৌক্তিকতাগুলো উল্লেখ করে একটি সারসংক্ষেপ ১১ নভেম্বর, ২০২৪ প্রধান উপদেষ্টা বরাবর দেয়া হয়েছিল। সেখান থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ) মতামত নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকেও চিঠি দেয়া হয়েছে। বলা বাহুল্য, ‘মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ব্যাংক’ নামে একটি স্বতন্ত্র বিশেষায়িত ব্যাংক চালু করার কোনো বিকল্প নেই এবং কাজ কিছুটা এগিয়ে আছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুধু লাখ লাখ জেলে ও খামারিই উপকৃত হবেন না, দেশের মৎস্য আহরণ, চাষ ও গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে জনগণের জন্য আমিষের জোগানে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।

ফরিদা আখতার: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা

[বিশেষ নোট: আমি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা ছিলাম বলে এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন হয়েছি। মাঠ পর্যায়ে মৎস্যজীবীদের দাদন সম্পর্কে আমাকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন মোল্লা এমদাদুল্যাহ, প্রকল্প পরিচালক, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, মৎস্য অধিদপ্তর]

,