বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে তার স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে। এমন খবরে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে দলটির নেতা-কর্মীরা ছুটে আসছেন। সকাল থেকেই জিয়া উদ্যান এলাকায় এসে ভিড় করছেন তারা। মঙ্গলবার জিয়া উদ্যান এলাকায় এমন দৃশ্য দেখা যায়।
দুপুরে জিয়া উদ্যানে সরজমিন দেখা যায়, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবর ঘিরে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। সকালের দিকে সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীদের প্রবেশ করতে দেয়া হলেও বর্তমানে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা। নেতা-কর্মীদের কাউকে সমাধিস্থলের কাছাকাছি গিয়ে আবার ফিরে আসতে হচ্ছে। জিয়া উদ্যানে বাড়ছে সাধারণ মানুষের ভিড়ও।
কাউকে কাউকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া করতে দেখা গেছে।
সকালের দিকে গণপূর্ত বিভাগ থেকে পরিদর্শন করা হয়েছে ও নেয়া হয়েছে কবরের ম্যাপ। পরবর্তী কার্যক্রম ধীরে ধীরে শুরু করা হবে বলে জানান দায়িত্বরত আনসার সদস্যরা।
মোহাম্মদপুর থেকে আসা বিএনপি কর্মী রবিন হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়াকে হারাতে হবে, এটা কখনো কল্পনা করতে পারিনি। তার এ মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিনা। আমরা অভিভাবকহীন হয়ে পড়লাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া এমন একজন আপসহীন নেত্রী ছিলেন, যখন তার ওপর অত্যাচারের স্ট্রিম রোলার চলছিলো, তখনও তিনি দেশ ছাড়তে রাজি হননি। তিনি স্বৈরাচার সরকারের দ্বারা নির্যাতন সহ্য করে দেশকে ভালোবেসে এ দেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার সঙ্গে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের দোয়া আছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করুক।’
ফার্মগেট থেকে আসা রুমা খানম নামে এক নারী বলেন, ‘আমি শুধু একনজর ম্যাডামের কবরের জায়গাটি দেখতে এসেছি। আগামীকাল অনেক ভিড় হবে, সেজন্য আজই খবর পেয়ে এসেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত না। তিনি একজন আপসহীন নারী ছিলেন। নারীদের জন্য বেগম খালেদা জিয়া চিরকাল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।’
আরেক বিএনপি কর্মী সোহরাব মিয়া বলেন, ‘আমাদের আপসহীন নেত্রী দেশ ছেড়ে চলে যাবেন এটা কখনো কল্পনা করতে পারি না। তার চলে যাওয়া কোনোভাবে মেনে নিতে পারছি না। আমরা আমাদের একজন অভিভাবককে হারালাম। আমরা আমাদের এক রত্মকে হারালাম। আমাদের অভিভাবক হারিয়ে আমরা বাকরুদ্ধ। আল্লাহ আমাদের নেত্রীকে বেহেশত দান করুক।’
এদিকে, বেগম খালেদা জিয়াকে সমাহিত করতে কবর খননকে স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখতে কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেন, কেউ ছবি তুলছেন। আবার কেউ তার মৃত্যুতে কান্না করছেন। এছাড়াও নেতা-কর্মীদের ভিড়কে কেন্দ্র করে জিয়া উদ্যান এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে।





