fgh
ঢাকাসোমবার , ৫ জানুয়ারি ২০২৬
  • অন্যান্য

পূর্বাচলে পুলিশের মেগা প্রজেক্ট: সৃষ্টি হচ্ছে ৬ হাজার নতুন পদ

অনলাইন ডেস্ক
জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ৪:০৩ অপরাহ্ণ । ৮৪ জন

রাজধানীর অদূরে গড়ে ওঠা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে কেন্দ্র করে দেশের ইতিহাসে পুলিশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো ও জনবল সম্প্রসারণের এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ নগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং কয়েক লাখ বাসিন্দার জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বাচলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক নিরাপত্তা বলয়ে রূপান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পূর্বাচল এলাকাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। সেখানে ৪টি পূর্ণাঙ্গ থানা, ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি এবং ৪১টি পুলিশ বক্স স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা একটি পরিকল্পিত শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য পুলিশের ইতিহাসে একক কোনো প্রকল্পে নজিরবিহীনভাবে ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ভবিষ্যতে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের বসবাসের সম্ভাবনা রয়েছে। এই আধুনিক নগরীতে কেবল সরকারি আবাসনই নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক কেন্দ্র, বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হচ্ছে। উদ্ভূত জনবহুল পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা থেকে এলাকাটিকে শুরু থেকেই ডিএমপির অধীনে এনে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, পূর্বাচলে অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী ঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিশেষ পুলিশি ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

প্রস্তাবিত কাঠামোটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহরে পুলিশের একটি স্বতন্ত্র অপরাধ বিভাগ, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), ট্রাফিক বিভাগ, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) বিভাগ এবং একটি সুসজ্জিত পরিবহন বিভাগ গড়ে তোলা হবে। এছাড়াও আইনি ও প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে একটি পুলিশ লাইনস, তথ্যপ্রযুক্তি বা এমআইএস ইউনিট, দুটি অপরাধ জোন এবং চারটি ট্রাফিক জোন গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই বিশাল কর্মীবাহিনীর জন্য বিপুল সংখ্যক যানবাহন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার প্রক্রিয়াও এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে এই প্রস্তাবনাটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পূর্বাচলকে একটি নিরাপদ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। যেহেতু এখানে ভবিষ্যতে বিপুল জনসংখ্যার সমাগম ঘটবে, তাই তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন শুরু থেকেই করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত ৬ হাজার ৫২৪টি পদের নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যায়ে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়া মাত্রই ধাপে ধাপে এই বিশাল পুলিশ কাঠামো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। এই মেগা প্রজেক্টটি সম্পন্ন হলে পূর্বাচল হবে দেশের অন্যতম আধুনিক ও নিরাপদ জনপদ, যা রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমানোর পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল নাগরিক জীবন উপহার দেবে।