ঢাকারবিবার , ১৩ আগস্ট ২০২৩
  • অন্যান্য

যে কারণে যে করণে থাকছে না মাহমুদউল্লাহ

অনলাইন ডেস্ক
আগস্ট ১৩, ২০২৩ ১২:৪১ অপরাহ্ণ । ৯৫ জন
এশিয়া কাপের দল

অনেক জল ঘোলা হয়েছে। হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অবশেষে সব জল্পনা-কল্পানার অবসান। সাকিব আল হাসান ওয়ানডে দলের অধিনায়ক হওয়ার পর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলে থাকার যে গুঞ্জন ছিল তাও মিলিয়ে গেছে। গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়েছে এশিয়া কাপের দল। সেখানে রাখা হয়নি ৩৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার রিয়াদকে।  কেন রাখা হয়নি তাকে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ছিল নির্বাচকদের কাছে। কারণটা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু। জানিয়েছেন অধিনায়ক ও প্রধান কোচের সঙ্গে লম্বা আলোচনার পরই এই অলরাউন্ডারকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে প্রধান নির্বাচক বলেন, ‘মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে অনেক লম্বা আলোচনা হয়েছে প্রথম দিকে।

তারপর অনেক আলোচনা করার পর টিম ম্যানেজমেন্ট আমাদেরকে একটা পরিকল্পনা দেয়, সামনে কীভাবে কোন দেশের সঙ্গে খেলবে, কী পরিকল্পনা। ওই চিন্তা ভাবনা করেই কিন্তু রিয়াদকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনাকে আমরা মনে করেছি অবশ্যই এটা ভালো।

ওদের সঙ্গে যেহেতু হেড কোচের একটা পরিকল্পনা আছে টিম কীভাবে পরিচালনা করা হবে। সব আলোচনা হয়েছে, আমাদের অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’ আগে থেকেই বলা হচ্ছিল এশিয়া কাপেই মিলবে বিশ্বকাপ দলের ছায়া। গতকাল যে ১৭ সদস্যের দল ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে নতুন মুখ হিসেবে এসেছেন তরুণ ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম। এছাড়াও বাদ পড়ার কথা থাকলেও আফিফ হোসেন ধ্রুব ও ব্যাকআপ ওপেনার হিসেবে দলে আছেন নাঈম শেখ। তার মানে, তরুণদের নিয়েই ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই হিসেব করলে বিশ্বকাপ দলেও জায়গা হচ্ছে না মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। তবে এখনই বিশ্বকাপ স্কোয়াড নিয়ে কথা বলতে রাজি নয় প্রধান নির্বাচক। মিনহাজুল আবেদিন বলেন, ‘এখন বিশ্বকাপের দল না। এশিয়া কাপের দল। বিশ্বকাপের দল দেই তারপর আপনাদেরকে জানানো হবে। এখন এশিয়া কাপ নিয়ে আলোচনা করছি। এশিয়া কাপে টিম ম্যানেজমেন্ট আমাদেরকে একটা পরিকল্পনা দিয়েছে, অতিরিক্ত স্পিনার বা পেসার নিয়ে খেলা এ ধরনের ব্যাপার নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সিদ্ধান্তটা নেওয়া হয়।

রিয়াদ নেই মানে দলে ৭ নম্বরে দেখা যাবে নতুন কাউকেই। এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনাও কম হয়নি। আফিফকে চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তবে  শোনা যাচ্ছিল শেষ পর্যন্ত ৭ এ মিরাজের ওপরই আস্থা রাখা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচক জানালেনও তাই। তিনি বলেন, ‘এই ম্যানেজমেন্টের আন্ডারে মিরাজকেই সাতে কনসিডার করা হচ্ছিল কয়েকটা সিরিজে। মিরাজের ওপর আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। আট নম্বরে অতিরিক্ত পেসার বা স্পিনার যখন যেটা যে কন্ডিশনে দরকার হবে, ওভাবেই কিন্তু আগায়। টিম ম্যানেজমেন্টের অনেক পরিকল্পনা আছে, যেগুলো এখানে শেয়ার করতে পারি না। ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিয়েই দলটা তৈরি করা হয়েছে।

সম্ভাবনার কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত এশিয়া কাপ স্কোয়াডে জায়গা হয়নি প্রধান কোচের প্রিয় ক্রিকেটার সৌম্য সরকারের। এ নিয়ে নান্নু বলেন, ‘সৌম্য সরকারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে। ইমার্জিং কাপে আমরা দেখেছিলাম, কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটটা তার যথেষ্ট খারাপ গিয়েছে। এজন্য ফিরে আসতে পারে কি না। কিন্তু এশিয়া কাপে ওকে নিয়ে কোনো আলোচনাই করিনি।’ তবে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের অন্যতম সদস্য শামীম পাটোয়ারীকে রাখা হয়েছে ১৭ জনে। এ নিয়ে প্রধান নির্বাচক নিজের ব্যাখ্যায় বলে, ‘শামীম আমাদের এইচপিতে ছিল আন্ডার নাইন্টিন থেকে আসার পর। আমাদের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের ক্রিকেটার। মাঝখানে ২০২১ বিশ্বকাপের পর পারফরম্যান্স একটু বাজে ছিল। তারপর সেটা কাটিয়ে উঠেছে। যতগুলো সিরিজ গেছে, শেষ টি-টোয়েন্টিতেও যথেষ্ট ভালো খেলেছে। ওর অবশ্যই সামর্থ্য আছে ভালো ক্রিকেট খেলার। ওই আত্মবিশ্বাসেই আমরা ওকে নিয়ে এগোচ্ছি।

এছাড়াও ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্স করে আফগানিস্তান সিরিজে দলে ফিরেছিলেন ওপেনার নাঈম শেখ। কিন্তু  ব্যাট হাতে নিজের  যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পারেননি। দুই ম্যাচ খেলেই বাদ পড়েন দল থেকে। তবে এরপরও এশিয়া কাপ স্কোয়াডে তার ওপর  আস্থা রাখার কারণ হিসেবে নান্নু বলেন, ‘নাঈম শেখ ঘরোয়া ক্রিকেটে যথেষ্ট ভালো খেলেছে। ইমার্জিং কাপে খুব একটা ভালো করতে পারেনি কিন্তু স্থির থেকেছে। এর সঙ্গে যেহেতু আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে। এজন্য আমরা চিন্তা করেছি ওকে আরেকটু সুযোগ দেওয়া যায়।’