ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৫ এপ্রিল ২০২৪
  • অন্যান্য

শ্রম পরিবেশ উন্নয়নে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আইন

অনলাইন ডেস্ক
এপ্রিল ২৫, ২০২৪ ৬:৪৪ অপরাহ্ণ । ২৬ জন

শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সার্বিক অধিকার নিশ্চিতে বেশ সরব ইউরোপের নীতি-নির্ধারকরা। গত কয়েক বছর ধরেই বারবার তাদের আলোচনায় এসেছে বিষয়টি। আর সে লক্ষ্যে শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সার্বিক অধিকার নিশ্চিতে আইন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নিলেন ইইউ পার্লামেন্টের সদস্যরা। বুধবার (২৪ এপ্রিল) আইনটি পাস হয় ইইউ পার্লামেন্টে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট অনুমোদিত নতুন এই আইন বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর শ্রম ও পরিবেশগত মান উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ, দেশের ৬৪ শতাংশেরও বেশি পোশাক ইউরোপে রপ্তানি হয়।

আর ডিউ ডিলিজেন্স আইনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ব্যবসা করতে শ্রমিকদের সুরক্ষার মান নির্ধারণ করে দেবে। বাংলাদেশে রানা প্লাজা ভবন ধসে এক হাজার ১৩৮ পোশাক শ্রমিক নিহত ও দুই হাজারের বেশি মানুষ আহত হওয়ার ১১তম বার্ষিকীতে ইইউ পার্লামেন্টে এই ভোট হয়।

২০৩০ সাল পর্যন্ত ধীরে ধীরে কার্যকর হতে যাওয়া এই আইন রপ্তানি ও আমদানিকারকদের উত্পাদন, কমপ্লায়েন্স ও দায়িত্বশীল ব্যবসার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারে। ইইউ পার্লামেন্টে এই আইনের পক্ষে ভোট পড়ে ৩৭৪টি ভোট দানে বিরত ছিল ১৯ জন আর বিপক্ষে ভোট পড়েছে ২৩৫।

ডিউ ডিলিজেন্স আইনে বলা হয়েছে, দেশে-বিদেশে ইইউর যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করবে এবং যাদের বার্ষিক বিক্রি ন্যূনতম ৪৫০ মিলিয়ন ইউরো ও কর্মী সংখ্যা ১০০০ এর উপরে তারা নতুন এই আইনের আওতায় পড়বে। সেসব করপোরেটদের নিশ্চিত করতে হবে শ্রমিক ও পরিবেশ নিরাপত্তা। নাহলে তাদের জরিমানা করা হবে।

বাংলাদেশের ইইউ ডেলিগেশন প্রধান চার্লস হোয়াইটলি এ বিষয়ে বলেন, ইউরোপের মালিকানাধীন কিংবা অন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠান যাদের ১০০০ এর ওপর কর্মী আছে এবং বার্ষিক বিক্রি ন্যূনতম ৪৫০ মিলিয়ন ইউরো তাদের সবাইকে যদি ইউরোপের বাজারে আগামীতে ব্যবসা করতে হয় তবে তাদের আগে কারখানায় শ্রমিকদের পরিবেশের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এখনই শ্রম ইস্যুতে উদ্বিগ্ন না হয়ে সরকার ও প্রতিষ্ঠান মালিকদের শ্রম পরিস্থিতি উন্নয়নে জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নে মনযোগী হবার আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে শিল্প কারখানায় পরিবেশগত ঝুঁকি এবং শ্রমিকদের সার্বিক অধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতি করেছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে যদি কোনো ইইউ প্রতিষ্ঠান দুটি বিষয় নিশ্চিত না করে, বার্ষিক মুনাফার ৫ শতাংশ জরিমানা গুনতে হবে তাদের।

নতুন আইনটি পাস হলেও এখন সদস্য রাষ্ট্রের সাথে আলোচনা শেষে আইনটি কার্যকর হতে আরও দুই বছর সময় লাগবে বলেও জানান চার্লস।