ঢাকাশনিবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • অন্যান্য

বিএনপি-আ’লীগের সংঘ’র্ষ : নিহতের পরিচয় নিয়ে টানাটানি

অনলাইন ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৩ ১২:৪৩ অপরাহ্ণ । ১১১ জন

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষের নিহত হয়েছেন জাহিদ হোসেন রুমন (১৬)। ঘটনার পর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিএনপির পাঁচ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত জাহিদকে ছাত্রলীগ নিজেদের কর্মী বলে দাবি করলেও তার পরিবার ও বিএনপি বলছে ভিন্ন কথা।

শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার আজমপুর বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষে জাহিদ নিহত হন। সংঘর্ষের জেরে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত জাহিদের মামা ইউনুস নবী প্রকাশ বলেন, ‘আমার ভাগিনা কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। তিন ভাইয়ের মধ্যে সে দ্বিতীয়। বাবার মৃত্যুর পর মা ও তারা তিন ভাই উপজেলার আজমপুর এলাকায় নানার বাড়িতে থাকত। সে আজমপুর বাজারে দিনে একটি চায়ের দোকানে ও রাতে মাছের ট্রাকের ড্রামে পানি তোলার কাজ করত। দু’দলের মারামারিতে মারা গেছে ছেলেটা।’

নিহত জাহিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। ছাত্রলীগের দাবি তিনি ছাত্রলীগের কর্মী। অন্যদিকে, বিএনপির দাবি তিনি কোনো রাজনীতির সাথে জড়িত নয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মাসুদ করিম রানা নিহত জাহিদকে ছাত্রলীগের কর্মী দাবি করে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা রুমনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। তাকে পিটিয়ে পুকুরের ফেলে দেয়া হয়। রুমন ওসমাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।

তিনি আরো বলেন, ‘নিহত জাহিদ কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয়। আওয়ামী লীগের লোকজন লাশ নিয়ে অপরাজনীতি করছে।’

নিহত জাহিদের মামা ইউনুছ নবী প্রকাশ আরো বলেন, ‘আমার ভাগিনা নানার বাড়িতে থেকে ক্লাস সেভেন পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। এরপর আর পড়াশোনা করেনি। শুক্রবার দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় তাকে মেরে পানিতে ফেলে দেয়।’

জাহিদ কোনো দলের রাজনীতির সাথে জড়িত কি-না তা তিনি সঠিক জানেন না বলেও জানান।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ডাক্তার খোন্দকার নোমান সায়েরী বলেন, আহত পাঁচজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। জাহিদ হোসেন রুমন (১৬) নামের একজনকে মৃত অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। তার মাথায় রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং পানিতে ডুবে মারা গেছে বলে মনে হচ্ছে। আহতদের মধ্যে হাসান নামের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে চমেকে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মনিরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষে একজন নিহত ও একাধিক আহত হয়েছে। হামলার সাথে জড়িত সন্দেহে বিএনপির পাঁচজন নেতা-কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ওই এলাকায় অভিযান চলছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নুরুল আমিন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে স্থানীয় আজমপুর বাজারে অবস্থান করেন। এ সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের কয়েকজন কর্মী তাদের পথরোধ করে দাঁড়ায়। পরে উভয়পক্ষের সংঘর্ষে লিপ্ত হলে আহত হয় বিএনপি, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কমপক্ষে ২০ নেতাকর্মী এবং নিহত হন জাহিদ।